উদ্বোধনী নিয়ে রহস্য থাকল শেষ পর্যন্ত

আপডেট : ২০ নভেম্বর ২০২২, ০১:২৩ এএম

বেশ ক’বছর আগে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনে নিজ কক্ষে বসে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন বুক ফুলিয়ে বলেছিলেন, ‘ফুটবল এতটাই আনন্দদায়ী খেলা, যার জন্য বাড়তি আড়ম্বরের প্রয়োজন হয় না।’ কথাটা তিনি বলেছিলেন ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট আসর বিপিএলের সমালোচনা করে। ক্রিকেট ফ্র্যাঞ্চাইজি যুগে প্রবেশের পর থেকেই দেখা যাচ্ছে বিনোদন জগতের তারকাদের আনাগোনা। আসর জমাতে পর্দার তারকাদের নিয়ে আসার সংস্কৃতিটা সালাউদ্দিনের একদমই পছন্দ নয়। বিশেষ করে ফুটবল মাঠে তো একেবারেই না। তবে সালাউদ্দিনের মতো সবাই ভাবলে তো চলবে না। যতই রক্ষণশীল দেশ হোক, কাতারেরও কেবল চর্মগোলকে আস্থা রাখার সুযোগ নেই। বিশ্বকাপ মাতাতে তাই তারাও চায় ভিন্ন জগতের মানুষদের নিয়ে আসতে। আর এই নিয়ে আসার ইচ্ছে পূরণেই ঘটছে যত বাধা-বিপত্তি। মধ্যপ্রাচ্যে আজ প্রথমবারের মতো শুরু হতে যাচ্ছে বিশ্বকাপ। গ্রেটেস্ট শো অন আর্থকে আরও স্মরণীয় করতে আয়োজকদের ইচ্ছে ছিল উদ্বোধনীটা নানা রঙে রাঙাতে। সেটা আদৌ তারা পারল কিনা তা জানতে অপেক্ষায় থাকতে হবে আজ রাত অবধি। ফিফা কিংবা কাতার, কেউ যে এখনো নিশ্চিত করে জানাতে পারেনি কী কী থাকবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে।

দোহা থেকে আল-খোর সিটির দূরত্ব ৩৫ কিলোমিটার। যে আটটি স্টেডিয়াম তৈরি হয়েছে বিশ্বকাপের জন্য, তার একটি আল-বায়েত স্টেডিয়ামটি সেই শহরে। সেখানেই আজ স্বাগতিক কাতার ও ইকুয়েডর ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে প্রায় এক মাসের আনন্দযাত্রা। বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় শুরু হতে যাওয়া এই ম্যাচের আগের দুই ঘণ্টা আয়োজকরা সাজাতে চেয়েছেন বিশ্বের গুণী সব শিল্পীর পারফরম্যান্স দিয়ে। যেখানে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হয়ে থাকার কথা ২০১০ দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের থিম সং ওয়াকা ওয়াকা গেয়ে দুনিয়া মাত করা কলম্বিয়ান তারকা শাকিরার। তবে তিনি থাকছেন কিনা, সেটা নিশ্চিত করেনি কোনো পক্ষই। আদতে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সম্ভাব্য পারফরমারদের অনেককেই সাম্প্রতিক সময়ে শুনতে হয়েছে কটু কথা। পশ্চিমা সংবাদমাধ্যম কাতারের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী আচরণ, সমকামীদের নির্যাতন ও প্রবাসী শ্রমিকদের সঙ্গে অন্যায়ের অভিযোগ তুলে অনেককেই সেখানে পারফর্ম করতে না যেতে উৎসাহিত করছে। তাতে যেমন রড স্টুয়ার্ট, দুয়া লিপার মতো ব্রিটিশ সংগীত তারকা কাতারের লোভনীয় প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন, তেমনই ব্রিটিশ তারকা রবি উইলিয়ামস, কোরিয়ার বিশ্ব মাতানো ব্যান্ড বিটিএসের সদস্য জানকুকের মতো তারকারা কাতারে পারফর্ম না করার কোনো কারণই খুঁজে পাচ্ছেন না। বিটিএস তো তাদের অফিসিয়াল টুইটার পেজে জানকুকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পারফর্ম করার বিষয়টি নিশ্চিত করে দিয়েছেন। আর রবি উইলিয়ামস ইতালির এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘কেউ যদি আমাকে কাতারে না যাওয়ার অনুরোধ করে সেটা মেনে নেওয়া কপটতা ছাড়া কিছুই না। আমি একজন শিল্পী। আমি নিশ্চয় আমার রান্নাঘরে একাকী গান গাইব না। অবশ্যই আমি মানবাধিকার ভঙ্গ করা দলের পক্ষে নই।’

আল বায়েতের ঝা চকচকে স্টেডিয়ামে ৬০ হাজার দর্শককে কারা নেচে গেয়ে বিনোদিত করবে, তা সময়ই বলে দিবে। তবে কাতারিদের বিশ্বকাপ উৎসবে কেউই পারছে না জল ঢেলে দিতে। কাল সন্ধ্যায় ফিফা তাদের আনুষ্ঠানিক ফ্যান ফেস্টিভ্যালের বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী করেছে আল বিদা পার্কে সুবিস্তৃত সমুদ্রতীরে। যেখানে গাওয়া হয়েছে এবারের বিশ্বকাপের অফিসিয়াল থিম সং তুখো তাকা। লেবানিজ শিল্পী মরিয়াম ফারেস, কলম্বিয়ান তারকা মালুমা ও ত্রিনিদাদিয়ান র‌্যাপ তারকা নিকি মিনাজের সুরের মূর্ছনায় দুলে উঠেছে প্রায় ৪০ হাজার ফুটবলপ্রেমী। আগামী চার সপ্তাহ দোহার অনেকগুলো ফ্যান জোন মাতাতে আসার কথা রয়েছে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মিউজিশিয়ান ডিপ্লো, বলিউড মাতানো মরোক্কান তারকা নোরা ফাতেহি, ত্রিনিদাদের কার্দোনা ও ক্যালভিন হ্যাসিরের মতো পপ তারকার।

তবে এই নাচ-গানও ম্লান হয়ে যাবে যদি মেসি, নেইমার, রোনালদো, এমবাপ্পের মতো মাঠের শিল্পীরা তাদের জাদু দেখানো শুরু করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত