হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিনে

আপডেট : ১৩ নভেম্বর ২০২২, ০২:১৩ এএম

কিংবদন্তি কথাসাহিত্যিক, চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন নাটকের নন্দিত নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদের আজ জন্মদিন। মৃত্যুর এতদিন পরও তিনি ভক্তদের মনে জীবন্ত। আর জন্মদিন এলে তো নানা আয়োজনে তাকে স্মরণ করা হয়।

হুমায়ূন মেলা

প্রতিবারের মতো এবারও চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে হচ্ছে হুমায়ূন মেলা। উন্মুক্ত মঞ্চ থেকে পরিবেশিত হবে হুমায়ুন আহমেদের লেখা ও পছন্দের চলচ্চিত্রের ও নাটকের গান। তারকা শিল্পীদের পরিবেশনের পাশাপাশি গানগুলো পরিবেশন করবেন চ্যানেল আই সেরাকণ্ঠ, খুদে গানরাজ এবং বাংলার গানের শিল্পীরা। আরও থাকবে চ্যানেল আই সেরা নাচিয়েদের নাচ। থাকবে কবিতা আবৃত্তি এবং স্মৃতিকথা। এছাড়া চ্যানেলটিতে সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে স্টুডিও থেকে সরাসরি প্রচার হবে গান দিয়ে শুরু, তৃতীয় মাত্রার বিশেষ পর্ব, বিকেল ৩টা ০৫ মিনিটে প্রচার হবে চলচ্চিত্র ‘চন্দ্রকথা’ এবং রাত ৭টা ৩০ মিনিটে প্রচার হবে নাটক ‘হাবলঙ্গের বাজারে’। এই সাহিত্যিকের জন্মদিন উপলক্ষে চ্যানেল আই মাসব্যাপী প্রচার করছে তারই লেখা ও নির্মাণে নাটক, টেলিফিল্ম এবং চলচ্চিত্র।

দিন প্রতিদিনে

বাংলাভিশনের সকালবেলার নিয়মিত আয়োজন ‘দিন প্রতিদিন’-এ হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিনের বিশেষ পর্বে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অভিনেতা ফারুক আহমেদ। হুমায়ূন আহমেদের সঙ্গে তার পরিচয়, কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন তিনি। এছাড়াও বাংলা নাটক, চলচ্চিত্র নিয়ে হুমায়ূন আহমেদের ভাবনা, দৃষ্টিভঙ্গি ও কী স্বপ্ন দেখতেন সেসব নিয়েও কথা বলেন এই গুণী অভিনেতা। আফিয়া বৃষ্টির প্রযোজনায় অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেছেন শারমিন সুমি। অনুষ্ঠানটি বাংলাভিশনের পর্দায় প্রচারিত হবে আজ সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে।

সিনেমার গানের বিশেষ পর্ব

হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিনে ‘সিনেমার গান’-এর বিশেষ পর্ব বাংলাভিশনে প্রচারিত হবে ১৩ নভেম্বর, রবিবার বেলা ১টা ৩০মিনিটে। এই অনুষ্ঠানে জনপ্রিয়তম চলচ্চিত্র নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদ পরিচালিত চলচ্চিত্রের কয়েকটি গান প্রচার করা হবে।

নূহাশ পল্লীর আয়োজন

প্রতি বছর হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিন উদযাপন করা হয় তার নিজের হাতে গড়া স্মৃতিবিজড়িত নূহাশ পল্লীতে। এবারের অনুষ্ঠানটি হয়েছে জন্মদিনের প্রথম লগ্ন অর্থাৎ ১৩ নভেম্বর রাত ১২টা ১ মিনিটে। সেখানে হুমায়ূন পরিবারের সদস্যরা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন শিল্প-সাহিত্যের গুণী ব্যক্তি ও ভক্তরা।

স্বামীর মৃত্যুর পর অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন বরাবরই বলে আসছেন, হুমায়ূন আহমেদ জাদুঘর ও একটি চিকিৎসা কেন্দ্র গড়ে তোলার কথা। এ ব্যাপারে তিনি বা তার পরিবার এককভাবে সবকিছু করতে অসমর্থ। তাই বরাবরই কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। শুধু তাই নয়, হুমায়ূন আহমেদের সৃষ্টি যাতে তার ভক্তদের মধ্যে নিজস্ব আবেদনে প্রতিষ্ঠিত হয়, সেজন্য গড়ে তোলা হয়েছে হুমায়ূন আহমেদ ট্রাস্ট বোর্ড। এর অন্যতম সদস্য ও লেখকের স্ত্রী অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘একজন শিল্পী তিনি লেখক, কবি বা চিত্রশিল্পী যেই হোন না কেন, তার শিল্পকর্ম যেহেতু একটা ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি, তাই তার একটি ভ্যালু থাকে। সেই ভ্যালুটা হয় শিল্পী নিজে তৈরি করেন আর তিনি না থাকলে তার উত্তরাধিকারীরা ঠিক করেন। সে ক্ষেত্রে হুমায়ূন আহমেদের পরিবারের সবাই মিলে আমরা একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

তার সাহিত্য নিয়ে অনেকেই ফিকশন তৈরি করতে চান। এ প্রসঙ্গে শাওন বলেন, ‘হুমায়ূন আহমেদের গল্পটা তো এক্সক্লুসিভ। কারণ হুমায়ূন আহমেদের গল্প নিয়ে মানুষের এখনো এত আগ্রহ। তাই হুমায়ূন আহমেদের পরিবার হিসেবে আমাদেরও তো একটা এক্সপেকটেশন আছে। তার এত ভালো ভালো গল্প নির্মাণের ক্ষেত্রে কেউ যদি অল্প বাজেটে করতে চান, সেটা আমাদের কাছে সম্মানজনক মনে হবে না। তাই ইন্টারন্যাশনাল কপিরাইটের যে নিয়ম, আমরা সেটাই অনুসরণ করতে বলব, যারা কাজ করতে চান। কিশোর কুমার মারা গেছেন বহু আগে। কিন্তু তার গান থেকে এখনো তার পরিবার রয়্যালিটি পায়। যেভাবে হুমায়ূন আহমেদের কোনো বই নতুন করে ছাপা হলে আমরা রয়্যালিটি পাই। কিন্তু এই চর্চা আমাদের দেশে শুরু হয়নি, সবাই করে না, অনেকে এ ব্যাপারে জানেই না। যিনি শিল্পী, যিনি শিল্পকর্ম সৃষ্টি করেছেন, তার দিকটাও তো দেখতে হবে। হুমায়ূন আহমেদের মতো একজন এক্সক্লুসিভ রাইটারের একটি গল্প আমি নেব, তখন তো অবশ্যই তার মূল্যমান দিতে হবে। এজন্য আমরা বলেছি, দেশে নয়, কিন্তু বিদেশের কোনো বড় প্ল্যাটফর্মে সিনেমাটি প্রদর্শিত হলে সেখান থেকে আমাদের রয়্যালিটি দিতে হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত