রোনালদো এখন শুধুই পর্তুগালের

আপডেট : ১৯ নভেম্বর ২০২২, ০৪:৫৯ পিএম

এই বিশ্বকাপ খেলেই আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষ হওয়ার কথা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর। কিন্তু পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী ভিন্ন কিছু জানালেন। সঙ্গে রাখলেন দারুণ রহস্যও। তার কথা ৪০ বছর বয়স পর্যন্ত খেলতে চান। তবে পর্তুগালের হয়ে এই বিশ্বকাপ জিতলে ৩৭ বছরেই খুলে রাখবেন লাল-সবুজ জার্সি।

প্রশ্ন হলো ইউরোপের সেলেসাওদের বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনা কতটুকু? এর উত্তর যাই হোক। এখন পুরোপুরি রোনালদোকে পাচ্ছে পর্তুগাল।

ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতিতে রোনালদো এখন আর ক্লাব নিয়ে ভাবছেন না। মাথায় শুধুই দেশ। বিশ্বকাপে আসা সব ফুটবলারেরই মাথায় এখন দেশের হয়ে খেলা এক নম্বরে। তবুও মনের কোণে অজান্তেই আসর শেষে ক্লাবে ফেরার তাগাদা উঁকি দেবেই। কিন্তু রোনালদোর হয়ত তা নেই। বিশ্বকাপে আসার আগে একটি সাক্ষাৎকারে যেভাবে ম্যানইউর সঙ্গে নিজের সম্পর্কের বর্ণনা দিয়েছেন তাতে লাল জার্সিতে রোনালদোর শেষ ধরাই যায়। এখন তার মনে শুধু লাল-সবুজ।

নিজের প্রথম বিশ্বকাপে ২০০৬ সালে পর্তুগালের হয়ে সেমিফাইনালে খেলেছিলেন রোনালদো। এরপর তিন বিশ্বকাপে কিছুই করতে পারেনি তার দল। সেরা সাফল্য ২০১০ ও গত আসরের দ্বিতীয় রাউন্ড। ইউরো জেতাই দেশের জার্সিতে এখন পর্যন্ত  সবচেয়ে বড় অর্জন রোনালদোর। ২০১৬ সালের ফ্রান্স ইউরোতে চ্যাম্পিয়ন হন তারা। এরপর ২০১৯ উয়েফা নেশন্স লিগ শিরোপাও জিতেছে পর্তুগাল।

ওই শিরোপা জয়ের আত্মবিশ্বাসে কাতার বিশ্বকাপে নিজ দলের খুব ভালো সম্ভাবনা দেখছেন পর্তুগিজ অধিনায়ক, ‘আমি খুবই আশাবাদী। আমাদের খেলোয়াড়দের এই প্রজন্মটা দুর্দান্ত। আমি দারুণ একটি বিশ্বকাপের জন্য সামনের দিকে তাকিয়ে আছি।’

রোনালদোর দাবি একেবারে ভুল নয়। গত ইউরোর পর বিশ্বকাপ বাছাই, নেশন্স লিগ ও প্রীতি ম্যাচ মিলিয়ে ১৬ ম্যাচে দলটির জয় ১২টি, হার ও ড্র সমান দুটি করে। তবে চিন্তার বিষয় এই সময়ে নিজেদের চেয়ে বড় শক্তি শুধু স্পেনের বিপক্ষেই খেলেছে। মুখোমুখি হওয়া দুই ম্যাচে একটিতে হার ও অপরটিতে ড্র। স্বস্তি এই যে বিশ্বকাপে উড়াল দেওয়ার আগে শেষ প্রস্তুতি ম্যাচটিতে ভালো ব্যবধানেই জিতেছে তারা। নাইজেরিয়ার বিপক্ষে বৃহস্পতিবার রাতে ৪-০ গোলে জয়ের ম্যাচে অবশ্য পর্তুগাল কিংবদন্তি রোনালদো খেলেননি। পেটের পীড়ায় বিশ্রামে ছিলেন।

বিশ্বকাপে দলটির সেরা তারকা তো রোনালদো থাকছেনই। সেই সঙ্গে ব্রুনো ফার্নান্দেজ মিডফিল্ড থেকে অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার হিসেবে দুর্দান্ত। নাইজেরিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করেছেন এই ম্যানইউ তারকা। এছাড়া হুয়াও ফেলিক্স, হুয়াও মারিও, বের্নার্দো সিলভারা আক্রমণভাগে পরীক্ষিত। ডিফেন্সে আছেন অভিজ্ঞ পেপে। এছাড়া রুবিন দিয়াজ, দানিলো পেরেরা ও দিয়েগো দালত এই সময়ে পর্তুগিজ রক্ষণে সেরা ভরসা। দলের ভারসাম্যের কারণেই এবার শেষ ১৬ পেরোতে চাইছে পর্তুগাল।

ফিরে আসা যাক রোনালদোর প্রসঙ্গে। ওই সাক্ষাৎকারের দ্বিতীয় অংশে মেসিকে সতীর্থ বলেছেন রোনালদো। আর্জেন্টাইন তারকাকে নিয়ে সময়ের সেরা মন্তব্যটাই শোনা গেল তার প্রতিদ্বন্দ্বীর মুখে, ‘অসাধারণ খেলোয়াড়, সে জাদুকরী, সেরা। মানুষ হিসেবে আমরা ১৬ বছর একই মঞ্চ শেয়ার করছি। ভাবুন ১৬ বছর! তার সঙ্গে আমার সম্পর্কটা বন্ধুত্বের। একসঙ্গে বাসায় থাকা, ফোনে কথা বলা ওই রকম বন্ধু আমরা নই। তবে টিমমেটের মতো। আমি সত্যিই তাকে সম্মান করি। এমনকি তার স্ত্রী আর আমার প্রেমিকাও একে অপরকে সম্মান করে। তারা দুজনই আর্জেন্টাইন। মেসি সম্পর্কে আর কী বলার আছে? একজন ভালো মানুষ। সে ফুটবলের জন্য সবকিছু করেছে।’

জাতীয় দলের হয়ে এই বিশ্বকাপ তার শেষ কিনা এর জবাবে আন্তর্জাতিকে সর্বোচ্চ ১৭৭ গোলের মালিক জানান, ৪০ বছর পর্যন্ত খেলতে চান। পর্তুগাল বিশ্বকাপ জিতলে রোনালদোর এই আসরের পর অবসরের প্রসঙ্গটা পাশে রাখা যাক। ৪০ বছরের বিষয়টি টানলে পরের বিশ্বকাপ খেলা হচ্ছে না রোনালদোর। তার বয়সের ইচ্ছে মতো তখন ২০২৫ সাল চলবে। যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা বিশ্বকাপের আরও এক বছর বাকি। তবে ২০২৪-এ জার্মানি ইউরো নিশ্চিত ভাবেই খেলছেন রোনালদো। সেদিক থেকে এই বিশ্বকাপই রোনালদোর শেষ। দেশের সেরা তারকার শেষটা পর্তুগাল এবার কীভাবে রাঙাবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত