এখন আর লুকাতে চাই না। আমি মানুষটা একাকিত্বকে মৃত্যুর মতো ভয় পাই মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
‘আমি ঘুমাবার চেষ্টা করছি; কিন্তু আমার চোখের পাশ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ছে। আমি কাত হয়ে শুয়ে, যাতে তিশা টের না পায়। ও আমার মেয়েকে ছড়া শোনাচ্ছে।’ এ ছাড়াও সহজেই স্বীকারোক্তি দিলেন, ‘আমি মানুষটা একাকিত্বকে মৃত্যুর মতো ভয় পাই। সহকর্মীদের কৃতজ্ঞতায় আবেগেই ভেসেছেন দেশের শীর্ষ সারির নির্মাতা। নিজের ফেইসবুক হ্যান্ডেলে এমনটাই জানালেন মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। মূলত ‘শনিবার বিকেল’ সিনেমা মুক্তির দাবি জোরালো হচ্ছে, আর দাবির যে মিছিল তার অগ্রভাগে রয়েছেন সহকর্মীরা। নিজের লুকানো অভিমানের কথা বলতে গিয়ে ফারুকী বলেন, ‘‘এখন আর লুকাতে চাই না। আমি মানুষটা একাকিত্বকে মৃত্যুর মতো ভয় পাই। গত তিন বছর আমার প্রচ- অভিমান হয়েছিল আমার সহযোদ্ধাদের ওপর, বাংলাদেশের ওপর। ‘শনিবার বিকেল’কে কেন্দ্র করে আমার ওপর যে অন্যায় করা হচ্ছিল তা কেবল আমাকে এবং আমার বউকেই একা একা বইতে হচ্ছে ভেবে কত রাত যে মনে মনে অভিমানে দেশ ছেড়ে চলে গেছি তার ইয়ত্তা নেই। কত রাত যে ঘুমাতে পারিনি, হিসাব নেই।” গত রাতে আবেগে চোখের জল ঝরেছে। টের পেতে দেননি স্ত্রীকেও। ফারুকী বলেন, “কালকে রাতেও আমি ঘুমাতে পারিনি। তবে কষ্টে না, কৃতজ্ঞতার আনন্দে। মানুষের হৃদয়ের জন্য কৃতজ্ঞতার চেয়ে ভালো কোনো ওষুধ আজও আবিষ্কার হয়নি। কাল রাত সিডনি সময় ৩টায় যখন ঘুমাতে যাই তখনো বাচ্চু ভাই, পিপলু ভাই, অমিতাভ, জুলহাজরা হয়তো আমাদের বন্ধুদের ফোন দিয়ে যাচ্ছে ‘শনিবার বিকেল’ মুক্তির দাবিতে বিবৃতিতে নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য। আর আমি ঘুমাবার চেষ্টা করছি। কিন্তু আমার চোখের পাশ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ছে। আমি কাত হয়ে শুয়ে, যাতে তিশা টের না পায়। ও আমার মেয়েকে ছড়া শোনাচ্ছে।”
‘শনিবার বিকেল’ সিনেমা মুক্তির প্রক্রিয়া সম্পর্কে বলতে গিয়ে নির্মাতা বললেন, “সব সময় তো এ রকম হয় না যে আমরা আমাদের জড়তাকে ঠেলে একটা কোনো উদ্যোগ নিতে পারি, এক সঙ্গে। সেই হিসেবে আজকের দিনটা আমাদের দেশের শিল্পীদের জন্য একটা মনে রাখার মতো দিন। ‘শনিবার বিকেল’ মুক্তির দাবিতে ১৩০ জন শিল্পী একটা বিবৃতি দিয়েছেন, যেটা হয়তো কাল পত্রিকায় দেখবেন সবাই। আপনি যদি নামের লিস্ট দেখেন, তাহলে বুঝবেন কেন এটা আমাদের জন্য, আমাদের পরের জেনারেশনের জন্য একটা বিশেষ মানে বহন করে।”
ফারুকী বলেন, ‘এখানে এমন মানুষেরা আছেন যাদের আপনি নিয়মিত বিবৃতিতে খুঁজে পাবেন না। এখানে মূলধারা-বিকল্প ধারা-নতুন ধারা-পুরাতন ধারা নানা মত-পথের মানুষ আছেন। আমাদের মত ভিন্ন হতে পারে, পথ ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু শিল্পীর স্বাধীনতার প্রশ্নে আমরা এক। আমাদের ভবিষ্যতের প্রশ্নে আমরা এক। এখন আমরা জানি, আমরা যখন এক হয়েছি, আর কোনো কিছুই আমাদের দাবায়ে রাখতে পারবে না।’
কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বললেন, “বিশ্বাস করি, আপিল কমিটি আগামী পরশু যে সভায় বসবে সেখানে তাদের সুবিবেচনার পরিচয় দেবে। এবং দ্রুত ‘শনিবার বিকেল’ দর্শকদের কাছে যেতে পারবে। আমি আমার কলিগদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।”
