শ্রীলঙ্কার সিংহের পাহাড়

আপডেট : ১৯ নভেম্বর ২০২২, ১০:২৩ পিএম

শ্রীলঙ্কার প্রতাপশালী রাজা ধাতুসেনার মৃত্যু হয় বড় ছেলে কাশ্যপের হাতে। ছোট ভাই ও সিংহাসনের দাবিদার মোগ্গাল্লানা প্রাণভয়ে ভারতে পালিয়ে যান। পিতৃহত্যার বদলা নিতে নিজেকে প্রস্তুত করেন তিনি। মো¹াল্লানার আক্রমণ ঠেকাতে রাজা কাশ্যপ রাজধানী নিয়ে যান অন্যত্র। সেই রাজধানী নিয়ে লিখেছেন তৃষা বড়ুয়া

বিশ্বঐতিহ্য

শ্রীলঙ্কার নয়টি রাজ্যের একটি নর্থ সেন্ট্রাল প্রভিন্স। এই রাজ্যের মাতালে জেলায় রয়েছে একটি দুর্গ। নাম সিগিরিয়া বা সিংহগিরি। প্রায় ৬০০ ফুট উচ্চতার সিগিরিয়াকে ১৯৮২ সালে বিশ্বঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয় ইউনেস্কো। শ্রীলঙ্কার ঐতিহাসিক উপাখ্যানে বলা হয়েছে, সিগিরিয়া বা সিংহের পাহাড় আজ যেখানে অবস্থিত, সেখানে একসময় ঘন জঙ্গল ছিল। ঝড় ও ভূমিধসের কবলে পড়ে ওই এলাকা পাথুরে পাহাড়ে পরিণত হয়। নিজেকে রক্ষায় শ্রীলঙ্কার রাজা কাশ্যপ (৪৭৩-৪৯৫ খ্রিস্টাব্দ) ওই পাহাড়ে তার রাজধানী স্থানান্তর করেন। পাহাড়টির চূড়ায় নির্মাণ করেন দুর্গ ও প্রাসাদ। প্রাসাদের দেয়ালে আঁকা হয় চোখজুড়ানো ফ্রেসকো। পুরো সিগিরিয়া প্রকাণ্ড এক সিংহের আদলে নির্মাণ করা হয়। এ কারণে এর নাম রাখা হয় সিংহগিরি। রাজা কাশ্যপের মৃত্যুর বেশ কিছু সময় পর সিগিরিয়া বৌদ্ধদের মঠ ছিল। সিগিরিয়ার জলবাগান কেবল দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে ভালোভাবে সংরক্ষিত বাগানই নয়, বিশ্বের সবচেয়ে পুরনো বাগানের একটি। পঞ্চম শতাব্দীতে রাজা কাশ্যপের অতিথিরা পথের দুধারে নয়নাভিরাম জলবাগান দেখে সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠতেন। পাহাড়ের চূড়ায় নির্মিত প্রাসাদে রাজদর্শন পেতে তাদের সিঁড়িতে ১ হাজার ২০০টির বেশি ধাপ বেয়ে ওঠা লাগত। শ্রীলঙ্কার ট্যুর গাইড লেকচারার সুমেধা চন্দ্রদাসা বলেন, ‘জলবাগানের ভেতরে রয়েছে শৈল্পিকভাবে নকশা করা জলাশয়, ফোয়ারা ও হ্রদ। এগুলোর চারদিকে রয়েছে বাঁধানো মঞ্চ যেখানে সংগীত ও নৃত্যশিল্পীরা তাদের গান ও নৃত্য পরিবেশন করতেন। আজকের যুগে সুদৃশ্য বাগান ও সুইমিং পুল সংবলিত যেসব বিলাসবহুল রিসোর্ট দেখা যায়, তার সঙ্গে মিল রয়েছে রাজা কাশ্যপের প্রাসাদের।’ প্রকৌশলীদের ভাষ্য, জলবাগানের নকশার চেয়ে সেগুলোর পানিব্যবস্থা দেখে রীতিমতো বিস্মিত হতে হয়। বাগানগুলোর পানিব্যবস্থায় পানিকে শক্তি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। সিগিরিয়ার ভূগর্ভস্থ টানেল সিস্টেম ও মাধ্যাকর্ষণ শক্তি জলাশয় ও ফোয়ারাকে দেখতে অনেক বেশি আকর্ষণীয় করে তোলে। দেড় হাজার বছর আগের সেই প্রযুক্তি আজকের যুগেও ব্যবহার করা হয়।                    

সিগিরিয়ার ইতিহাস

প্রাচীন শ্রীলঙ্কার প্রথম রাজ্য অনুরাধাপুরা। সিংহলিরা ছিল এই রাজ্যের বাসিন্দা। খ্রিস্টপূর্ব ৪৩৭ সালে রাজা পানডুকাভয়া অনুরাধাপুরা রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। শ্রীলঙ্কার অনেক অঞ্চল এই রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল। দক্ষিণ ভারতের দ্রাবিড় জাতিগোষ্ঠীর মানুষ বহুবার অনুরাধাপুরা দখল করতে চেয়েছিল কিন্তু তাদের বারবার পরাজিত করে শ্রীলঙ্কাকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে ভূমিকা রাখেন অনুরাধাপুরার কয়েকজন রাজা। এদের একজন ছিলেন ধাতুসেনা। ৪৫৫ থেকে ৪৭৩ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত তিনি অনুরাধাপুরার রাজা ছিলেন। তার ছিল দুই ছেলে ও এক মেয়ে। বড় ছেলের নাম কাশ্যপ ও ছোট ছেলের নাম মোগ্গাল্লানা। মোগ্গাল্লানার জন্ম রানীর গর্ভে হলেও কাশ্যপের মা ছিলেন ধাতুসেনার উপপত্নী। এ কারণে বড় ছেলে হয়েও কাশ্যপ সিংহাসনের উত্তরাধিকারী ছিলেন না। তার সৎভাই মোল্লানা রাজসিংহাসনে বসবেন, এমনটাই সবাই জানত ও কাশ্যপ তা মেনেও নেন। কিন্তু ঝামেলা বাধে ধাতুসেনার মেয়ের বিয়ের পর। বোনের ছেলে ও সেনাপতি মিগারার সঙ্গে মেয়ের বিয়ে দিয়েছিলেন ধাতুসেনা। একমাত্র মেয়েকে অনেক ভালোবাসতেন তিনি। বিয়ের পর মেয়ের সঙ্গে তার শাশুড়ি অর্থাৎ ধাতুসেনার বোনের একবার ঝগড়া হয়। জানতে পেরে ধাতুসেনা তার বোনকে হত্যা করেন। মাকে হারিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন মিগারা। মাতৃহত্যার বদলা নিতে মরিয়া হয়ে ওঠেন তিনি। কাশ্যপকে দিয়ে প্রতিশোধ নেওয়ার ফন্দি আঁটেন মিগারা। তিনি কাশ্যপকে এই বলে ফুসলাতে থাকেন, সিংহাসনের যোগ্য উত্তরাধিকারী তিনিই এবং রাজা ধাতুসেনাকে সিংহাসনচ্যুত করতে পুরো সহায়তা করবে মিগারার নেতৃত্বাধীন সেনারা। কাশ্যপকে এও বিশ্বাস করানো হয়, ধাতুসেনা বিপুল পরিমাণ সম্পদ লুকিয়ে রেখেছেন। সিংহাসন ও সম্পদের লোভে মিগারার পরামর্শমতো কাজ করতে থাকেন কাশ্যপ। তিনি ধাতুসেনার বিরুদ্ধে বিদ্রোহের ডাক দেন এবং তাকে গদিচ্যুত করেন।

ধাতুসেনাকে বন্দি করে ৪৭৩ খ্রিস্টাব্দে সিংহাসনে বসেন কাশ্যপ। ধাতুসেনা কোথায় সম্পদ লুকিয়ে রেখেছেন, কাশ্যপ বাবাকে এই প্রশ্ন করলে ধাতুসেনা তাকে তারই নির্মিত জলাধার কালা ওয়েওয়াতে নিয়ে গিয়ে বলেন, এই জলাধারই তার একমাত্র সম্পদ, এর বাইরে আর কোনো সম্পদ তার নেই। এই শুনে কাশ্যপ ক্ষেপে গিয়ে ধাতুসেনাকে খুন করেন। সৎভাইয়ের রাজ্য দখল ও বাবাকে হত্যার ঘটনায় বিচলিত মোগ্গাল্লানা প্রাণভয়ে দেশ ছেড়ে দক্ষিণ ভারতে পালান। এদিকে ভাইকে ভারতে পালাতে দেখে চিন্তিত হয়ে পড়েন কাশ্যপ। ভয় হয়, ভারত থেকে সেনা এনে তাকে আক্রমণ করে বসতে পারে মোগ্গাল্লানা। কাশ্যপ তখন রাজধানী অনুরাধাপুরা থেকে সরিয়ে তুলনামূলক নিরাপদ স্থান সিগিরিয়াতে স্থানান্তর করেন। সেখানে শত্রুর হামলা

প্রতিহত করতে দুর্গ নির্মাণ করেন তিনি। কাশ্যপের শাসনামলে সিগিরিয়া উন্নত শহরে পরিণত হয়। সিগিরিয়ার চূড়ায় প্রতিরক্ষামূলক স্থাপনার পাশাপাশি নির্মাণ করা হয় সুরম্য প্রাসাদ ও বাগান।                  

ভারতে পৌঁছে প্রতিশোধ নিতে নিজের বাহিনী গড়ে তোলেন মোগ্গাল্লানা। উদ্দেশ্য, সৎভাই কাশ্যপকে হত্যা ও সিংহাসনের পুনর্দখল। ৪৯৫ খ্রিস্টাব্দে শ্রীলঙ্কায় ফিরে কাশ্যপের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন মোগ্গাল্লানা। যুদ্ধের একপর্যায়ে কাশ্যপের সেনাবাহিনী তাকে ছেড়ে চলে যায়। পরাজয় বুঝতে পেরে রাজা কাশ্যপ আত্মহত্যা করেন। শ্রীলঙ্কার লোককাহিনীতে কাশ্যপের পরাজয় সম্পর্কে বলা হয়, মোগ্গাল্লানার বাহিনীর সঙ্গে লড়াইয়ের সময় হাতির পিঠে চেপে ছিলেন রাজা কাশ্যপ। সে সময় কৌশলগত সুবিধা নিতে হাতিটিকে ভিন্নপথে নিয়ে যান তিনি। এ দেখে তার সেনারা ভাবে, রাজা বুঝি পিছু হটছেন। তারাও তখন পিছু হটে রণাঙ্গন ত্যাগ করেন। কাশ্যপ সেনাদের চলে যেতে দেখে ভাবেন, তারা তাকে ছেড়ে মোগ্গাল্লানার বাহিনীতে যুক্ত হতে যাচ্ছেন। যুদ্ধের ময়দানে একা দাঁড়িয়ে কাশ্যপ পরাজয় অনিবার্য ভেবে ছোরা বের করে নিজেকে হত্যা করেন। শত্রুপক্ষের কাছে ধরা দিতে কোনোভাবেই রাজি ছিলেন না তিনি। সিংহাসনে বসে মোগ্গাল্লানা অনুরাধাপুরেই রাজধানী ফিরিয়ে নিয়ে যান। এর মধ্য দিয়ে সিগিরিয়া রাজধানীর মর্যাদা হারায়। সিগিরিয়াকে মোগ্গাল্লানা বৌদ্ধদের মঠে পরিণত করেন। ত্রয়োদশ বা চতুর্দশ শতাব্দী পর্যন্ত এটি তাই ছিল। এরপর কয়েক শো বছর সিগিরিয়া সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

উপনিবেশ স্থাপন

মোগ্গাল্লানার পর অনুরাধাপুরা শাসন করেন তার ছেলে কুমারা ধাতুসেনা। সময় যত যেতে থাকে, সিংহলি ও দ্রাবিড়দের মধ্যে লড়াই ততই তীব্র হতে থাকে। দ্বাদশ শতাব্দীতে শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ-পশ্চিমে সিংহলিদের নিয়ন্ত্রণ কমতে শুরু করে। এদিকে ভারত মহাসাগরে সম্পদে সমৃদ্ধ শ্রীলঙ্কার অবস্থান আকৃষ্ট করে ইউরোপীয়দের। পঞ্চদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে শ্রীলঙ্কার ক্ষমতাসীন অভিজাত শ্রেণির মধ্যকার দ্বন্দ্ব পুরোপুরি কাজে লাগায় পর্তুগিজরা। তারা দ্বীপটির বেশির ভাগ অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। ১০০ বছর পর ডাচরা পর্তুগিজদের হটায়। সপ্তদশ শতাব্দীর শেষে তাদের হটায় ব্রিটিশরা। ১৯১৫ সালে শ্রীলঙ্কার শেষ স্বাধীন রাজ্য ক্যান্ডি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়।

উপনিবেশ স্থাপনের পর ব্রিটিশরা ইংল্যান্ড থেকে ইতিহাসবিদ জর্জ টারনারকে শ্রীলঙ্কায় নিয়ে আসেন। তিনি পঞ্চম শতাব্দীতে রচিত ঐতিহাসিক উপাখ্যান মহাভামসা পালি থেকে ইংরেজিতে অনুবাদ করেন। তাকে এই কাজে সহযোগিতা করেন এক বৌদ্ধ ভান্তে। মহাভামসা ও অন্য বই পড়ে টারনার জানতে পারেন, শ্রীলঙ্কায় একসময় অনুরাধাপুরা ও পোলোন্নারুয়া নামে দুটি রাজধানী ছিল। শ্রীলঙ্কার ইতিহাস নিয়ে মহাভামসার পর আরেকটি উপাখ্যান লেখা হয়, যার নাম চুলাভামসা। এটি নিয়েও পড়াশোনা করেন টারনার। চুলাভামসায় রাজা কাশ্যপের উল্লেখ আছে। ১৮২৭ সালে টারনারের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে জনাথন ফোর্বস নামে স্কটল্যান্ডের এক নাগরিকের। টারনারের কাছ থেকে রাজা কাশ্যপ ও তার দুর্গ সিগিরিয়া বা সিংহগিরির গল্প শুনে তিনি কৌতূহল বোধ করেন। সিদ্ধান্ত নেন, ঐতিহাসিক ওই দুর্গ খুঁজে বের করবেন। স্থানীয়দের কাছে সিগিরিয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে তারা ফোর্বসকে একটি জায়গার কথা বলেন, যেখানে গেলে তিনি প্রাচীন এক শহরের ধ্বংসাবশেষ পাবেন। ১৮৩১ সালে সিগিরিয়ার সন্ধানে বের হন ফোর্বস। আত্মজীবনী ইলেভেন ইয়ার্স ইন সিলনে তিনি বলেন, ‘সিগিরিয়ার উঁচু পাথর যেন আশপাশের বিস্তৃত বনভূমিকে অবজ্ঞার দৃষ্টিতে দেখছে।’ ফোর্বস নেতৃত্বাধীন দলের দুজন পাহাড়ের গা বেয়ে ওঠার চেষ্টা করলে ব্যর্থ হন। ওই পাহাড় বৌদ্ধ ভান্তে রচিত উপাখ্যানে যে সিগিরিয়ার উল্লেখ আছে, তা কি না, এ নিয়ে নিশ্চিত ছিলেন না ফোর্বস। এ কারণে তিনি তার অভিযান সেখানেই থামিয়ে দেন। কয়েক বছর পর ওই জায়গায় আবার গেলে পাথুরে পাহাড়টির নিচে এক পরিখা দেখতে পান ফোর্বস কিন্তু ওপরে ওঠার চেষ্টা করেননি তিনি। সিগিরিয়া নামের সঙ্গে সিংহের কোনো সম্পর্ক রয়েছে, এমনটা তার মনে হয়নি কারণ সিংহের আকৃতির সঙ্গে ওই পাহাড়ের সাদৃশ্য ওই সময় তার চোখে পড়েনি। 

পাহাড়ে শিল্পকর্ম

শেষ পর্যন্ত ১৮৫১ সালে ব্রিটিশ পর্বতারোহীরা সিগিরিয়ার চূড়ায় পৌঁছতে সক্ষম হন। সে সময় ওই পাহাড় সম্পর্কে গবেষণার দায়িত্ব পান সিংহলের প্রত্নতাত্ত্বিক কমিশনার হ্যারি সি পি বেল। ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে তার গবেষণা শেষ হয়। সিগিরিয়া সম্পর্কে মানুষের জানাবোঝার বেশির ভাগই এসেছে বেলের গবেষণা থেকে। পাহাড়ের ওপর রাজা কাশ্যপের চমৎকার রাজধানী শহরের পাশাপাশি প্রবেশপথে সিংহের দুটি বিশাল থাবার বিস্তারিত বিবরণ বেল তার গবেষণা প্রতিবেদনে লিখে গেছেন। ১৮৯৮ সালে খনন করে ওই দুই থাবার সন্ধান পেয়েছিলেন বেল। থাবাগুলো এমন নিখুঁতভাবে খোদাই করা হয় যা দেখলে মনে হয়, সেগুলো বুঝি পাথুরে পাহাড়ের ভেতর থেকে এসেছে। এই থাবাগুলো দেখতে না পাওয়ায় সিংহের সঙ্গে সিংহগিরি নামের সম্পৃক্ততা পাননি ফোর্বস। থাবা দুটোর পর পাহাড়ের গায়ে বিশালাকৃতির এক সিংহ মূর্তির দেখা পান প্রত্নতাত্ত্বিক বেল। রাজা কাশ্যপের দম্ভ ও শক্তির প্রতীক এই সিংহ।         

সিগিরিয়ার পাদদেশের জলবাগানের পাশাপাশি পাহাড়ের গায়ে আঁকা দেয়ালচিত্রও মনোযোগ কাড়ে বেলের। এসব দেয়ালচিত্র বা ফ্রেসকো শ্রীলঙ্কার গৌরবময় শিল্পকলার মূল্যবান সম্পদ হিসেবে বিবেচিত। মোট ২১টি ফ্রেসকোতে অপ্সরা, স্বর্গীয় গায়ক ও নৃত্যশিল্পী অনেক সুন্দরভাবে আঁকা আছে, যা সে সময়ের সিংহলি শিল্পীদের শিল্পী মনের সাক্ষ্য বহন করে। ফ্রেসকো ছাড়াও পাথুরে পাহাড়ের দেয়ালে রয়েছে এক হাজারের বেশি গ্রাফিতি। বৌদ্ধ ভান্তে ও তীর্থযাত্রী যারা অষ্টম থেকে ত্রয়োদশ শতাব্দী পর্যন্ত ওই অঞ্চলে যান, তাদের নিয়েই ওইসব গ্রাফিতি। বিশেষজ্ঞদের মতে, মূলত সুন্দরী নারীরাই সিগিরিয়ার শিল্পে স্থান পায় বেশি। ধারণা করা হয়, এসব নারী রাজা কাশ্যপের প্রাসাদে থাকতেন। অপ্সরাদের আদলে এই নারীদের আঁকা হয়। তাদের মুখভঙ্গি ও রঙের ব্যবহার আজও পর্যটকদের মুগ্ধ করে। এই নারীদের প্রত্যেকের গলায় তিন বৃত্তের ট্যাটু আছে। এর অর্থ, তারা রাজা কাশ্যপের সম্পত্তি ছিলেন। ভারতের অজন্তা গুহায় গুপ্ত যুগের যেসব চিত্রাঙ্কন রয়েছে, তার সঙ্গে রাজা কাশ্যপের প্রাসাদের দেয়ালে অঙ্কিত চিত্রকলার মিল রয়েছে বলে জানান বিশেষজ্ঞরা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত