বিশ্বকাপের ৯২ বছরের ইতিহাসের এত বড় অঘটন আর ঘটেনি। লুসাইল সিটি স্টেডিয়ামে সেই অঘটনের জন্ম দিয়ে আর্জেন্টিনার পথে কাঁটা বিছিয়ে দিয়েছে সৌদি আরব। গত দেড় দশক বাঁ পায়ের জাদুতে ফুটবল দুনিয়াকে মোহিত করে রাখা লিওনেল মেসির শেষের শুরুটা এভাবে হবে, কারই প্রত্যাশা ছিল না। তবে এটাই ফুটবল। আর মেসির কাছেও এই একটা হারই শেষ নয়। অপ্রত্যাশিত হারের হতাশা সামলে আর্জেন্টাইন অধিনায়ক বললেন বিশ্বাস রাখতে। কথা দিলেন পরের দুই ম্যাচ জিতে দলকে দ্বিতীয় পর্বে নিয়ে যাবেন।
মেসিতে বিশ্বাস না রেখে যে উপায় নেই। যার ছোঁয়ায় বদলে গিয়ে আর্জেন্টিনা গত বছর জিতেছে কোপা আমেরিকা, সেই কোচ লিওনেল স্কালোনিতেও আস্থা হারালে চলবে না। মেক্সিকো আর পোল্যান্ড বাধা পেরুতে হলে তাদের দিকেই তাকিয়ে থাকতে হবে। নইলে না পারা ও না পাওয়ার দীর্ঘশ্বাসটা আরও ভারী হবে। ৩৬ বছর আগে জেতা বিশ্বকাপের অপেক্ষাটা হবে দীর্ঘতর। সম্ভাবনাটাও যেন কমে যাবে অনেকটা। কে জেতাবেন ২০২৬ বিশ্বকাপ? আর্জেন্টিনার প্রাণভোমরা মেসি তো এখনই বলছেন ইতি টানার কথা। মহানায়কের শেষের শুরুতে সৌদি আরব দিয়েছে জোর ধাক্কা। তাতে টালমাটাল আর্জেন্টাইন শিবির। যে দলটি হারতেই ভুলে গিয়েছিল গেল তিন বছর, এক হারে সব হারানোর রব যাতে না ওঠে তাই মেসি আগ বাড়িয়েই বললেন ‘এখনই সব শেষ হয়ে যায়নি।’
যদিও এমন হারের পর ম্যাচ শেষের সংবাদ সম্মেলনে মেসির আসা-না আসা নিয়ে একটা গবেষণা হয়ে গেল হতাশ একদল আর্জেন্টাইন সাংবাদিকের মধ্যে। অনেকেই মেসির না আসার পক্ষে রায় দিলেন। তবে মেসি এলেন। আগের সন্ধ্যার মতো হাসিমুখে নয়। হাসিটা উধাও হলেও অবিশ্বাসের কিংবা শঙ্কার ছাপটা ঠিক দেখা যায়নি চোখে-মুখে। হতাশায় মুষড়ে পড়া পরাজিত সেনাপতি হতে চাননি তিনি। বরং যুদ্ধের ময়দানে একটু পিছিয়ে পড়ে শক্তি বাড়িয়ে ঝাঁপাবার কথাই বলেছেন তিনি। শুরুতে অবশ্য হতাশাটা লুকিয়ে রাখেননি, ‘এটা প্রত্যেকের জন্যই বড় ধাক্কা। এভাবে শুরু করতে আমরা চাইনি। তবে মানুষকে বিশ্বাস রাখতে হবে আমাদের ওপর। আমরা এত সহজে হার মানার মতো দল নই। এখন আমাদের সামনের দুই ম্যাচ নিয়েই যত ভাবনা। এই দুই ম্যাচের ওপর নির্ভর করছে সবকিছু।’
এই বিশ্বকাপটা মেসির জন্য বিশেষ কিছু। মর্যাদার শিরোপা জয়ের শেষ সুযোগ বলেই মেসির এমন হার মেনে নেওয়া কষ্টের। ৩৬ বছর বয়সে তিনি ঠিকই তো নিজের কাজটা করেছেন। তবে অপেক্ষাকৃত তরুণ সতীর্থদের কেন দায়িত্বে গাফিলতি? আর্জেন্টিনা অধিনায়ক দোষারোপের পথে হাঁটার মানুষ নন। বরং আগলে রাখলেন সতীর্থদের। সাহস দিয়ে বললেন ‘এই হার আমাদের কাজটা অনেক কঠিন করে দিয়েছে ঠিক, তবে এটাও ঠিক এরকম পরিস্থিতি মোকাবিলার অভিজ্ঞতা আমাদের আছে। আমাদের দলটা খুব ঐক্যবদ্ধ। এখন আগের চেয়ে আরও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। অনেক দিন আমরা এরকম পরিস্থিতিতে পরিনি। তাই হারটা আমাদের আরও সংগঠিত করবে। এখন আমাদের প্রস্তুত হতে হবে মেক্সিকো ম্যাচের জন্য।’
