পরের ম্যাচ শেষ নেইমারের বাকিটা নিয়েও শঙ্কা

আপডেট : ২৬ নভেম্বর ২০২২, ০১:৪২ এএম

সার্বিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটাই কি কাতার বিশ্বকাপে নেইমারের একমাত্র উপস্থিতি হয়ে থাকবে? লুসাইলে নেইমার খেলেছেন ৭৯ মিনিট, এরপর তাকে তুলে নেন তিতে। এই ৭৯ মিনিটে ৯ বার ফাউলের শিকার হয়েছেন নেইমার। ম্যাচের পর তার ফুলে যাওয়া গোড়ালির ছবি নেট দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে, আর তাকে নিয়ে আশঙ্কা বেড়েছে। স্প্যানিশ ক্রীড়া দৈনিক মার্কা’র খবর, সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপে ব্রাজিলের পরের ম্যাচে খেলবেন না নেইমার। যদি দ্বিতীয় পর্ব নিশ্চিত হয়ে যায় তাহলে ক্যামেরুনের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচেও তাকে মাঠে নামাবেন না তিতে।

চোটের সঙ্গে নেইমারের সখ্যটা পুরনো। আর বিশ্বকাপ মানেই যেন নেইমারের বড় চোটে ছিটকে পড়া। ২০১৪ বিশ্বকাপে কলম্বিয়ার কামিলো জুনিগা লাফিয়ে উঠে হাঁটু দিয়ে পিঠে আঘাত করে ভার্টেব্রায় চিড় ধরিয়ে তাকে বিশ্বকাপ থেকেই ছিটকে দিয়েছিলেন। ২০১৮ বিশ্বকাপ খেলতে রাশিয়া আসার আগে মেটাটারসালের চোট থেকে মাত্র সেরে উঠলেও ঠিক ছন্দে ছিলেন না নেইমার। আর এইবার প্রথম ম্যাচেই সার্বিয়ান ফুটবলাররা যেন তাকে বানিয়ে ফেলেন ‘পাঞ্চিং ব্যাগ’। ৯ বার ফাউলের শিকার হয়েছেন নেইমার, গোড়ালি ফুলে হয়েছে ঢোল। ব্রাজিল দলের চিকিৎসক রদরিগো লাসমার ম্যাচ শেষে জানিয়েছেন, ডান পায়ের গোড়ালি মচকে গেছে নেইমারের। ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণের পর বোঝা যাবে নেইমার কতটা সেরে উঠছেন।

মার্কা জানতে পেরেছে, সোমবার সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটায় খেলতে পারবেন না নেইমার। যদি গ্রুপ পর্ব থেকে পরের রাউন্ডে ওঠা নিশ্চিত করার ম্যাচ না হয়, তাহলে ক্যামেরুনের বিপক্ষেও তাকে খেলাবেন না তিতে। নেইমার নিজে অবশ্য বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে চান না চোট নিয়ে, তবে বিশ্রামে থাকতে হবে। এতে করে তিতের অবশ্য খুব অসুবিধা হওয়ার কথা নয় কারণ তার হাতে অ্যান্টনি, রদরিগো, ব্রুনো গুইমারেসসহ অনেক বিকল্পই আছে।

উল্লেখযোগ্য সময়ে চোটের কারণে অনুপস্থিতি অবশ্য নেইমারের জন্য নতুন কোনো অভিজ্ঞতা নয়। বার্সেলোনা থেকে প্যারিস সেন্ত জার্মেইতে যোগ দেওয়ার পর এই নিয়ে ছয়বার বড় কোনো চোটে পড়লেন নেইমার। এর মধ্যে তিনটাই গোড়ালিতে, দুটো বাম গোড়ালিতে আর একটা ডানে।

বিশ্বকাপ এলেই চোট পাওয়ার এই ব্যাপারটা ছিল পেলের মধ্যেও। প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের লক্ষ্যই থাকতেন পেলে। এক সাক্ষাৎকারে তো পেলে বলেইছিলেন, ১৯৭০ বিশ্বকাপে ভেবেছিলেন খেলবেনই না  চোটের ভয়ে, ‘একটা সময় ভেবেছিলাম যাবই না, কারণ আমি খুব একটা ভাগ্যবান নই।’ আগের বিশ্বকাপে অর্থাৎ ১৯৬৬ সালে বুলগেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে বেশ মার হজম করেছিলেন পেলে। চোট নিয়ে খেলেছিলেন পর্তুগালের বিপক্ষে আর হাঙ্গেরির বিপক্ষে মাঠেই নামেননি।

নেইমারেরও বিশ্বকাপটা শেষ হয়ে যেতে পারে এই এক ম্যাচেই। যদি সেরে না ওঠেন, কিংবা দল যদি গ্রুপ পর্বের পর আর না এগোয় তাহলে সার্বিয়ার ৯ ফাউলই শেষ করে দিতে পারে নেইমারের বিশ্বকাপ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত