দুজনের সম্পর্কটা অনেক দিনের। লিওনেল মেসির টানেই বার্সেলোনায় এসেছিলেন নেইমার। এরপর ঠিকানা বদলে প্যারিস সেন্ট জার্মেইতে যাওয়ার পরও মেসির জন্য মন কাঁদত নেইমারের। এখন দুজন আবার মিলেছেন প্যারিসে। তবে বিশ্বকাপের মঞ্চে বন্ধুত্বের বাড়তি খাতির নেই! মেসিকে হারিয়েই শিরোপা জয়ের কথা ক্লাব সতীর্থকে জানিয়ে রেখেছেন ব্রাজিলের নেইমার।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক পোশাক প্রস্তুতকারী সংস্থা ‘সুপার ড্রাই’-এর অন্তর্বাসের মডেল নেইমার। একটা সময় জনপ্রিয় ফুটবলার ডেভিড বেকহ্যাম ছিলেন এই পণ্যের মডেল। এই প্রতিষ্ঠানের একটি অনুষ্ঠানে এসে ব্রিটিশ দৈনিক টেলিগ্রাফকে একান্ত সাক্ষাৎকার দিয়েছেন নেইমার। সেখানেই জানিয়েছেন, ঠাট্টার ছলেই মেসিকে হারাবার হুমকি দিয়েছেন তিনি ‘সবারই বিশ্বকাপ নিয়ে অনেক প্রত্যাশা থাকে, দুশ্চিন্তা নয়। সবাই বিশ্বকাপে খেলতে চায়। আমরা (নেইমার এবং মেসি) বিশ্বকাপ নিয়ে খুব একটা কথাবার্তা বলি না, তবে মাঝেমধ্যে রসিকতা করি ফাইনালে দেখা হয়ে গেলে কী হবে এই নিয়ে। আমি তাকে বলি যে তোমাদের হারিয়ে আমরাই চ্যাম্পিয়ন হব এবং এটা বলে দুজনেই হাসতে থাকি।’
পিএসজিতে মেসি আর কিলিয়ান এমবাপ্পে, দুজনেই নেইমারের সতীর্থ এবং বিশ্বকাপের যেকোনো বাঁকে নেইমার মুখোমুখি হয়ে যেতে পারেন এই দুজনের যে কারও। মেসিকে হারানোর কথা বললেও তার প্রতি শ্রদ্ধা হারাচ্ছেন না নেইমার, ‘মেসি আর কিলিয়ানের (এমবাপ্পে) সঙ্গে একই দলে খেলতে পারাটা বিশাল ব্যাপার। দুজনেই দারুণ ফুটবলার, মেসি তো অনেক দিন ধরেই বিশ্বের সেরা হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছেন। কিলিয়ান তরুণ খেলোয়াড় যে এখনো বড় হয়ে উঠছে, ও নিজের সামর্থ্য দেখাচ্ছে, যদিও ওকে অনেক কিছুই শিখতে হবে। আমি সবসময়ই সেরাদের সঙ্গে একই দলে খেলতে চাই, এতে করে শিরোপার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।’
বিশ্বকাপ নিয়ে নেইমারের সাধারণ পর্যবেক্ষণ বলে, ‘বিশ্বকাপে সবসময় অনেক চমক থাকে। দেখা যাবে অনেক দল অপ্রত্যাশিত ভাবে এতটা দূর চলে গেছে যেটা তাদের নিয়ে কেউ ভাবেইনি। আমার কাছে ফেভারিট হলো আর্জেন্টিনা, জার্মানি, স্পেন আর ফ্রান্স। এই চার দলের সঙ্গে ব্রাজিল এই পাঁচ দলের প্রতিটির সামর্থ্য আছে ফাইনালে খেলার।’
মাইক্রোসফট টিমস (ভিডিও মিটিং সফটওয়্যার) দিয়ে পর্তুগিজ-ইংরেজি অনুবাদকের মাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিচ্ছিলেন নেইমার। সেখানেই জানিয়েছেন, বিশ্বকাপ না জিতলেও কোনো আক্ষেপ থাকবে না জীবনে ‘আক্ষেপ? একদমই হবে না। জীবনে এমন অনেক কিছুই পেয়েছি আমি যা কখনো কল্পনাও করিনি। আমার ক্যারিয়ার যদি এখানেই থেমে যায়, তবুও আমি হব বিশ্বের সবচেয়ে সুখী মানুষ।’
