তমব্রুতে হামলা

ডাকাত বলে চিৎকার সাইফুলের গুলি করে খালেদ

আপডেট : ১৯ নভেম্বর ২০২২, ০১:৫০ এএম

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের তমব্রু সীমান্তের শূন্যরেখায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অভিযানের সময় রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী সাইফুল ডাকাত ডাকাত বলে চিৎকার করে। এরপর প্রথমে গুলি চালায় খালেদ নামের আরেক রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী। পরে তার সঙ্গে অন্যরাও গুলি চালাতে শুরু করে। গুলি করতে করতে তারা ঘটনাস্থল থেকে দক্ষিণ দিকে চলে যায়। নাম, পরিচয় গোপন রাখার শর্তে এমন বর্ণনা দিয়েছেন ঘটনার এক প্রত্যক্ষদর্শী রোহিঙ্গা। গত ১৪ নভেম্বর তমব্রু সীমান্তের কোনারপাড়া এলাকার ওই রোহিঙ্গা ক্যাম্পের উত্তরপাড়ায় মাদক উদ্ধারের অভিযানে যায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পরে তারা ক্যাম্পে অস্ত্রগুদামের খোঁজ পায়। অস্ত্র উদ্ধার করতে গেলে হামলার শিকার হয়। সন্ত্রাসীদের গুলিতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন অভিযানকারী দলের এক সদস্য ও এক রোহিঙ্গা নারী। আহত হন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আরেক সদস্য ও আরও দুই-তিন রোহিঙ্গা।

প্রত্যক্ষদর্শী জানান, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ডাকাত ডাকাত চিৎকার শুনে তিনি ক্যাম্পের ঝুপড়িঘর থেকে বেরিয়ে দেখতে পান একটি ঘরের পাশে মো. জামান নামে এক ইয়াবা কারবারিকে ধরার চেষ্টা করছেন একদল লোক। কিন্তু তার আগেই তাদের ঘিরে ফেলে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীসহ সাধারণ রোহিঙ্গারা। তখন অভিযানকারী দল পরিচয়পত্র দেখালেও তাতে কর্ণপাত না করে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী গ্রুপের সদস্য সাইফুল ডাকাত, ডাকাত বলে চিৎকার করতে থাকে। তিনি জানান, প্রথম গুলি করা খালেদ ওই রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী গ্রুপের দ্বিতীয় প্রধান।

সেই দিনের ঘটনার বিষয়ে একই ধরনের তথ্য দিয়েছেন অভিযানে অংশ নেওয়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এক সদস্য ও রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কাজ করা একটি গোয়েন্দা সংস্থার কয়েকজন কর্মকর্তা। তবে এ ঘটনায় গতকাল পর্যন্ত মামলা হয়নি।

এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ওসি টান্টু সাহা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘১৪ নভেম্বর রাতের ঘটনার বিষয়ে আমরা এখনো কোনো এজাহার পাইনি। এজাহার পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

রোহিঙ্গাদের কর্মকাণ্ডের ওপর নজর রাখা একটি গোয়েন্দা সংস্থার এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘শূন্যরেখায় শতাধিক অস্ত্রধারী রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী আস্তানা গড়ে তুলেছে। সেই সন্ত্রাসীরাই ১২ নভেম্বর রাতের ঘটনা ঘটিয়েছে। আমরা সেদিন রাতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা ও গুলি করা কয়েকজন সন্ত্রাসীকে চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়েছি।’

র‌্যাব-১৫-এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (আইন ও গণমাধ্যম) মো. আবু সালাম চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ঘটনার পেছনে কারা কারা জড়িত তা জানতে কাজ করছে র‌্যাব-১৫-এর আরেকটি দল। তাই এ বিষয়ে এখনই আমি কিছু বলতে পারছি না।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত