লিওনেল মেসির শেষ বিশ্বকাপ মিশনের শুরুটা কেমন হবে? এ নিয়ে হয়তো অনেকেই নিজের মতো করে ভেবে রেখেছিলেন সৌদি আরবের বিপক্ষে জিতবে আর্জেন্টিনা, মেসি গোল করবেন। মেসি শুরুতে গোল পেলেন ঠিকই। তবে বাকিটা যে আর মিলল না। সৌদি আরবের কাছে হার দিয়ে মেসির শেষের গল্পের শুরুটা হলো বিষাদের।
কাতারে পঞ্চমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে এসেছেন মেসি। চার বছর আগে আইসল্যান্ডের বিপক্ষে ড্র করে শুরু করছিল আর্জেন্টিনা। তবে এবার বিশ্বকাপের শুরুটা তারা করেছিল টানা ৩৬ ম্যাচ অপরাজিত থেকে। তাই বিশ্ব র্যাংকিংয়ে ৫১ নম্বরে থাকা সৌদির বিপক্ষে আলবিসেলেস্তেদের হার অনেক ফুটবল বোদ্ধাই হয়তো ভাবেননি। মেসির সতীর্থ লাউতারো মার্তিনেজ বলেন, ‘মেসির দারুণ ক্যারিয়ারে এটি আঘাত হয়ে এসেছে। আমরা ম্যাচটি হেরেছি নিজেদের ভুলে।’ মেসির সতীর্থ জানালেন নিজেদের ভুলে ম্যাচ হেরেছে আর্জেন্টিনা। তবে মেসি নিজে কি ভুল করেছেন? ম্যাচের দশম মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করেন মেসি। ওই গোলেই প্রথমার্ধে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় লিওনেল স্কালোনির দল।
প্রথমার্ধের ২২ থেকে ৩৫ মিনিটের মধ্যে আর্জেন্টিনার তিনটি গোল বাতিল হয় অফসাইডের কারণে। ২২ মিনিটে মেসিই বল জালে পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু অফসাইডে ছিলেন তিনি। ম্যাচ শুরুর দ্বিতীয় মিনিটেই মেসির শট রুখে দেন সৌদি আরবের গোলকিপার। ৮০ মিনিটে মেসির শট বারের উপর দিয়ে যায়। চার মিনিট পর সৌদি আরবের গোলকিপার আল ওয়াইস আবারও মেসিকে হতাশ করেন। আর্জেন্টিনা অধিনায়কের লাফিয়ে ওঠা হেড ঠেকান।
দল হারলেও মেসির খেলায় খুঁত খুজে পাওয়া কঠিনই হবে। শুরুতে দলকে এগিয়ে দিয়ে রেকর্ডও গড়েন মেসি। প্রথম আর্জেন্টাইন হিসেবে করেছেন চার বিশ্বকাপ আসরে গোল। এ ছাড়া ৩৭ বছরের মেসি দ্বিতীয় বয়োজ্যেষ্ঠ হিসেবে বিশ্বকাপে গোল পেলেন। এর আগে ২০১০ বিশ্বকাপে মাটিন পালেরমোও ৩৭ বছর বয়সে গোল করেছিলেন।
সৌদি আরবের বিপক্ষে ম্যাচের আগে মেসি সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, ‘সম্ভবত এটিই আমার শেষ বিশ্বকাপ। আমার ও আমাদের স্বপ্ন পূরণের এটিই শেষ সুযোগ।’ স্বপ্ন পূরণের সেই সুযোগের শুরুতেই ধাক্কা খেল মেসি ও তার দল।
