নারীর প্রতি যেসব সহিংসতা হয় তার মধ্যে ধর্ষণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা বেশি হচ্ছে বলে মনে করে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। ‘বাংলাদেশে নারী ও কন্যা নির্যাতন চিত্র ২০২১ ধর্ষণ, দলবদ্ধ ধর্ষণ, ধর্ষণের চেষ্টা, যৌন হয়রানি ও যৌতুক’ শীর্ষক সমীক্ষায় এ তথ্য উঠে এসেছে। গতকাল বুধবার কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে সমীক্ষা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম।
সমীক্ষায় প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা যায়, ২০২১ সালে ধর্ষণের ৮১০টি, সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ২২৫টি, ধর্ষণের চেষ্টা ১৯২টি, উত্ত্যক্তকরণ ও যৌন হয়রানি ৯৬টি ও যৌতুকের ১১৪টি ঘটনা ঘটেছে। বিগত বছরগুলোর মতো ওই বছরও ধর্ষণের শিকার নারী ও কন্যার সংখ্যা বেশি। নারীদের তুলনায় কন্যারা ধর্ষণের শিকার হয়েছে বেশি। মেয়েদের মধ্যে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে বেশি। ধর্ষণের ক্ষেত্রে এ হার ৪৫ শতাংশ, সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ক্ষেত্রে ৫২ শতাংশ এবং উত্ত্যক্তের ক্ষেত্রে ৬৭ শতাংশ।
কর্মজীবী নারীদের তুলনায় গৃহিণীরাই বেশি নির্যাতনের শিকার হচ্ছে বলে জানানো হয় সমীক্ষায়। সমীক্ষায় দেখা যায়, শিশুরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পরিচিত মানুষ, বিশেষ করে নিকটাত্মীয় ও প্রতিবেশীদের দ্বারা নির্যাতনের শিকার হয়। এ ক্ষেত্রে লক্ষণীয় যে, ধর্ষণের ক্ষেত্রে তরুণদের সম্পৃক্ততা বেশি। সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, নারীরা নিজ গৃহে সবচেয়ে বেশি অনিরাপদ এবং ঝুঁকির মধ্যে থাকে। নারী ও কন্যার প্রতি সহিংসতার মূল কারণ নারীর প্রতি অধস্তন মনোভাব ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ নানা ধরনের গবেষণা করে থাকে। তবে এটা ঠিক গবেষণা নয়, সমীক্ষা। সংবাদপত্রে প্রকাশিত সংবাদ থেকে এ গবেষণার তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এ গবেষণা থেকে নারীর প্রতি সহিংসতার ধরন (প্যাটার্ন) বা কোন ধরনের অপরাধ বেশি হয় তা বোঝার চেষ্টা করা হয়েছে।
তথ্য উপস্থাপন শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে ডা. ফওজিয়া মোসলেম জানান, একটা সময় পারিবারিক সহিংসতা বেশি ছিল কিন্তু এখন ধর্ষণ, সংঘবদ্ধ ধর্ষণ বেড়েছে। এর থেকে বোঝা যাচ্ছে, সামাজিক পরিসরে নারী বেশি সহিংসতার শিকার হচ্ছে এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে মেয়েরা এবং অভিযুক্ত ব্যক্তি তরুণ। তরুণরা এর বাইরেও নানা ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।
সমীক্ষার তথ্য উপস্থাপন করেন গবেষণা কর্মকর্তা আফরুজা আরমান। সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করেন প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও পাঠাগার সম্পাদক রীনা আহমেদ। সভায় বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সীমা মোসলেম ও অ্যাডভোকেট মাসুদা রেহানা বেগম উপস্থিত ছিলেন।
