দেশে দুই কোটি মানুষ ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত ও আরও দুই কোটি মানুষ প্রি-ডায়াবেটিস রোগে ভুগছেন। এসব প্রি-ডায়াবেটিস রোগীদের যদি রোগ থেকে রক্ষা করা যায়, তা হলে বছরে ১ লাখ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে বলে জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ। সে হিসাবে বর্তমানে বছরে একজন প্রি-ডায়াবেটিস রোগীর চিকিৎসায় ব্যয় হয় ৫০ হাজার টাকা, যা মাসে ৪ হাজার টাকা।
গতকাল বিএসএমএমইউতে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে এমন তথ্য জানিয়ে উপাচার্য ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে খাদ্যাভ্যাস ও জীবনাচার নিয়ন্ত্রণের পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে শরীরচর্চা, খাদ্যাভ্যাসের গুরুত্ব অপরিসীম। জিহ্বায় যা ভালো লাগে তার অধিকাংশ স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তাই খাদ্যাভ্যাস ও জীবনাচার নিয়ন্ত্রণ রাখলে ডায়াবেটিস প্রতিকারের পাশাপাশি প্রতিরোধও সম্ভব।
উপাচার্য আরও বলেন, অসংক্রামক রোগে মানুষের অনেক কষ্ট। তাই ডায়বেটিস, ক্যানসার, হাইপারটেনশন, কার্ডিয়াক রোগ সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। বিশেষ করে ডায়াবেটিসের কারণে অনেক অঙ্গ আক্রান্ত হয়। তার মধ্যে প্যানক্রিয়াস, কিডনি, চক্ষু অন্যতম।
এ সময় উপাচার্য বলেন, ডায়াবেটিস নির্মূলে অগ্রণী ভূমিকা পালন করায় আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিস ফেডারেশন কংগ্রেস প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘গ্লোবাল অ্যাম্বাসেডর অব ডায়াবেটিস’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। প্রধানমন্ত্রী প্রতিষ্ঠিত দেশের কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে ডায়াবেটিসের ব্যয়বহুল ওষুধ মেডফরমিন বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে, যা সারা বিশ্বে প্রশংসিত হয়েছে।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএসএমএমইউয়ের এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. শাহাজাদা সেলিম, নেফ্রোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. সৈয়দ ফজলুল সেলিম, অফথালমোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. তারিক রেজা আলী।
ডা. তারিক রেজা আলী বলেন, ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি সারা বিশ্বে ২০-৭৪ বৎসর বয়সী মানুষের দৃষ্টিশক্তি হ্রাসের অন্যতম প্রধান কারণ। এই রোগের প্রকোপ ডায়াবেটিস আক্রান্ত মানুষের মধ্যে শতকরা ৩৪ দশমিক ৬ ভাগ। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের চোখে বিশেষ করে রেটিনায় কোনো সমস্যা আছে কি না তা নির্ণয়ের কোনো সঠিক দিকরেখা দেশে তৈরি হয়নি। প্রতিটি ডায়াবেটিক রোগীকে বছরে অন্তত একবার চোখের রেটিনা পরীক্ষা করাতে হয়। একটি বিশেষ ড্রপ দিয়ে চোখের মনির আকার বড় করে এই পরীক্ষা সহজেই করা সম্ভব।
ডা. শাহজাদা সেলিম বলেন, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে না থাকলে হৃদরোগ, স্ট্রোক, প্রজনন বিষয়ক নানা সমস্যা দেখা দেয়। ডায়াবেটিস রোগীর ৮০ শতাংশ মারা যায় হার্ট অ্যাটাকে। ডায়াবেটিস না থাকলে কিডনি রোগী অনেক কমে যেত। ডায়াবেটিসের কারণে চিকিৎসা ব্যয়ও অনেক বেড়ে যায়। ৬১ শতাংশ মানুষ মনে করে তাদের ডায়াবেটিস নেই, কিন্তু টেস্ট করলে দেখা যায় তাদের ডায়াবেটিসের মাত্রা এত বেশি যে ওষুধ বা ইনসুলিন শুরু করতে হয়। ডায়াবেটিস থেকে অন্য রোগ হওয়ার কারণে চিকিৎসা খরচ আরও বেড়ে যায়। ডায়াবেটিসে ব্যক্তির পাশাপাশি সরকারের ব্যয়ও বাড়ছে। বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতের মোট ব্যয়ের ১০ শতাংশ ডায়াবেটিসের চিকিৎসায় ব্যয় হয়।
