আগামী দুই বছরের মধ্যে পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশন আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। গতকাল শনিবার রাজধানীর গুলশানে এ-সংক্রান্ত এক আলোচনা সভায় প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম শিকদার এ আশ্বাস দেন।
চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে প্রায় ১০০ কোটি টাকা আদায় করতে সক্ষম হয়েছি। আগামী বছর টাকার পরিমাণ আরও বাড়বে। সে ক্ষেত্রে ২০২৩ সালের মধ্যে লাখ টাকা বা তার কম এক হাজার আমানতকারীর আমানত ফেরত দিতে পারব।’
এক প্রশ্নের জবাবে হাইকোর্টের নির্দেশে নিযুক্ত পিপলস লিজিংয়ের বর্তমান চেয়ারম্যান ও সাবেক এই বিচারপতি বলেন, বড় বড় ঋণখেলাপির বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। ছোট-বড় মিলিয়ে এই মামলার সংখ্যা ৩৫০টি। তাদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং তারা ধীরে ধীরে টাকাও ফেরত দিচ্ছে। কিন্তু সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, অনেক ঋণের বিপরীতে পর্যাপ্ত জামানত নেই।
তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটি পাঁচ বছর ধরে লুট করা হয়েছে। তাই এটাকে রাতারাতি পরিবর্তন করে দেওয়া সম্ভব নয়। আগামী দুই বছরের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি পুনরায় দৌড় শুরু করবে এবং আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেবে বলে আশ্বস্ত করেন তিনি।
আমানতকারীদের দাবি, পিপলস লিজিংয়ের বর্তমান যে অবস্থা এর জন্য শুধু বাংলাদেশ ব্যাংক দায়ী। বাংলাদেশ ব্যাংক যদি প্রথম থেকে পিপলস লিজিংসহ অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে সঠিকভাবে দেখাশোনা করত, তাহলে বর্তমানে যে অর্থনৈতিক সংকট চলছে তা কিছুতেই হতো না। তাদেরও দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হতো না।
তারা বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বলেছেন, কোনো তারল্য সংকট নেই, তাহলে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে পিপলস লিজিংয়ের বোর্ড যখন লোন চাইল, তখন কেন তা বাতিল করে দিল?
এ ছাড়া পিপলস লিজিংয়ের দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত যেসব ব্যক্তি এখনো ভিভিআইপি সুবিধা ভোগ করছে, তাদের সুবিধা বাতিল করে সম্পদ বাজেয়াপ্ত করারও দাবি জানান তারা।
