২০০৬ সালের পর রাশিয়া বিশ্বকাপ পর্যন্ত ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন গ্রুপ পর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচে জিততে পারেনি। এমনকি গ্রুপপর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছে তারা। ফ্রান্স বর্তমান চ্যাম্পিয়ন। বিশ্বকাপ শুরুর আগে থেকেই অনেকের মনে প্রশ্ন ছিল ফ্রান্স কী করবে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের শুরুতে গোলও হজম করে ফরাসিরা। তখন হয়তো ফ্রান্সের বহু সমর্থকের মনের কোণে ভয় ঢুকেছিল, তাহলে কি ফ্রান্সও...। তবে এমনটি হয়নি। ফ্রান্স ঘুরে দাঁড়িয়ে ঠিকই ম্যাচ জিতেছে। জোড়া গোল করে সমালোচনাকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়েছেন অলিভিয়ের জিরু। সঙ্গে রাবিও ও এমবাপ্পের গোলে ফরাসিদের জয়টা ৪-১ গোলে। ফ্রান্সকে জিতিয়ে থিয়েরি অঁরির রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছেন জিরু।
করিম বেনজেমা সুস্থ থাকলে হয়তো শুরুর একাদশে জায়গা পেতেন না জিরু। ২০১৮ বিশ্বকাপে জিরু খেলেছিলেন সব ম্যাচই। চার ম্যাচে মাঠে ছিলেন পুরো সময়। কিন্তু কোনো গোল পাননি। ফ্রান্স বিশ্বকাপ জিতলেও কোনো না পাওয়ায় সমালোচনা শুনতে হয়েছিল জিরুকে। পরে নানা ট্রলের শিকারও হন তিনি। তবে ফরাসি কোচ দিদিয়ের দেশম সব সময়ই ভরসা রেখেছিলেন জিরুর ওপর। জিরু যোগ্যতা বলেই আছেন ২০২২ বিশ্বকাপ স্কোয়াডে। এসি মিলানের হয়ে ১৯ ম্যাচে ৯ গোল, ৫ অ্যাসিস্ট করেন। কাতারে জিরু প্রথম ম্যাচেই জোড়া গোলে যেন দিলেন চার বছর আগের সমালোচনার জবাবটা।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের ২৭ মিনিটে হার্নান্দেজের বক্সের মুখে বাড়ানো ক্রসে হেডে সমতা টানেন মিডফিল্ডার রাবিও। পাঁচ মিনিট পর দলকে এগিয়ে দেন জিরু। বল পেয়ে বক্সে ঢুকে রাবিও দেন পেনাল্টি স্পটের কাছে। অনায়াসে প্লেসিং শটে ঠিকানা খুঁজে নেন। এটি ছিল ফ্রান্সের হয়ে জিরুর ৫০তম গোল। ৬৮ মিনিটে বক্সের বাঁদিক থেকে দেম্বেলের বুদ্ধিদীপ্ত ক্রস থেকে হেডে দলের তৃতীয় গোলটি করেন এমবাপ্পে। তিন মিনিট পর আবারও জিরু গোল করেন। তিন মিনিট পরই রেকর্ড ছোঁয়া গোলটি করেন জিরু। মাঠের বাঁ দিক দিয়ে গতিতে ডিফেন্ডারকে পেছনে ফেলে এমবাপ্পে ক্রস দেন বক্সে, হেডে স্কোরলাইন ৪-১ করেন ৩৬ বছর বয়সী জিরু।
ফ্রান্সের হয়ে এসি মিলান ফরোয়ার্ডের গোল হলো ৫১টি। তাতে বসেন দেশের সর্বোচ্চ গোলদাতা থিয়েরি অঁরির পাশে। অরি ৫১ গোল করেছিলেন ১২৩ ম্যাচে। জিরু খেলেছেন ১১৫ ম্যাচ। দেশম জিরু সম্পর্কে বলেন, ‘আমি জানি না সে রেকর্ড নিয়ে ভাবছিল কি না। সে মাঠে যা করে তা আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আক্রমণভাগে অন্য সবার সঙ্গে তার যে বোঝাপড়া তা আমাদের জন্য কাজে দেয়।’
৩৬ বছরের জিরু বলেন, ‘দলের চারটি গোল এবং এমন শুরুতে আমি খুব খুশি। নিজেকে নিয়ে আমি আরও আশাবাদী। আমি এখানেই থামতে চাই না। আমি টুর্নামেন্টে দলের লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করতে চাই। ম্যাচ ধরে এগুতে চাই।’
২০১৮ বিশ্বকাপে দলের সঙ্গে ছিলেন না বেনজেমা। এবার স্কোয়াডে থাকলেও কোনো ম্যাচ খেলার আগেই পুরনো ইনজুরির কারণে ছিটকে যান। তাই ফরোয়ার্ড লাইনে ফ্রান্সের অন্যতম ভরসা জিরু। তাকে নিয়ে ফ্রান্স অধিনায়ক হুগো লরিস বলেন, ‘ফ্রান্স দলের জন্য সব সময় প্রস্তুত থাকেন জিরু। কখনো হাল না ছাড়ার মানসিকতা আছে তার।’
ফ্রান্স নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলার আগেই ছিটকে যান বেনজেমা। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে মাঠে নেমে ইনজুরিতে পড়েন লুকাস হার্নান্দেজ। ধারণা করা হচ্ছে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছেন তিনি। বায়ার্ন মিউনিখে খেলা ২৬ বছরের এই ডিফেন্ডারের লিগামেন্ট ছিঁড়ে গেছে। খেলার ১৩ মিনিটের সময় চোট পান তিনি। দেশম বলেন, ‘লুকাস আমাদের দলের গুরুত্বপূর্ণ একজন সদস্য। সে নিজের সেরাটা উজাড় করে দিতে পারে, তার ছিটকে যাওয়া আমাদের জন্য খারাপ।’
