‘রিজার্ভ চুরির মামলার চার্জশিট শিগগিরই’

আপডেট : ২৫ নভেম্বর ২০২২, ০৩:৩৪ এএম

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। রিজার্ভ চুরির সঙ্গে যে তিন-চারটি দেশের সংযোগ রয়েছে, সেসব দেশের কাছে তথ্য চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে তথ্য এলেই শিগগিরই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে মালিবাগে সিআইডি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মোহাম্মদ আলী মিয়া এসব তথ্য জানিয়েছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গেটওয়ে ‘বিনিময়’ অ্যাপস ব্যবহার করে প্রায় ৯৭ লাখ টাকা লোপাটের ঘটনায় সংবাদ সম্মেলনটির আয়োজন করা হয়। 

২০১৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে হ্যাকিং করে সুইফট কোডের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার হাতিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা। পরে ওই টাকা ফিলিপাইনে পাঠানো হয়। সংশ্লিষ্টরা ধারণা করেন, দেশের অভ্যন্তরের কোনো চক্রের সহায়তায় হ্যাকার গ্রুপ রিজার্ভের অর্থ পাচার করেছে। ওই ঘটনায় ২০১৬ সালের ১৫ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড বাজেটিং ডিপার্টমেন্টের উপ-পরিচালক জোবায়ের বিন হুদা বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে মতিঝিল থানায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন-২০১২ (সংশোধনী ২০১৫) এর ৪ ধারাসহ তথ্য ও প্রযুক্তি আইন-২০০৬ এর ৫৪ ধারায় ও ৩৭৯ ধারায় মামলা করেন।

টাকা লোপাটের বিষয়ে সিআইডি প্রধান বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠিত গেটওয়ে ‘বিনিময়’ প্ল্যাটফর্মে ডিজিটাল প্রতারণা করে একটি চক্র প্রায় ৯৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। সাত দিন ধরে প্রতারণা করে চক্রটি এই টাকা আত্মসাৎ করেছে। গত বুধবার বগুড়ায় অভিযান পরিচালনা করে চক্রের হোতাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি। এ ছাড়া চক্রের আরও তিনজন সিআইডির নজরদারিতে রয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন গোলাম রব্বানী, শামীম আহমেদ ও রুহুল আমিন। এসময় তাদের কাছ থেকে কম্পিউটারের সিপিইউ, বিপুল পরিমাণ সিম কার্ড, ব্যাংকের চেক বই, ডেবিট-ক্রেডিট কার্ড, ১৪টি মোবাইলফোন ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের বিভিন্ন ধরনের রেজিস্টারসহ গুরুত্বপূর্ণ নথি জব্দ করা হয়।

মোহাম্মদ আলী মিয়া আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে উদ্বোধন করা বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠিত ‘বিনিময়’ প্ল্যাটফর্মে গত ১০ নভেম্বর থেকে ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত মোট ৯৬ লাখ ৭৪ হাজার ২৫৭ টাকা ডিজিটাল প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছে। চক্রটি মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের সেলফিন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ‘বিনিময়’ প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করে। পরে তাদের নিজেদের বিকাশের ব্যক্তিগত হিসাবে অবৈধভাবে টাকা স্থানান্তর করার জন্য অনুরোধ পাঠায়। এই অনুরোধের প্রেক্ষিতে গ্রাহকদের টাকা প্রতারকদের বিকাশ হিসাবে স্থানান্তর করা হয়। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত