বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আমাদের সাতটি বিভাগীয় সমাবেশে দলের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, তাদের আবেগ, কষ্ট করে সমাবেশে আসা এবং সর্বোপরি প্রাণ দেওয়ার ঘটনায় প্রমাণ হয়েছে, আমাদের নেতা তারেক রহমান আমাদের জন্য কতটা অপরিহার্য। তার নেতৃত্বে সব বাধাবিপত্তি পেরিয়ে নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ সমাবেশে অংশগ্রহণ করে তা সফল করছেন।’ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৫৮তম জন্মদিন উপলক্ষে বিএনপির উদ্যোগে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।
এ ছাড়া দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন, বিকেলে গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপিসহ বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা তারেক রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে নানা কর্মসূচি পালন করেন। দেশের বাইরে অস্ট্রেলিয়া বিএনপিসহ বিভিন্ন দেশে তারেক রহমানের জন্মদিন পালন করেন বিএনপির প্রবাসী নেতারা।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সরকার ক্ষমতায় আসার পর আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়াকে বিনা কারণে সাজা দিয়ে আটক করে রাখা হয়েছে। ৩৫ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। হত্যা করা হচ্ছে, গুম করা হচ্ছে। তারপরও দেখেন মানুষের স্বাধীনতার জন্য, মুক্তির জন্য কতটা আবেগ, কতটা আকুতি। কেউ থেমে থাকছে না। শত বাধাবিপত্তি উপেক্ষা করে মানুষ একাত্মতা ঘোষণা করছে মুক্তির আন্দোলনে। এই লড়াইয়ে আমাদের জয়ী হতে হবেÑএর কোনো বিকল্প নাই। আপনাদের অনুরোধ করব, সবাই ঐক্যবদ্ধ হোন, ঐক্যবদ্ধ হয়ে জীবন বাজি রেখে এই সংগ্রামে নেমে পড়েন।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের নেতার সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘজীবন ও তার সঠিক নেতৃত্বের দিকে গোটা বাংলাদেশের মানুষ তাকিয়ে আছে। কারণ বর্তমান সরকার দেশের রাজনীতিকে পুরোপুরিভাবে একটা নতজানু রাজনীতিতে পরিণত করেছে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে বিপন্ন করেছে, গণতন্ত্রকে ধবংস করে দেওয়ার যে হীন চক্রান্ত, সেই চক্রান্ত থেকে মুক্তি পাওয়ার বিষয়ে জনগণের মধ্যে যে একটা আকাক্সক্ষার সৃষ্টি হয়েছে।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘চলমান আন্দোলনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, মুন্সীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, ভোলা, যশোরে দলের সাতজন নেতা-কর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। তারা জীবন উৎসর্গ করে দিয়েছেন বাংলাদেশের মানুষের মুক্তির জন্য। আর এই মুক্তি আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারেক রহমান। তিনি নিজেও নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশ ছেড়ে বর্তমানে লন্ডনে অবস্থান করছেন। তিনি আমাদের অনুপ্রাণিত করছেন প্রতি মুহূর্তে।’
১৯৬৫ সালের ২০ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন তারেক রহমান। ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি সেনা সমর্থিত সরকারের আমলে ৭ মার্চ তিনি গ্রেপ্তার হন। পরের বছর উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য স্ত্রী জোবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমানকে নিয়ে লন্ডনে যান তিনি। তার বিরুদ্ধে মোট ১২টি মামলা করা হয়। তারেক রহমান ১৯৮৮ সালে বগুড়ার গাবতলীতে বিএনপির প্রাথমিক সদস্য পদ পান। ১৯৯১ সালে তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ২০০৯ সালে পঞ্চম কাউন্সিলে তাকে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হয়। ষষ্ঠ কাউন্সিলেও তিনি পুনরায় সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর দলের হাল ধরেন তারেক রহমান। তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে বর্তমানে দলকে পরিচালিত করছেন বিদেশে থেকে।
তারেকের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া : বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে অংশ নিতে আসা নেতাকর্মীদের দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল রবিবার সকালে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে কয়েক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। ভোলার চরফ্যাশন থানা যুবদলের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তারেক রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় স্বেচ্ছাসেবক দল এক দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করে। মিলাদ চলাকালে ভোলার চরফ্যাশন থানা থেকে আগত যুবদলের নেতাকর্মীরা কার্যালয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কার্যালয়ে উপস্থিত নেতাকর্মীরা তাদের শান্ত করার উদ্যোগ নেন। কিন্তু চরফ্যাশনের যুবদল নেতাকর্মীরা তাদের ওপরও হামলা করেন। ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনাও ঘটে। এতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশের হস্তক্ষপে চরফ্যাশনের নেতাকর্মীরা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে থেকে চলে গেলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
যুবদলের নেতারা জানিয়েছেন, গত ১৪ নভেম্বর চরফ্যাশন থানা যুবদলের কমিটি ঘোষণা করেন কেন্দ্রীয় নেতারা। তবে এর বিরোধিতা করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য নাজিম উদ্দিন আলমের সমর্থিত নেতাকর্মীরা। কমিটির জের ধরে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
যুবদলের সহসভাপতি নুরুল ইসলাম নয়ন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘চরফ্যাশনের যুবদলের কমিটির জের ধরে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। অবশ্য তাদের কোনো অভিযোগ থাকলে তারা কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলতে পারতেন। কিন্তু তারা তা না করে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে আয়োজিত দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে হামলা করেছেন। এ ঘটনা দুঃখজনক।’
পরে একই স্থানে বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এক দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংঘর্ষের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি শুধু একটা অনুরোধ করব, যারা শহীদ জিয়ার রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন তারা দয়া করে ছোটখাটো বিষয় নিয়ে নিজেদের মধ্যে এখন কোনো সংঘাত সৃষ্টি করবেন না। খুব কষ্ট হয়, একদিকে আমার ভাইয়ের বুলেটবিদ্ধ মৃতদেহ (ছাত্রদলের নেতা নয়ন) পড়ে আছে মর্গের মধ্যে। আর আপনারা কমিটির জন্য এখানে হামলা করেন। দিস ইজ টু মাচ। এটা আমি কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না। আমি অনুরোধ করব এখানে রিজভী সাহেব (বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী) আছেন। নাম-ঠিকানা বের করে অবিলম্বে তাদের দল থেকে বহিষ্কারের সমস্ত ব্যবস্থা নিতে হবে।’
