বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কারও নাম উল্লেখ না করে বলেছেন, ‘কে কোথায় কী বলল না বলল, তাতে কান দেওয়ার দরকার নেই। কে খেলা বলছে না কী বলছে, বলতে দিন। কারও সঙ্গে আপস না করে আমরা আমাদের মতো অটল থাকব। আমরা যে আন্দোলনে আছি তাতে আমাদের বিজয়ী হতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই।’ গতকাল বুধবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ৪৬তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপির উদ্যোগে ভাসানীর মৃত্যুবার্ষিকী পালনে জাতীয় কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বেশ কয়েক দিন ধরেই বিভিন্ন জনসভা এবং জাতীয় সংসদে দেওয়া বক্তব্যে বলে আসছেন ‘খেলা হবে’।
ভাসানীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপি দুদিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল। এর অংশ হিসেবে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আজ বৃহস্পতিবার বিএনপি নেতারা রাজধানী ঢাকা থেকে টাঙ্গাইলের সন্তোষে ভাসানীর মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে যাবেন। এছাড়া দিনটি উপলক্ষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গণমাধ্যমে বাণী দিয়েছেন।
আলোচনা সভায় মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বিএনপি বিভাগীয় শহরে সমাবেশ করছে। সমাবেশে সাধারণ মানুষ যোগ দিচ্ছেন, চিঁড়া-মুড়ি-গুড় নিয়ে খোলা আকাশের নিচে থাকছেন। এটা একটা অভূতপূর্ব ব্যাপার। আমরা যদি এটাকে সঠিকভাবে ধারণ করে সঠিক লক্ষ্যে নিয়ে যেতে পারি বাংলাদেশের মানুষের মুক্তির জন্য, তাহলে সফল হবে।’
বিএনপির সমাবেশ ঘিরে দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে পুলিশ কর্তৃক মামলা দায়ের ও নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এরা কত কাপুরুষ। প্রতিটা সমাবেশ হচ্ছে শান্তিপূর্ণ। কোথাও সমস্যা হচ্ছে না। এর মধ্যেও তারা নতুন করে আমাদের ৫শ’র বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করেছে, মিথ্যা মামলা, গায়েবি মামলা দিচ্ছে। এসব করে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে রোখা যাবে না। ১৫ বছর ধরে ৩৫ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে। খালেদা জিয়া আজ কারাবন্দি। বহু মানুষ গুম করেছে কিন্তু রোখা যায়নি। মানুষ আগ্নেয়গিরির মতো ফুঁসে উঠছে এবং উঠবে। এর মাধ্যমেই এ সরকারের পতন হবে এবং জনগণের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হবে।’
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও বক্তব্য দেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, শামসুজ্জামান দুদু, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আব্দুস সালাম, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ প্রমুখ।
