গ্রেটেস্ট শো আন আর্থ হিসেবে খ্যাত বিশ্বকাপ ফুটবল। প্রতি চার বছর অন্তর বিশ্বকে যেন এক ছাদের নিচে নিয়ে আসে। এসব বিশ্বকাপে হয় কত-শত রেকর্ড। যেখানে আবার বহু খেলোয়াড় সাক্ষী হন অনেক প্রথমের। যেমনটা লুসিয়ান লরেন্টের নাম। বিশ্বকাপের অভিষেক আসরে গোল করে ইতিহাসের পাতায় উঠেছে তার নাম। এবার কাতারে শুরু হওয়া বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে গোল করেছেন ইকুয়েডর অধিনায়ক এনার ভ্যালেন্সিয়া।
রাজধানী দোহার আল খোরের আল বাইয়াত স্টেডিয়ামে ম্যাচের ১৬ মিনিটে আসরের প্রথম গোলটি করে ইতিহাসের পাতায় নাম লেখান তিনি। তার জোড়া গোলে শেষ পর্যন্ত স্বাগতিক কাতারকে ২-০ গোলে হারায় ইকুয়েডর।
বিশ্বকাপের ৯২তম বর্ষে ২২তম আসরের প্রথম গোলটি খোদাই করা হয়েছে ভ্যালেন্সিয়ার নামে। যেমনটা হয়েছে ফরাসি ফরোয়ার্ড লুসিয়ান লরেন্টের নাম। সেটা বিশ্বকাপের অভিষেক আসরে। সাল ১৯৩০, দিনটি ছিল ১৩ জুলাই। উরুগুয়েতে বিশ্বকাপের ইতিহাসের প্রথম ম্যাচটিতে মুখোমুখি হয়েছিল ফ্রান্স ও মেক্সিকো। পসিটস স্টেডিয়ামে ম্যাচের ১৯ মিনিটে গোল পান ফরাসি ফরোয়ার্ড লুসিয়ান লরেন্ট। সে ম্যাচে ৪-১ গোলে হেরেছিল মেক্সিকো।
১৯৩৪ ইতালি বিশ্বকাপে আলাদা করে কোনো উদ্বোধনী ম্যাচ ছিল না। ২৭ মে একই সময়ে শুরু হওয়া ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল ১৬ দল। বোলনিয়ায় আর্জেন্টিনা-সুইডেনের ম্যাচে ৪ মিনিটের মাথায় প্রথম গোলটি পান আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার বেলিস। তবে ম্যাচটি ৩-২ গোলে হেরেছিল তার দল।
১৯৩৮ ফ্রান্স বিশ্বকাপে ৪ জুন উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল সুইজারল্যান্ড-জার্মানি। সে ম্যাচের ২৯ মিনিটে গোল পান জার্মান স্ট্রাইকার গাউসেল। ১-১ গোলে ড্র হয়েছিল ম্যাচটি।
১৯৫০ উদ্বোধনী ম্যাচটি হয়েছিল ব্রাজিলের বিখ্যাত মারাকানা স্টেডিয়ামে। স্বাগতিকদের মুখোমুখি হয়েছিল মেক্সিকো। ম্যাচের ৩০ মিনিটের মাথায় ব্রাজিলের স্ট্রাইকার আদেমি প্রথম গোল পান। ৪-০ গোলে জিতে তার দল।
১৯৫৪ সুইজারল্যান্ড বিশ্বকাপের উদ্বোধনী দিনে একই সময়ে ব্রাজিল-মেক্সিকো ও যুগোশ্লাভিয়া-ফ্রান্স মুখোমুখি হয়েছিল। ম্যাচের ১৫ মিনিটের মাথায় ফ্রান্সের বিপক্ষে গোল পান যুগোশ্লাভিয়ার স্ট্রাইকার বোরা মিলুতিনোভিচ। ১-০ গোলে জেতে তার দল।
১৯৫৮ সুইডেন বিশ্বকাপে ৮ জুন উদ্বোধনী দিন দুইটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। আর্জেন্টিনা-জার্মানির ম্যাচে খেলার মাত্র ৪ মিনিটের মাথায় গোল করেন আর্জেন্টাইন উইঙ্গার করবাট্টা। তবে শেষ পর্যন্ত ৩-১ গোলে তারা ম্যাচটি হেরে যায়।
১৯৬২ চিলি বিশ্বকাপে ৩০ মে উদ্বোধনী ম্যাচে অংশ নেয় উরুগুয়ে-কলম্বিয়া। ম্যাচের ১৯ মিনিটে কলম্বিয়ার সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার জুলুয়াগা প্রথম গোল পেলেও উরুগুয়ের কাছে হেরে যায় ২-১ গোলে।
১৯৬৬ ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে অংশ নিয়েছিল স্বাগতিক ইংল্যান্ড ও প্রথম বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ের ম্যাচটি ছিল গোলশূন্য। ১৩ জুলাই ফ্রান্স-মেক্সিকোর মধ্যে অনুষ্ঠিত ১-১ গোলে ড্র হওয়া ম্যাচটিতে ৪৮ মিনিটে প্রথম গোল দেন মেক্সিকোর ফরোয়ার্ড বোরজা।
১৯৭০ মেক্সিকো বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে অংশ নিয়েছিল স্বাগতিক মেক্সিকো ও সোভিয়েত ইউনিয়ন। ম্যাচটি ড্র হয় গোলশূন্য এ বিশ্বকাপের প্রথম গোলটি হয় উরুগুয়ে-ইসরায়েল ম্যাচে। ২-০ গোলে জয়ী উরুগুয়ে ম্যাচের ২৩ মিনিটে এ বিশ্বকাপের প্রথম গোল করেন উরুগুইয়ান মিডফিল্ডার ইলডো মানেইরো।
১৯৭৪ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল স্বাগতিক পশ্চিম জার্মানি ও চিলি। ম্যাচের ১৮ মিনিটে জার্মানির মিডফিল্ডার পল ব্রেইথনার প্রথম গোল দেন। জার্মানি ম্যাচটি জিতে নেয় ১-০ গোলে।
১৯৭৮ আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হয় ইতালি-ফ্রান্স। ম্যাচের প্রথম মিনিটে ফ্রান্সের ফরোয়ার্ড লাকুম্বে গোল পান। তবে ২-১ গোলে হেরে যায় তার দেশ।
১৯৮২ স্পেন বিশ্বকাপের ইতালি-পোলান্ডের উদ্বোধনী ম্যাচটি ছিল গোলশূন্য ড্র। পরদিন পেরু-ক্যামেরুনের ম্যাচটি ছিল গোলশূন্য ড্র। তৃতীয় দিন জার্মানি-আলজেরিয়ার ম্যাচে আলজেরিয়ার স্ট্রাইকার মাদজের ৫৪ মিনিটে ওই বিশ্বকাপের প্রথম গোল পান। তার দেশ ম্যাচটি জিতে যায় ২-১ গোলে।
১৯৮৬ মেক্সিকো বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল ইতালি-বুলগেরিয়া। ১-১ গোলে ড্র ম্যাচটির ৪৪ মিনিটে ইতালির স্ট্রাইকার আলেসান্দ্রো আলতোবেল্লি প্রথম গোল করেন।
১৯৯০ ইতালি বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে অংশ নেয় আর্জেন্টিনা-ক্যামেরুন। মিলানের সান সিরো স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচটি ১-০ গোলে জিতে নেয় ক্যামেরুন। ম্যাচের ৬৭ মিনিটে একমাত্র গোলটি পান ক্যামেরুনের ওমাম বিয়িক।
১৯৯৪ যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হয় ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন জার্মান-বলিভিয়া। ৬১ মিনিটে জার্মানির স্ট্রাইকার ইয়ুরগন ক্লিন্সম্যান গোল দেন এবং তার একমাত্র গোলে জার্মান জিতে যায়।
১৯৯৮ ফ্রান্স বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে লড়ে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল ও স্কটল্যান্ড। ম্যাচের ৫ মিনিটের মাথায় গোল করেন ব্রাজিলের ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার সিজার সাম্পাইও। ম্যাচটি ২-১ গোলে জেতে ব্রাজিল।
জাপান-কোরিয়া বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে ঘটেছিল অঘটন। ২০০২ সালের ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সকে ১-০ গোলে হারিয়ে দেয় নতুন দল সেনেগাল। ৩০ মিনিটের মাথায় একমাত্র গোলটি করেন সেনেগালের ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার পাপা বৌবা দিওপ।
২০০৬ বিশ্বকাপে স্বাগতিক জার্মানি ও কোস্টারিকার ম্যাচটি ছিল টানটান উত্তেজনায় ভরা। জার্মানির ৪ গোলের বিপরীতে কোস্টারিকা পরিশোধ করে দুটি। ম্যাচের ৬ মিনিটের মাথায় প্রথম গোলটি করেন জার্মানির তখনকার দুর্দান্ত ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার ও বর্তমানে দেশটির কোচ ফিলিপ লাম।
২০১০ দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচটি ড্র হয় ১-১ গোলে। ম্যাচের ৫৫ মিনিটে মেক্সিকোর বিরুদ্ধে প্রথম গোলটি করেন দক্ষিণ আফ্রিকার মিডফিল্ডার সাবালালা।
২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচটি স্মরণীয় হয়ে আছে আত্মঘাতী গোলের কারণে। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে নিজেদের জালে বল পাঠিয়ে ওই বিশ্বকাপের প্রথম গোলটি করেন ব্রাজিলের লেফট উইঙ্গার মার্সেলো। অবশ্য ২৯ মিনিটের মাথায় দলীয় প্রথম গোলটি করেন হাল আমলের অন্যতম পারফরমার নেইমার। ব্রাজিল ম্যাচটি জেতে ৩-১ গোলে।
২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে উদ্বোধনী ম্যাচে স্বাগতিকদের মুখোমুখি হয়েছিল সৌদি আরব। মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামের সে ম্যাচে ৫-০ গোলে জয়ী হয়েছিল প্রাক্তন সোভিয়েত ইউনিয়নের দেশটি। সেই ম্যাচের ১২ মিনিটে প্রথম গোলটি করেছিলেন যুরি গ্যাজিনস্কি।
