বিনামূল্যে বিতরণের জন্য সরকারের দেওয়া প্রাথমিক স্তরের পাঠ্যবই ও শিক্ষাসহায়ক উপকরণ কেজি দরে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নেত্রকোনার বারহাট্টার মনকান্দিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শোভনা আচার্যের বিরুদ্ধে। তিনি নিজের বিদ্যালয়ের চলতি শিক্ষাবর্ষের অব্যবহৃত ৬০ কেজি বই ও শিক্ষাসহায়ক উপকরণ ভাঙারি দোকানির কাছে প্রতি কেজি ৩০ টাকা দরে বিক্রি করেছেন বলে তথ্য মিলেছে। তবে প্রধান শিক্ষক শোভনা আচার্যের দাবি তিনি বই নয়, স্কুলের কিছু খাতা বিক্রি করেছেন। যদিও ভাঙারির দোকানিরা বই কেনার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
জানা গেছে, মনকান্দিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অব্যবহৃত ৬০ কেজি বই কিনেছেন স্থানীয় দুই ভাঙারি দোকানি শরীফ ও রায়হান। তারা বই কেনার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, স্কুলের শিক্ষকরা বইগুলো বিক্রি করেছেন। তবে বিক্রয়কারী শিক্ষকদের নাম তারা জানেন না বলে দাবি করেন।
বই বিক্রির অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মনকান্দিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শোভনা আচার্য বলেন, ‘আমি বই বিক্রি করিনি। কিছু খাতা বিক্রি করেছি।’ তবে খাতা নয়, ভাঙারি দোকানির কাছে বই বিক্রির বিষয়ে বইগুলোর ক্রেতা ভাঙারি ব্যবসায়ীদের বক্তব্যের ভিডিও ক্লিপ এই প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত আছে জানালে তিনি এসব মিথ্যা বলে দাবি করেন।
অবশ্য শোভনা আচার্য বই বিক্রির অভিযোগ অস্বীকার করলেও কিছুক্ষণ পরেই এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে তার হয়ে এই প্রতিবেদকের মোবাইল ফোনে কল করেন উপজেলার হাজীগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুবি আক্তার। প্রধান শিক্ষক শোভনা আচার্যকে বান্ধবী দাবি করে তিনি বলেন, ‘বই বিক্রির অভিযোগ মিথ্যা।’ একই সঙ্গে প্রতিবেদন প্রকাশ না করতে পীড়াপীড়ি করেন। তবে বই বিক্রির প্রমাণ সংক্রান্ত ভিডিও ক্লিপ এই প্রতিবেদকের কাছে আছে জানালে তিনিও তা মিথ্যা বলে দাবি করেন। এছাড়া প্রতিবেদন প্রকাশ না করে ‘এক সময় বসে চা খেয়ে বিষয়টি সমাধানের’ প্রস্তাব দেন।
বিনামূল্যে বিতরণের পাঠ্যবই ও শিক্ষাসহায়ক উপকরণ বিক্রির বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে বারহাট্টা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বিনয় চন্দ্র শর্মা বলেন, ‘স্কুলের বই শিক্ষকদের বিক্রি করার নিয়ম নেই। সেই বই পুরনো বা নতুন যেমনই হোক। এ বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মনকান্দিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে বই বিক্রি করা হয়েছে এমন খবর পেয়ে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাকে তদন্তের জন্য পাঠিয়েছি। ঘটনা সত্য হলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রহুল আমিন বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। আপনার কাছে তথ্য-প্রমাণ থাকলে দিয়ে সহায়তা করেন।’ বই গ্রহণ ও বিতরণের রেজিস্টার মিলিয়ে দেখলেই বই লোপাটের অভিযোগের সত্যতা মিলবে জানালে এই শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, ‘চেক (মিলিয়ে দেখা) করা হচ্ছে। প্রমাণ পেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
নেত্রকোনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তাহমিনা খাতুনের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে ভাঙারি দোকানে থাকা বই ও দোকানির বক্তব্যের ভিডিও ক্লিপ পাঠানো হলে তিনি দেখেন এবং পরে এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে তদন্ত করতে নির্দেশ দেন বলে জানা গেছে। তবে বক্তব্য নেওয়ার জন্য তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও রিসিভ করেননি।
