প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হকের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছে বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষ। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার প্রাঙ্গণে হাসান আজিজুল হকের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। এর আগে সকালে রাবির কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে হাসান আজিজুল হকের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে মেয়র লিটন সাংবাদিকদের বলেন, ‘উপমহাদেশের প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক স্যারের চেতনার যে ব্যাপ্তি, যে দার্শনিক চিন্তা-চেতনা, তিনি আসলে দেশ-জাতির সীমানা পার হয়ে অনেক গভীরে ভাবতে পারতেন এবং লিখতে পারতেন।
এ সময় রাবি উপাচার্য প্রফেসর গোলাম সাব্বির সাত্তার, ছাত্র উপদেষ্টা তারেক নূর, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
পরে দুপুরে স্মরণসভার আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাবি উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার বলেন, ‘স্যার যে পুরস্কারের জন্য লেখতেন না, তা তার পুরস্কার প্রাপ্তি থেকে বুঝতে পারলাম। কত পুরস্কার তিনি পেয়েছেন। তিনি সবসময় মানুষের জন্যই লিখতেন। তিনি জীবনসংলগ্ন মানুষ ছিলেন। সবসময় তিনি উজানেই নৌকা ভাসাতে চেয়েছেন। যত কিছু প্রতিকূলতার বিরুদ্ধেই তিনি থাকতেন। হাসান আজিজুল হক কথাসাহিত্যে তার নিজস্ব ভুবন তৈরি করেছিলেন। তার অসামান্য ভাষাভঙ্গি, অশ্রুতপূর্ব সংলাপ, অনাস্বাদিত চরিত্র নির্মাণ ও আনন্দ গল্প বলার যে ধরন, তা গত ৫০ বছর ধরে বাংলা সাহিত্যের পাঠককে মুগ্ধ করে রেখেছে।’
গুণী এ লেখক একুশ পদক পান ১৯৯৯ সালে। এ ছাড়া তিনি পেয়েছেন বাংলা একাডেমি ও স্বাধীনতা পুরস্কার। তাকে ডি-লিট পুরস্কার দেয় আসাম ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।
