বাড়ছে করোনা পাল্লা দিচ্ছে বিক্ষোভও

আপডেট : ২৭ নভেম্বর ২০২২, ১১:৩৫ পিএম

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে কঠোর ‘জিরো কভিড’ নীতি অনুসরণ করে আসছে চীনের সরকার। কিন্তু এর মধ্যেই গতকাল রবিবার দেশটিতে টানা চতুর্থ দিনের মতো কভিড শনাক্তের রেকর্ডের কথা জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৩৯ হাজার ৭৯১ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। চীনে করোনা সংক্রমণ মহামারীর শুরুর রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে চলছে প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের জারি করা ‘জিরো কভিড’ নীতি। এতে অস্বাভাবিক জীবনযাত্রা এবং অর্থনৈতিক স্থবিরতায় চীনাদের ক্ষোভ বাড়ছিল। এরই মধ্যে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জিনজিয়াং প্রদেশের একটি আবাসিক ভবনে আগুন লেগে ১০ জন নিহত হয়। ওই ভবনের বাসিন্দারা আগুন লাগার সময় দ্রুত বের হতে পারেননি, কারণ একটা অংশ লকডাউনের আওতায় ছিল। এর জেরে দেশটিতে বিধিনিষেধবিরোধী নজিরবিহীন বিক্ষোভ শুরু হয়েছে, যা ক্রমশ ছড়িয়ে পড়ছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, বিক্ষোভকারীরা চিৎকার করে বলছেন উরুমকি থেকে লকডাউন তুলে নিতে। জিনজিয়াং থেকে এমনকি পুরো চীন থেকে লকডাউন প্রত্যাহার করার দাবি তাদের। বিবিসি বলছে, শনিবার ও রবিবার দেশটির বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। এমনকি এদিন প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংকে প্রকাশ্যে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছেন অনেকে। গতকাল রবিবার বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, সাংহাইয়ে কয়েক হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। কিন্তু তাদের ওপর চড়াও হয় পুলিশ। অনেক বিক্ষোভকারীকে আটক করে নিয়ে যায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। এ ছাড়া পেইচিং এবং নানজিংয়ের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীরা জিরো কভিড নীতির বিরুদ্ধে নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। গত শনিবার স্থানীয় সময় রাতে চীনের সর্ববৃহৎ শহর এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র সাংহাইয়ে প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারীদের সেøাগান দিতে শোনা যায়। তারা চেঁচিয়ে বলতে থাকেন, ‘শি চিনপিং পদত্যাগ করুন’ এবং ‘কমিউনিস্ট পার্টি ক্ষমতা ছাড়।’  

চীনে প্রকাশ্যে এমন সরকারবিরোধী স্লোগান খুবই বিরল। কারণ সরকারের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আন্দোলন করলে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে দেশটিতে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাধারণ মানুষ যে জিরো কভিড নীতি নিয়ে সন্তুষ্ট ছিল না সেটি সরকার অনুধাবন করতে পারেনি। এ কারণে এতসংখ্যক মানুষ আন্দোলনে নেমেছে। বিবিসিকে এক বিক্ষোভকারী জানিয়েছেন, রাস্তায় এত মানুষ দেখে তিনি নিজেই অবাক হয়েছেন। তবে সঙ্গে উজ্জীবিতও হয়েছেন। এ লকডাউনের কারণে তিনি ‘ব্যথিত, ক্ষুব্ধ ও হতাশও’ হয়েছেন বলে জানিয়েছেন। তিনি জানান, লকডাউনের কারণে নিজের ক্যানসার আক্রান্ত মাকে দেখতে যেতে পারছেন না। অপর এক নারী বিক্ষোভকারী বিবিসিকে জানিয়েছেন, সেখানে উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছেন বিক্ষোভকারীরা। পুলিশের কাছে লকডাউনের প্রতিক্রিয়া জানতে চেয়েছিলেন তারা। তার দাবি, পুলিশ সদস্যরা জানিয়েছেন তারাও এ লকডাউন নিয়ে ক্ষুব্ধ। কিন্তু গায়ে পুলিশের পোশাক থাকায় তারা কিছু করতে পারছেন না। তবে রবিবার সাংহাইয়ে যখন বিক্ষোভকারীরা আবারও নতুন করে জড়ো হওয়ার চেষ্টা করেন, তখন তাদের ওপর চড়াও হয় পুলিশ। এদিকে বিবিসি তাদের অপর এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, জিরো কভিড নীতি নিয়ে চীনে যেভাবে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে এতে করে বিক্ষোভকারীদের সামাল দেওয়ার বিষয়টি চীনের নেতাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত