ক্রেডিট কার্ড ও বিকাশ প্রতারণায় ইউপি চেয়ারম্যান

আপডেট : ১২ নভেম্বর ২০২২, ০১:১৭ এএম

আর্থিক প্রতিষ্ঠান লংকা বাংলার ক্রেডিট কার্ড থেকে ২ লাখ ১০ হাজার টাকা খুইয়ে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর তেজগাঁও থানায় অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন জাহিদুর রহমান আকন্দ। এজাহারে উল্লেখ করেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি তার মোবাইল ফোনে লংকা বাংলার কল সেন্টারের প্রতিনিধি পরিচয়ে কল করেন এক ব্যক্তি। তিনি জাহিদুরের ক্রেডিট কার্ডটির পাসওয়ার্ড আপডেটের কথা বলেন। এ সময় তার কাছ থেকে কৌশলে বিভিন্ন তথ্য বাগিয়ে নেন ওই ব্যক্তি। পরে সাতবার ট্রানজেকশনের মাধ্যমে জাহিদুরের ক্রেডিট কার্ড থেকে ২ লাখ ১০ হাজার টাকা সরিয়ে নেওয়া হয়।

এমন বহু ভুক্তভোগী প্রায়ই থানায় অভিযোগ করছেন। জালিয়াতির মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড ও মোবাইল ব্যাংকিং সেবা বিকাশ প্রতারণার ঘটনা নতুন নয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তারও হচ্ছে এসব চক্রের সদস্যরা। তবে এবার ক্রেডিট কার্ড প্রতারণায় উঠে এসেছে এক জনপ্রতিনিধির নাম। তিনি হলেন ফরিদপুরের ভাঙ্গার কালামৃধা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রেজাউল মাতুব্বর। প্রতারণায় সম্পৃক্ত থাকার তথ্য-প্রমাণ পাওয়ার পর তাকে গ্রেপ্তারে মাঠে নেমেছে একটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গোয়েন্দা শাখা।

তদন্তসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, জাহিদুর রহমান ছাড়াও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড থেকে প্রতারণার মাধ্যমে ৩০ হাজার টাকা খুইয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর রমনা মডেল থানায় মামলা করেন মোহাম্মদ হাসানুজ্জামান নামে এক ব্যক্তি। আবু বক্কর সিদ্দিকী নামে আরেক ব্যক্তি এসআইবিএল ব্যাংকের ক্রেডিক কার্ড প্রতারণার শিকার হয়ে গত ১৮ মে রাজধানীর ডেমরা থানায় মামলা করেন। তার কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া হয় ১০ হাজার টাকা। এ ছাড়া বিকাশ প্রতারক চক্রের ফাঁদে পড়ে ২৫ হাজার টাকা খুইয়ে সুমাইয়া বিনতে আবদুর রব নামে আরেক ভুক্তভোগী গত ২৭ এপ্রিল রাজধানীর কদমতলী থানায় অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। বিকাশ প্রতারকদের ফাঁদে পা দিয়ে ৬১ হাজার ৭০০ টাকা খুইয়ে গত ১০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন জাহিদ হোসেন নামে আরেক ব্যক্তি।

এসব অভিযোগের তদন্তে নেমে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানতে পারেন, রেজাউল মাতুব্বরের প্রত্যক্ষ মদদে তার বন্ধু দিদার মুন্সী এ ক্রেডিট কার্ড প্রতারণা চক্রের হোতা। কালামৃধা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রেজাউল মাতুব্বরের বিরুদ্ধে একটি মাদক মামলা এবং চারটি প্রতারণা মামলা রয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে রেজাউল মাতুব্বরের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও বন্ধ পাওয়া যায়।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের আশরাফ উল্লাহ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বেশ কিছু অভিযোগের ভিত্তিতে অনুসন্ধানে নেমে এ প্রতারক চক্রের হোতাদের তথ্য পেয়েছি। যেকোনো সময় তাদের গ্রেপ্তার করা হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত