ইরানের সঙ্গে ইংল্যান্ডের প্রতিপক্ষ গরমও

আপডেট : ২০ নভেম্বর ২০২২, ১০:৪০ পিএম

গ্রুপ ‘বি’-এর লড়াইয়ে খলিফা স্টেডিয়ামে আজকের ম্যাচের প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড ও ইরান। কাগজে-কলমে এটা ঠিকই আছে। কিন্তু ইংল্যান্ডের জন্য ইরান বড় প্রতিপক্ষ নয়। ইংল্যান্ডের মাথাব্যথা কাতারের গরম নিয়ে। ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে অনুশীলন করতে গিয়ে মাঠের পাশে থাকা বরফশীতল মেশিনে বারবার গা ভিজিয়ে আসতে হয়েছে ইংলিশ ফুটবলারদের। বারবার গলা ভেজাতে হয়েছে পানি দিয়ে আর শরীরের এনার্জি ধরে রাখতে খেতে হয়েছে এনার্জি জেলি। বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ইংল্যান্ডের অঘটনে পড়ার অতীত কম। তবুও এশিয়ান কন্ডিশনে ইরান শক্তিশালী। এশিয়ান কাপে তো এমন পরিবেশেই খেলে অভ্যস্ত দলটি। ইংল্যান্ড ফেভারিট হলেও কাতারের গরমকে কাজে লাগিয়ে আজ ইরান জয়ে শুরুর স্বপ্ন দেখতেই পারে।

গত দুই বৈশ্বিক আসরে ‘ইটস কামিং হোম’ স্লোগানে হইচই ফেলে দিয়েছিল ইংলিশ সমর্থকরা। এই স্লোগানের মানে ফুটবল শিরোপা ঘরে ফিরছে। খেলাটির জনক তো তারাই। দিন শেষে ইংলিশদের স্বপ্ন সত্যি হয়নি। ঘরে আসেনি কোনো ট্রফি। ২০১৮ বিশ্বকাপে শেষ চারে উঠেও মিলেছে হতাশা। আর ২০২০ ইউরোতে শিরোপায় এক হাত ছুঁয়েও ব্যর্থতা। গত দুই আসর পর আরও একবার ওই স্লোগানে কাতার মুখরিত করেছে ইংলিশ সমর্থকরা। তাদের আওয়াজ সার্থক হবে জয়ে বিশ্বকাপ শুরু হলে। কোচ গ্যারেথ সাউথগেটের জন্যও এই ম্যাচ জেতার গুরুত্ব অনেক। গত দুই আসরে ভালো করলেও দলের সাম্প্রতিক হতাশা ইংলিশ কোচকে চাপে ফেলেছে। তাই সাউথগেটের দিকে আঙুল তুলে সমালোচনা হচ্ছে ‘তুমি কী করেছ।’ এই সমালোচনা থামানোর একমাত্র উপায় দলকে আরও একবার কমপক্ষে সেরা চারে নিয়ে যাওয়া।

কিন্তু ইংল্যান্ডের সাম্প্রতিক ফর্ম তাদের পক্ষে নয়। ইউরোয় ইতালির কাছে ফাইনাল হারের পর থেকে বড় দলের সঙ্গে আর জিততে পারছে না ইংলিশরা। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ১০ ম্যাচে ৮ জয় ও দুটি ড্র ছিল তাদের। ছোট দলগুলোর সঙ্গে বড় ব্যবধানে জিতলেও হাঙ্গেরি ও পোল্যান্ডের মতো ইউরোপিয়ান দ্বিতীয় শক্তির দলের সঙ্গেও ড্র করেছে ইংল্যান্ড। এর বাইরে বলার মতো দলের বিপক্ষে গত মার্চে দুটি ম্যাচ জিতেছিল ইংল্যান্ড। কোস্টারিকা ও সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে। কিন্তু এরপর থেকে টানা ৬ ম্যাচ অজেয় তারা। নেশন্স লিগে জার্মানি, হাঙ্গেরি ও ইতালির সঙ্গে মোট চার হার ও দুই ড্র দলটির। ইংল্যান্ডের এমন অবস্থায় দলটির ভরসা হ্যারি কেন। এ স্ট্রাইকার বড় আসরেই জ্বলে ওঠেন। গত বিশ্বকাপে ৬ গোল করে হয়েছিলেন সর্বোচ্চ স্কোরার। এ ছাড়া নেশন্স লিগ ও ইউরোতেও গোল এসেছিল তার পা থেকে। ইরানের বিপক্ষে ভালো শুরুর স্বপ্নে কেনকেই তুরুপের তাস ধরতে পারেন ইংলিশরা।

এদিকে ইরানের ভয় অতীত নিয়ে। বিশ্বকাপে তারা কখনই দ্বিতীয় রাউন্ডে যেতে পারেনি। টানা তিন আসরেও সেই ব্যর্থতা কাটাতে চায় এশিয়ার সিংহরা। এ ছাড়া ইউরোপিয়ান প্রতিপক্ষের সঙ্গে বিশ্বকাপে ৮ বারের ৬ বারই হেরেছে তারা। এই অতীতকে বদলাতে ইরানের ভরসা কাতারের কন্ডিশন। এমন কন্ডিশনে ইরান অনেকবারই খেলেছে এশিয়া কাপে। ওই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ইংল্যান্ডকে অঘটন উপহার দিতে চায় ইরান। তাদের এই স্বপ্নটা সত্যি করতে পারেন সরদার আজমৌন। এ ফরোয়ার্ড গোলস্কোরার হিসেবে দারুণ রেকর্ড রাখেন। আজমৌনকে কেন্দ্র করে ইরান নিজেদের ট্রেডমার্ক কাউন্টার অ্যাটাকনির্ভর ফুটবল খেলতে চায়। কাউন্টারে এক গোল পেলেই নিজেদের রক্ষণ সামলানোর লক্ষ্য দলটির। তাতে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে প্রথম দ্বিতীয় রাউন্ডের স্বপ্ন স্পষ্ট হতে শুরু করবে ইরানের সামনে।

বিশ্বকাপ শুধু নয়, প্রীতিম্যাচের হিসাবেও এই ম্যাচের আগে কখনই মুখোমুখি হয়নি ইংল্যান্ড-ইরান। দুই দলের জন্যই আজ নতুন অভিজ্ঞতা। পরিকল্পনার নতুনত্বে তাই ইরানের অঘটন না ম্যাচ ফেভারিট ইংল্যান্ডের জয় আসে সেটাই দেখার।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত