ফাইটার বিমানের পাহাড়ায় পোল্যান্ড দল এসেছে কাতারে। এভাবে আসার কারণটা অবশ্য ভিন্ন। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে পোল্যান্ড পুতিনের দেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। তাই পোলিশদের এমন নিরাপত্তা ব্যবস্থা দিয়ে পাঠায় তাদের সরকার। দেশের সরকার তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে, এবার পোলিশদের দেশবাসীকে খুশি করার পালা। আজ সি গ্রুপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে পোল্যান্ড মুখোমুখি হবে মেক্সিকোর। পোলিশরা চাইবে ১৯৭৮ ফিরিয়ে আনতে।
তবে পোল্যান্ডের কাজটা সহজ হবে না। মেক্সিকো গেল সাত আসরেই শেষ ষোলোতে গেছে। পোল্যান্ড সব শেষ গ্রুপ পর্ব পেরিয়েছে ১৯৮৬ তে। মেক্সিকো কনকাকাফ অঞ্চলে দ্বিতীয় হয়ে পেয়েছে চূড়ান্তপর্বে খেলার টিকিট। পোল্যান্ড কাতার বিশ্বকাপের টিকিট পেয়েছে ইউরোপীয় অঞ্চলের প্লে-অফ খেলে।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে ফর্ম তেমন ভালো যাচ্ছে না মেক্সিকো ও পোল্যান্ড দু’দলেরই। শেষ ৬ ম্যাচে দুই জয়, এক ড্র, তিন হার তাদের। জয় দুটি ইরাক ও পেরুর বিপক্ষে। পোলিশদেরও দুই জয়, এক ড্র ও তিন হার।
৪৪ বছর আগে অর্থাৎ ১৯৭৮ বিশ্বকাপে পোল্যান্ড ও মেক্সিকো মুখোমুখি হয়েছিল গ্রুপ পর্বে। সেই ম্যাচে পোল্যান্ড ৩-১ গোলে হারিয়েছিল মেক্সিকোকে। গ্রুপের শেষ ম্যাচ ছিল সেটি। পোল্যান্ড জিতে উঠেছিল দ্বিতীয় রাউন্ডে। এবার শুরুতেই মুখোমুখি হচ্ছে দল দুটি। বিশ্বকাপে ওই একবারই মুখোমুখি হয়েছিল পোল্যান্ড ও মেক্সিকো। এই দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ে সমান সমান। ৮ ম্যাচের তিনটি করে জয় দুই দলের। ড্র দুই ম্যাচ। সবশেষ দেখায় ২০১৭ সালে মেক্সিকো ১-০ গোলে হারিয়েছিল পোল্যান্ডকে।
দুই দলের ফরোয়ার্ড লাইনে মিলছে লড়াইয়ের আভাস। রবার্ট লেভাডনফস্কি বার্সেলোনার হয়ে মৌসুমে ১৯ ম্যাচে করেছেন ১৮ গোল। পোলিশদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতাও লেভা। মোট গোল ৭৬টি। তবে বিশ্বকাপে গোলের খাতা খুলতে পারেননি লেভানডফস্কি। ২০১৮-তে খেলেছিলেন ৩ ম্যাচ। মেক্সিকোর বর্তমান স্কোয়াডে সর্বোচ্চ গোলদাতা রাউল জিমেনেজ। করেছেন ২৯ গোল। তবে শুরুর একাদশে তার মাঠে নামা নিয়ে আছে শঙ্কা। সবশেষ সুইডেনের বিপক্ষে ম্যাচে তাকে বদলি হিসেবে নামানো হয়েছিল। সঙ্গে মিডফিল্ডে আছেন অভিজ্ঞ আন্দ্রেস গুয়ার্দাদো। তিনি করেছেন ২৮ গোল।
মেক্সিকোর গোলকিপার ৩৭ বছর বয়সী গোলকিপার গুইলেরমো ওচোয়ার দিকে থাকবে বাড়তি নজর। বিশ্বকাপে গোলবারের নিচে দারুণ পারফরমেন্স করার রেকর্ড আছে তার। কনকাকাফ অঞ্চলের দলটিতে আছেন এবারের বিশ্বকাপে জ্যেষ্ঠতম খেলোয়াড় গোলকিপার আলফ্রেদো তালাভেরা। অবশ্য তার শুরুর একাদশে না থাকার সম্ভাবনাই বেশি।
মেক্সিকোর আছে নিজ মহাদেশীয় শিরোপা জেতার অভিজ্ঞতা। পোলিশদের এমন কোনো অর্জন না থাকলেও বিশ্বকাপে দুবার (১৯৭৪, ১৯৮৩) তৃতীয় হয়েছে তারা। বিশ্বকাপে মেক্সিকোর সেরা সাফল্য ১৯৭০-এ কোয়ার্টার খেলা।
বিশ্বকাপ বাছাইয়ের প্লে-অফের সেমিতে পোল্যান্ডের প্রতিপক্ষ ছিল রাশিয়া। তবে ফিফার নিষেধাজ্ঞা থাকায় ওয়াকওভার পেয়ে পরবর্তী ধাপে যায় পোল্যান্ড। সেখানে তারা সুইডেনকে হারায়।
