৮৯ মিনিটে তৃষ্ণা রানীর শট বক্সের ভেতরে বিপানা স্নেহির হাতে লাগলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি কনিকা বর্মণ। তখনই উদযাপন শুরু করে দিয়েছিলেন বাংলাদেশের মেয়েরা। শটটা নেওয়ার আগেই সতীর্থদের এই উদযাপনে শামিল হননি একজন; জয়নব বিবি। স্পটকিক থেকে যে তাকেই নিতে হবে শটটি! প্রায় ছয় হাজার সমর্থকের চিৎকার, আর সতীর্থদের আগাম উদযাপন ততক্ষণে রূপ নিয়েছে হাজার টনি চাপে। শট নেওয়ার আগে রীতিমতো কাঁপছিলেন জয়নব। সতীর্থরা এগিয়ে গিয়ে তাকে অভয় দিলেন ঠিক। তবে চাপের কাছে ঠিকই ভেঙে পড়লেন এই ফরোয়ার্ড। স্পটকিক থেকে তার নেওয়া দুর্বল শট সহজেই ঠেকিয়ে দেন নেপালের গোলকিপার সুজাতা তামাং। তাতেই মুঠো গলে বেরিয়ে যায় সাফ নারী অনূর্ধ্ব-১৫ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা। গতকাল বাংলাদেশকে ১-১ গোলে রুখে দিয়ে প্রথমবারের মতো সাফের কোনো আসরের শিরোপা জিতেছে নেপাল।
নেপালের কাছে প্রথম দেখায় শেষ মুহূর্তে গোল খেয়ে হেরেছিল বাংলাদেশ। প্রাধান্য বিস্তার করে খেলেও কাক্সিক্ষত গোল মিলেনি। গতকাল তাই জয়ের বিকল্প ছিল না। কাক্সিক্ষত জয়ের লক্ষ্যে শুরু থেকেই নেপালের রক্ষণে ঝাঁপিয়েছিল বাংলাদেশ। ম্যাচের বেশিরভাগ সময় নেপালকে ব্যস্ত থাকতে হয়েছে বাংলাদেশের আক্রমণ সামলাতে। তবে আধিপত্য থাকলেও অ্যাটাকিং থার্ডে বারবারই খেই হারাতে দেখা গেছে স্বাগতিকদের। ভুটানের বিপক্ষে ২ ম্যাচে ৯ গোল করা সুরভী আখন্দ প্রীতিকে বোতলবন্দি করে রেখেছিলেন নেপালের তিন ডিফেন্ডার। বারবার বক্সের মাঝদিক দিয়ে আক্রমণে উঠতে চেয়েও পারেনি বাংলাদেশ। উল্টো ম্যাচের ১৪ মিনিটে ধারার বিপরীতে গোল তুলে নেয় নেপাল। সমিক্ষা মাগার ডিফেন্ডার অন্যন্যা মুর্মু বিথিকে কাটিয়ে বাই লাইনের একটু ওপর থেকে কাটব্যক বাড়ান। কানন রানী বাহাদুর তা ক্লিয়ার করতে গিয়ে তুলে দেন সুশিলার পায়ে। নেপালের এই ফরোয়ার্ডের দূরপাল্লার শট বাংলাদেশ কিপার সঙ্গীতা রানীর মাথার ওপর দিয়ে জালে জড়ায়। ৩৫ মিনিটে সমতায় ফেরার দারুণ সুযোগ হাতছাড়া করে বাংলাদেশ। বাঁ দিক দিয়ে সতীর্থের ক্রসে দূরের পোস্টে থাকা প্রীতি লাফিয়ে উঠেও মাথা ছোঁয়াতে পারেননি। বিরতি থেকে ফিরেই অবশ্য সমতায় ফিরেছিল বাংলাদেশ। জয়নব বিবির কর্নারে অধিনায়ক রুমা আক্তারের হেড নেপাল কিপার সুজাতা তামাংয়ের মাথার ওপর দিয়ে জালে যায়। তারপরও নির্ভার হওয়ার মতো খেলেনি বাংলাদেশ। গোলের জন্য মরিয়া আক্রমণ করলেও তাদের খেলায় ছিল না পরিকল্পনার ছাপ। তবে ৮৯ মিনিটে ভাগ্যের সহায়তায় মিলেছিল পেনাল্টির সুবর্ণ সুযোগ। সেই সুযোগ জয়নব বিবি কাজে লাগাতে না পারায় ২০০৭ সালের পর বাংলাদেশকে শিরোপা উৎসব করতে দেননি।
এই ক’মাস আগেই নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে স্বাগতিকদের হারিয়ে সিনিয়র সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ। সেই হারের প্রতিশোধটা ঢাকায় এসেই নিল নেপাল।
