ঢাকা-ব্যাংকক ফ্লাইট চালু করেছে মালয়েশিয়াভিত্তিক এয়ার এশিয়া এভিয়েশন গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান থাই এয়ার এশিয়া। গতকাল শনিবার হোটেল সোনারগাঁওয়ে ফ্লাইটের উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়। এর আগে গত শুক্রবার ব্যাংককের ডনমুয়াং বিমানবন্দর থেকে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান অবতরণের মধ্য দিয়ে এ ফ্লাইটের যাত্রা শুরু হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী। এ ছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান, থাই অ্যাম্বাসেডর মাকাওয়াদি সুমিতমোর, মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার হাজনাহ মো. হাশিম এবং থাই এয়ার এশিয়ার সিইও সান্তিসুক ক্লোংচাইয়া উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার যোগাযোগের সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী পর্যটন খাতকে এগিয়ে নিতে নানা ধরনের উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করেছেন। এ ধারা চলামান রয়েছে। আশা করব থাই এয়ার এশিয়া যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করবে এবং বিমান কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করবে।
বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান বলেন, আমি গর্বিত এমন একটি আয়োজনের জন্য। দু'দেশের সম্পর্ক ও যোগাযোগের উন্নয়নের জন্য এ ফ্লাইট খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আশা করব থাই এয়ার এশিয়ার কারণে আমাদের দেশ সুফল পাবে। প্রধানমন্ত্রী পর্যটনশিল্পকে এগিয়ে নিতে সর্বাত্নক চেষ্টা করছেন। সেফটি এবং সিকিউরিটি নিশ্চিতে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। থাই এয়ার এশিয়াও বিষয়টিকে গুরুত্বসহকারে দেখবে বলে আশা করছি।
প্রতিষ্ঠানটির সিইও শান্তিক্লুক ক্লংছাইয়া বলেন, আমরা আমাদের ভালো সার্ভিসের বিষয়ে বদ্ধপরিকর। থাই এয়ার এশিয়া ২০১৫ সাল থেকে ঢাকা এবং কুয়ালালামপুরের মধ্যে সপ্তাহে ১৪টি ফ্লাইট পরিচালনা করে আসছিল। তারই ধারাবাহিকতায় থাই এয়ার এশিয়ার সংযোজন এ ফ্লাইট।
মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার বলেন, গ্লোবাল কানেকটিভিটির জন্য এ উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। আঞ্চলিক যোগাযোগের ক্ষেত্রেও এ ফ্লাইট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
থাই অ্যাম্বাসেডর মাকাওদি সুমিতমোর বলেন, বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের মধ্যকার কোনো বাণিজ্যিক ফ্লাইট ছিল না। কুয়ালালামপুর হয়ে তারপর যেতে হতো। থাই এয়ার এশিয়ার এমন উদ্যোগে আমি গর্বিত। করোনার পর পর্যটন খাত স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। নতুন ফ্লাইট বাংলাদেশের সাথে থাইল্যান্ডের সম্পর্ককে আরও সমুন্নত করবে।
এ ছাড়াও অনুষ্ঠানে থাই এয়ার এশিয়ার পরিচালক কাজী শাহ মুজাক্কর আহমদুল হক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোরসেদুল আলম চাকলাদার উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, এয়ারলাইন্সটি আপাতত ঢাকা থেকে প্রতিসপ্তাহে চারটি ফ্লাইট পরিচালনা করবে। একজন যাত্রী সর্বোচ্চ ২০ কেজি ওজনের লাগেজ বহন করতে পারবেন। তবে এর বেশি ওজন হলে সেটির জন্য চার্জ প্রযোজ্য হবে। আপাতত তারা ঢাকা টু ডনমুয়াং বিমানবন্দর পর্যন্ত ফ্লাইট পরিচালনা করবেন। ঢাকা-ডংমুয়াং রুটে সর্বনিম্ন ভাড়া ২২ হাজার থেকে শুরু হবে। তবে এ ভাড়া নির্ভর করবে যাত্রী কোন শ্রেণির টিকেট কিনবেন।
