রুশ সেনা প্রত্যাহার খেরসনে আবার ইউক্রেনের পতাকা

আপডেট : ১২ নভেম্বর ২০২২, ০১:১৭ এএম

ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় খেরসন শহর থেকে রুশ সৈন্যদের প্রত্যাহার সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল শুক্রবার মস্কো এক বিবৃতিতে বলেছে, তাদের সব সৈন্যকে দিনিপার নদীর পূর্ব তীরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং কোনো অস্ত্র বা সামরিক সরঞ্জাম পেছনে ফেলে আসা হয়নি। ফেব্রুয়ারি মাসে ইউক্রেনে রুশ অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে এই শহরই ছিল একমাত্র আঞ্চলিক রাজধানী, যা রাশিয়া দখল করে নিয়েছিল।

এদিকে রাশিয়া তাদের সেনা সরিয়ে নেওয়া শেষের ঘোষণা দেওয়ার পর খেরসনের আঞ্চলিক প্রশাসনিক ভবনে ইউক্রেনের পতাকা ওড়ানো হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খেরসন থেকে অনেক ছবি আসছে। তাতে বাসিন্দাদের পতাকা তুলে জয় উদযাপন করতে দেখা যাচ্ছে। একটি ছবিতে ছোট্ট একটি মেয়েকে ইউক্রেনের পতাকা হাতে ধরে থাকতে দেখা গেছে।

ইউক্রেনের নিউজ কোম্পানি ইউনিয়ন টেলিগ্রামে একটি ছবি পোস্ট করে ক্যাপশনে লিখেছে, মানুষজন আমাদের রক্ষাকর্তাদের জন্য অপেক্ষা করছে। ইউক্রেনের পতাকা ইতিমধ্যেই উড়ছে খেরসনের আঞ্চলিক রাজ্য প্রশাসন ভবনে।

বিবিসি জানায়, খেরসন থেকে পাওয়া ছবিতে দেখা গেছে, আন্তনিভস্কি ব্রিজ নামে যে সেতুটি রুশ সৈন্যরা প্রত্যাহারের জন্য ব্যবহার করেছে সেটা এখন ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। এটা কীভাবে ঘটল তা স্পষ্ট নয়, তবে কিছু রুশ সূত্র বলেছে, সেনা প্রত্যাহার শেষ হওয়ার পর রুশরাই এটা ধ্বংস করে দিয়েছে।

বিবিসি বলেছে, এই সেনা প্রত্যাহার রাশিয়া এবং ভøাদিমির পুতিনের জন্য একটি বড় আঘাত এবং ইউক্রেনের জন্য এক বড় বিজয়। তবে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বিবিসির এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, খেরসন থেকে রুশ সৈন্যদের হটে যাওয়াটা প্রেসিডেন্ট পুতিনের জন্য অপমানজনক কিছু নয়।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় গতকাল জানিয়েছে, সব রুশ সেনাই এদিন সকালে দিনিপার নদীর পূর্বতীরের দিকে সরে গেছে। নদীর ওইপাশে থাকা সব সামরিক সরঞ্জাম এবং সেনাকেই দিনিপার নদীর পূর্বপ্রান্তে খেরসনের বাকি এলাকার প্রতিরক্ষার জন্য মোতায়েন করা হয়েছে। রুশ সেনারা সরে যাওয়ায় খেরসনের পশ্চিমাঞ্চল বা প্রায় ২০ শতাংশ এলাকা দখলমুক্ত হয়েছে।

তবে খেরসন এখন আদতেই কার নিয়ন্ত্রণে সেটি এখনো স্পষ্ট না হলেও সেখানকার রাস্তায় রাস্তায় অধিবাসীদের মধ্যে যে আত্মবিশ্বাস দেখা যাচ্ছে, পতাকা ওড়ানো চলছে, তাতে বোঝা যাচ্ছে নগরীটিতে রুশ সেনাদের উপস্থিতি আর চোখে পড়ছে না।

রুশ সেনাদের এই প্রস্থানকে ‘গুরুত্বপূর্ণ জয়’ বলে প্রশংসা করেছে ইউক্রেন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, খেরসনের দিকে অগ্রাভিযানের সময় ইউক্রেনীয় বাহিনী অনেকগুলো শহর ও গ্রাম পুনর্দখল করেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত