ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে চলবে মেট্রোরেল

আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০২২, ০২:৩২ এএম

ঢাকার যানজট এড়ানোর উদ্দেশ্যে নির্মিত হচ্ছে মাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি) তথা মেট্রোরেল। বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম তৈরি হচ্ছে মেট্রোরেল। এর উদ্বোধন হবে আগামী ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে। এ কথা জানিয়েছেন ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এমএএন ছিদ্দিক।

গতকাল বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে মেট্রোরেলের (এমআরটি লাইন-১) ডিপো এলাকার ভূমি উন্নয়নবিষয়ক এক চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।

এমএএন ছিদ্দিক বলেন, ‘এমআরটিসি উদ্বোধনের কোনো ডেট এখনো আমি পাইনি। ডিসেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহের কোনো একদিন প্রস্তাব করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। আমরা আশা করি, সে প্রস্তাব অনুযায়ী ডিসেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্মতি দেবেন। ১৬ ডিসেম্বরে উদ্বোধনের কোনো প্রস্তাব আমাদের কাছে নেই। কারণ ওইদিন অনেক প্রোগ্রাম রয়েছে। ১৬ ডিসেম্বর অনেক বড় আয়োজন হচ্ছে। ওইদিন মেট্রোরেলের উদ্বোধন সম্ভব হবে না। তা না হলে আগামী বছরের জানুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহে বা ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে এমআরটি লাইন-১-এর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর পাতাল রেলপথের কাজ শুরু হবে।’

তিনি বলেন, ‘১২টি প্যাকেজের মাধ্যমে এটির সম্পাদন হবে। প্রতিটি প্যাকেজের বিভিন্ন অংশে কাজ করছি আমরা। কিছুদিন পরে বলতে পারব, কবে টিভিএম মেশিনের মাধ্যমে আন্ডারগ্রাউন্ডের কাজ শুরু করতে পারব। কয়েক জায়গায় ৩০ মিটার আবার কয়েক জায়গায় ৭০ মিটার নিচ দিয়ে পাতাল রেল বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর যাবে। নিচ দিয়ে যখন টিভিএম মেশিন মাটি কেটে কেটে যাবে তখন ওপর থেকে বোঝাই যাবে না নিচে কাজ চলছে। এ পথে ১২টি স্টেশন আছে, যেখানে ওপেন কাট পদ্ধতিতে কাজ করতে হবে। এই ১২ স্টেশন এরিয়ায় ওপেন কাট পদ্ধতিতে কাজ শেষ করে নিচে চলে যাওয়ার জন্য সর্বোচ্চ ছয় মাস সময় লাগবে। এ ছয় মাস রাস্তার অর্ধেক অংশ পুরোপুরি চালু থাকবে। বাকি অংশে আমরা কাজ করব এবং পরে আবার সেই অংশ ভরাট করে দেব।’

এমআরটি লাইন-১-এর ডিপো এলাকার ভূমি উন্নয়নে যৌথভাবে কাজ করা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান টোকিও কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড (জাপান) এবং ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেডের (বাংলাদেশ) সঙ্গে চুক্তি করেছে ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। কন্ট্রাক্ট প্যাকেজ-১-এর আওতায় নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার পিতলগঞ্জ মৌজায় ৮৮.৭১ একর ভূমি উন্নয়ন করা হবে। এ চুক্তিমূল্যের পরিমাণ ৬০৭ কোটি ৬৫ লাখ টাকা।

ডিএমটিসিএলের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমএএন সিদ্দিক। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সই করেন টোকিও কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেডের (জাপান) নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিভাগীয় ব্যবস্থাপক মাসাকাজু কোনিশি।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এবিএম আমিন উল্লাহ নুরী বলেন, ‘এটা অনেক বড় প্রকল্প। এর মোট ব্যয় ৫২ হাজার ৫৬১ কোটি টাকা। গতকাল প্রথম ফেইজের কাজ শুরু হয়েছে। পিতলগঞ্জ এলাকায় মেট্রোরেলের ডিপোর ভূমি উন্নয়নের কাজ শুরু হয়েছে। আমি এ কাজের সাফল্য কামনা করছি।’

বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি বলেন, ‘অনুষ্ঠানে আসতে পেরে আমি আনন্দিত। এ চুক্তির মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জের পিতলগঞ্জে মেট্রোরেলের ভূমি উন্নয়নের কাজ চলবে। জাপান বাংলাদেশের বন্ধু রাষ্ট্র। বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক আরও সুন্দর হবে আশা করি।’

জানা গেছে, ভূমি উন্নয়নকাজের পদ্ধতি ও বাস্তবায়নকালের ওপর ভিত্তি করে পুরো এলাকাকে ছয়টি জোনে বিভক্ত করা হবে। এ কাজে স্ট্যাটিক স্যান্ড কম্প্যাকশন পাইল, ডায়নামিক স্যান্ড কম্প্যাকশন পাইল, প্রিফেব্রিকেটেড ভার্টিকেল ড্রেইনসের মতো আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। ডিপোর ভূমি উন্নয়ন শেষ হলে ওই এলাকায় কন্ট্রাক্ট প্যাকেজ-২-এর আওতায় ডিপোর জন্য অবকাঠামো নির্মাণ এবং ইলেকট্রিক্যাল ও মেকানিক্যাল সিস্টেম স্থাপন করা হবে। এমআরটি লাইন-১-এর বিমানবন্দর রুট ও পূর্বাচল রুটে চলাচলকারী সব মেট্রো ট্রেন এ ডিপো ব্যবহার করবে।

৬০৭ কোটি ৬৫ লাখ টাকা চুক্তিমূল্যের মধ্যে ৮১ কোটি ৮৩ লাখ টাকা বাংলাদেশ সরকার এবং ৫২৫ কোটি ৮২ লাখ টাকা প্রকল্প সহায়ক প্রতিষ্ঠান জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) থেকে নেওয়া হচ্ছে। চুক্তি অনুযায়ী আগামী ৯১০ দিনের মধ্যে এটি বাস্তবায়ন করতে হবে।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন এমআরটি লাইন-১-এর প্রকল্প পরিচালক আবুল কাশেম ভূঁইয়া, পরিকল্পনা বিভাগের সচিব মামুন-আল রশিদ, বাংলাদেশে নিযুক্ত জাইকা অফিসের চিফ রিপ্রেজেন্টেটিভ ইচিগুচি তমোহিদে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত