বিশ্বকাপ ফুটবলের প্রতিটি ম্যাচে উত্তেজনা ছড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে আরও কিছু জিনিস ছড়িয়ে যায় গ্যালারিজুড়ে, এগুলো হলো দর্শকদের ফেলে যাওয়া আবর্জনা। আধা খাওয়া খাবার, কাপ, মোড়ক কিংবা টিস্যু পেপার পড়ে থাকে এখানে-সেখানে। এবারের বিশ্বকাপেও স্বাগতিক কাতার ও ইকুয়েডরের উদ্বোধনী ম্যাচের পর আল-বায়েত স্টেডিয়ামের গ্যালারির অবস্থা এ রকম রেখেই দর্শকরা যার যার মতো বেরিয়ে যান। কিন্তু সবাই নন। কয়েকজন দর্শককে দেখা যায় গ্যালারির ভেতর ছড়ানো-ছিটানো আবর্জনাগুলো সঙ্গে থাকা বড় ব্যাগে তুলছেন। তাদের দিকে এগিয়ে যান বাহরাইনের সুপরিচিত ইউটিউবার ওমর আল-ফারুক। একজনকে জিজ্ঞেস করেন, ‘এসব কেন করছেন?’ জবাবে স্মিত হেসে সেই ফুটবলভক্ত উত্তর দেন, ‘আমরা জাপানি, আর জাপানিরা কোথাও আবর্জনা ফেলে যায় না, আমরা একটি জায়গার মর্যাদা বুঝি।’ এদিন জাপানের ফুটবল দলের খেলা না থাকলেও উদ্বোধনী ম্যাচ দেখতে মাঠে হাজির ছিলেন সামুরাই ব্লুুর ভক্তরা। ওমরের ভিডিওতে দেখা যায়, তাদের কয়েকজন গ্যালারিতে পড়ে থাকা ছোট ছোট পতাকা সযত্নে তুলছেন। তাদের একজন বলেন, ‘পতাকার প্রতি শ্রদ্ধাটাও থাকা উচিত।’
সামাজিক মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করা ওমরের এই ভিডিওতে অনেকেই পরিচ্ছন্নতার উদাহরণ হয়ে ওঠা সামুরাই ব্লু ভক্তদের ধন্যবাদ জানিয়েছে, শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। জাপানের ফুটবল দল সামুরাই ব্লু নামে পরিচিত। গত কয়েকটি বিশ্বকাপে নীল সামুরাইরা যে দেশেই খেলতে গেছে, সেখানেই দলের ভক্ত, জাপানি দর্শকরা পরিচ্ছন্নতার নজির স্থাপন করে গেছেন। ২০১৪, ২০১৮ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ আসরে পরিচ্ছন্নতার জন্য গণমাধ্যমে আলোচনায় এসেছিল সামুরাই ব্লু এবং তাদের ভক্তরা। এসব আসরে জাপানের খেলা শেষে সমর্থকদের স্টেডিয়াম পরিষ্কার করার ঘটনা বিশ্বকে আলোড়িত করেছিল। খেলোয়াড়রাও ড্রেসিংরুম ছাড়ার আগে সেটি পরিষ্কার করে রেখেছিলেন। সে বছর জাপানিদের এই পরিচ্ছন্নতার কথা তুলে ধরে ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসিকে জাপানভিত্তিক ক্রীড়া সাংবাদিক স্কট ম্যাক্লান্টায়ার বলেছিলেন, ‘এটা কেবল জাপানি ফুটবল সংস্কৃতি নয়; বরং গোটা জাপানের সংস্কৃতি। অনেকে বলে, ফুটবল বিশ্বকাপের মতো আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরে খেলার সঙ্গে সঙ্গে একেকটি দেশের সংস্কৃতিও প্রতিফলিত হয়। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা জাপানি সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ, ক্রীড়াক্ষেত্রে, বিশেষ করে ফুটবলের মাঠেও এর ব্যতিক্রম হয় না।’ তারা আসলে ফুটবল মাঠে পরিচ্ছন্নতা-সংস্কৃতির পথপ্রদর্শক, গত ফুটবল বিশ্বকাপে সেনেগালের ভক্তদেরও তাদের অনুসরণ করতে দেখা যায়।
