নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় থানার সামনেই এশিয়ান টেলিভিশনের ফতুল্লা প্রতিনিধি বদিউজ্জামানকে মারধর ও হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল শনিবার বিকেলে ফতুল্লা মডেল থানার মূল ফটকের সামনে এ ঘটনা ঘটে। হামলার শিকার ওই সাংবাদিক ফতুল্লা মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
এদিকে রাজধানীর উত্তরায় হামলার শিকার হয়েছেন আজকের পত্রিকার সাংবাদিক নুরুল আমিন হাসান। উত্তরার ১২ নম্বর সেক্টরসংলগ্ন খালপাড় এলাকায় গত শুক্রবার রাত ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে দুই দফায় তার ওপর হামলা হয়। তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নারায়ণগঞ্জে হামলার শিকার বদিউজ্জামান থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে বলেছেন, থানাসংলগ্ন কম্পিউটারের দোকানের সামনে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে পেশাগত কাজে বাধা দেয় সন্ত্রাসী জাকির, জালাল, আলমগীরসহ তাদের বাহিনীর সদস্যরা। একপর্যায়ে কিছু বুঝে ওঠার আগেই জাকির সাংবাদিক বদিউজ্জামানের শার্টেল কলার চেপে ধরে এলোপাতাড়ি চড়, কিল, ঘুষি ও লাথি মেরে আহত করে। এ ছাড়া তার হাতে থাকা মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে মাটিতে ফেলে ডিসপ্লে নষ্ট করে দেয়। এরপর তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
এ ব্যাপারে জানতে চইলে ফতুল্লা মডেল থানার ওসি রিজাউল হক দিপু বলেন, ‘আমরা বিষয়টা দেখছি, তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’
উত্তরায় আজকের পত্রিকার সাংবাদিকের ওপর হামলা : রাজধানীর উত্তরায় হামলার শিকার হওয়ার পর সাংবাদিক নুরুল আমিন হাসানকে সেখান থেকে উদ্ধার করে গাজীপুরের টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ্ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সাংবাদিক হাসান বলেন, ‘উত্তরা প্রেস ক্লাবের প্রাঙ্গণে যাওয়ার পরই পরিস্থিতি ঘোলাটে দেখতে পাই। তখন বারবার আমি চলে আসার চেষ্টা করি। কিন্তু তাসলিমা তমা, মিরাজ শিকদারসহ ওদের সহযোগীরা বারবার বাধা দেয়। একপর্যয়ে আমার ওপর প্রথমে তুরাগের মিরাজ শিকদার ও দলিপাড়ার রাসেল খান হামলা চালায়। তখন আমি প্রেস ক্লাবে আশ্রয় চাই। সেই সঙ্গে আমাকে উদ্ধারের জন্য র্যাব-পুলিশের কাছে সহযোগিতা চাই। কিন্তু পুলিশ আসার আগেই ক্লাবের ভেতরে ঢুকে দ্বিতীয় দফায় তাসলিমা তমা সহযোগীরা আমার ওপর আবার হামলা চালায়। একপর্যায়ে বিডিআর রবিউল ইসলাম রাজু আমাকে ধরে মাথা নিয়ে করে রাখে এবং পেছন থেকে কয়েকজন এলোপাতাড়ি মারধর করে।’
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তুরাগ থানার ওসি মওদুদ হাওলাদার বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে সাংবাদিক হাসানকে উদ্ধার করে। এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাই নাই। অভিযোগ দিলে মামলা হবে।’
