ক্যামেরুনকে হারালেন ক্যামেরুনেরই ছেলে

আপডেট : ২৫ নভেম্বর ২০২২, ০২:২৯ এএম

গোল করলেন ব্রিল এমবোলো। কাতার বিশ্বকাপে ক্যামেরুনের বিপক্ষে ওই গোলেই (১-০) জিতেছে সুইজারল্যান্ড। তবে গোলটি করে উদযাপন করেননি এমবোলো। এমনটি ক্লাব ফুটবলে প্রায়ই দেখা যায়। সাবেক ক্লাবের বিপক্ষে গোল করে উদযাপন করেন না খেলোয়াড়রা। এমবোলো কেন করেননি। তিনি কি তবে ক্যামেরুনের! হ্যাঁ, তার জন্ম ১৯৯৭ সালে ক্যামেরুনের রাজধানী ইয়াউন্দেতে। সুইজারল্যান্ডের নাগরিকত্ব পান ২০১৪ সালে।

ক্যামেরুনের কিংবদন্তি খেলোয়াড় রজার মিলারের জন্মও হয়েছিল ইয়াউন্দেতে। একই শহরে জন্মানো এমবোলোও পেতে পারতেন ক্যামেরুনের তারকা খ্যাতি। কিন্তু বিধাতা তার ফুটবলে পথচলাটা লিখে রেখেছিলেন ভিন্নভাবে। এমবোলো যখন ৫ বছরের, বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ হয়। মা পড়তে চলে যান ফ্রান্সে। সঙ্গে এমবোলো। পরে মা বিয়ে করেন সুইস নাগরিককে। কিছুদিন পর এমবোলোসহ বাসেলে বসবাস শুরু করেন তারা। এমবোলোর ফুটবলে হাতেখড়িটা সে দেশেই। ২০১৪’র ১২ ডিসেম্বর সুইজারল্যান্ডের নাগরিকত্ব পান এমবোলো। পরের বছর দেশটির হয়ে অভিষেক। খেলেন ২০১৬ ও ২০২০ ইউরোতে, খেলেছেন ২০১৮ বিশ্বকাপও।

সেই এমবোলো ম্যাচের ৪৮ মিনিটে মাঠের ডানপ্রান্ত থেকে জাদরান শাকিরির পাস থেকে গোলটি করেন। তার অন্য সতীর্থরা তখন করছেন উল্লাস। তবে এমবোলো স্থির দাঁড়িয়ে রইলেন, দুই হাত ওপরে তুলে ক্ষমা চাওয়ার মতো ভঙ্গি করলেন, দুই হাত জোড় করে গ্যালারির দিকে তাকালেন। ২০১৮ আসরে খেললেও বিশ্বকাপে এটিই তার প্রথম গোল।

ম্যাচে ৫১ শতাংশ সময় বল ছিল সুইসদের কাছে। তাদের ৭ শটের তিনটি ছিল লক্ষ্যে। ক্যামেরুনের ৮ শটের ৫টি লক্ষ্যে থাকলেও ইয়ান সোমের গোল বঞ্চিত করে ক্যামেরুনকে। ক্যামেরুন গোলকিপার আন্দ্রে ওনানাও দারুণ কিছু সেভ দেন। দ্বিতীয়ার্ধে সুইজারল্যান্ড ব্যবধান বাড়ানোর ভালো সুযোগটি পেয়েছিল ৮৭ মিনিটে। কিন্তু ওনানাকে একা পেয়েও গোল করতে ব্যর্থ হন গ্রানিত জাকা। যোগ করা সময়ে একই কাজ করেন বদলি হিসেবে নামা হারিস সেফেরোভিচও। শেষ পর্যন্ত ম্যাচের স্কোরলাইন ১-০ থাকে।

এমবেলো বোধহয় চেয়েছিলেন ম্যাচটা যেন ড্র হয়, অথচ তার গোলেই কি না জিতল সুইজারল্যান্ড! ম্যাচের আগে এক সাক্ষাৎকারে এমবেলো বলেছিলেন, ‘বিশ্বকাপের ড্র হয়ে যাওয়ার পর এই প্রশ্নটা আমি মনে হয় ১০ হাজার বার শুনেছি। জবাবে শুধুই হেসেছি! তবে এটা সত্যিই খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা ম্যাচ। ক্যামেরুনে আমার জন্ম, আমার মা ও বাবা ওখান থেকেই এসেছেন। পরিবারের অনেকেই এখনো সেখানে আছেন। এটা সুইজারল্যান্ডের হয়ে আমার দ্বিতীয় বিশ্বকাপ। আমি আশা করছি ম্যাচটাতে খেলব।’ এমবেলো খেললেন, গোল করলেন জন্মভূমির বিপক্ষে, জেতালেন সুইজারল্যান্ডকে। তবে গোলের পর কোনো উল্লাস না করেই বুঝিয়ে দিলেন, পেশাদার সত্তা গোল করালেও তার শরীরের ক্যামেরুনিয়ান রক্ত দেশের বিরুদ্ধে যায়নি।

ফলে ২০০২ সালের পর বিশ্বকাপে জয়হীনই রইল ক্যামেরুন। আর সুইজারল্যান্ড ১৯৯৪ থেকে ছয় বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে থাকল অপরাজিত। গতকালেরটিসহ তিনটি জয়, ড্র তিনটি। সবশেষ ১৯৬৬ বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে হেরেছিল সুইসরা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত