চট্টগ্রাম বন্দরে অলস বসে ৩৪ পণ্যবাহী জাহাজ

আপডেট : ২৮ নভেম্বর ২০২২, ০১:১৫ এএম

নৌযান শ্রমিকদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির কারণে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙর ও বিভিন্ন ঘাটে পণ্য খালাসে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল রবিবার দিনভর বহির্নোঙরে অলস অবস্থায় বসা ছিল বিভিন্ন ধরনের পণ্যবাহী ৩৩ জাহাজ। অচলাবস্থা নিরসনে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে ব্যবসায়ীরা বলছেন, কর্মবিরতি দীর্ঘায়িত হলে পণ্যবাজারে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

নৌযান শ্রমিকদের সর্বনিম্ন মজুরি ২০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ দশ দফা দাবিতে শনিবার মধ্যরাত থেকে সারা দেশে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করে নৌযান শ্রমিকরা। এ কর্মসূচির মারাত্মক প্রভাব পড়েছে চট্টগ্রাম বন্দরে বড় জাহাজ থেকে পণ্য খালাসে। বহির্নোঙর ও কর্ণফুলীর ঘাটগুলোতে শনিবার দিনভর কোনো ধরনের আমদানি পণ্য খালাস হয়নি। সংকট দীর্ঘায়িত হলে চট্টগ্রাম বন্দরে বড় ধরনের জাহাজজট সৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

চট্টগ্রাম বন্দর সচিব মো. ওমর ফারুক দেশ রূপান্তরকে জানান, শনিবার রাত ১২টার পর থেকে নৌযান শ্রমিকদের ধর্মঘট শুরু হওয়ায় বহির্নোঙরে বড় জাহাজ থেকে লাইটারেজ জাহাজে পণ্য খালাস পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়েছে। তিনি জানান, বর্তমানে বন্দরে কোনো জাহাজজট নেই। তবে আমদানি পণ্য নিয়ে আরও জাহাজ বন্দরের পথে রয়েছে। তাই চলমান সংকটের দ্রুত অবসান না হলে বহির্নোঙরে জাহাজের সংখ্যা বেড়ে যাবে। আর সামগ্রিকভাবে এর একটি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

শনিবার দুপুরে কর্ণফুলীর বিভিন্ন ঘাট ঘুরে দেখা যায়, শ্রমিকদের হাঁক-ডাক আর পণ্য ওঠানামার প্রতিদিনের কর্মচাঞ্চল্য সেখানে নেই। ঘাটের কাছাকাছি কর্ণফুলী নদীতে নোঙর করে আছে সারি সারি লাইটার জাহাজ। কোনো জাহাজ থেকে এক মুঠো পণ্যও খালাস হচ্ছে না। শ্রমিকরা গল্পগুজব আর আড্ডায় সময় কাটাচ্ছে।

বাংলাদেশ লাইটার ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সহসভাপতি মো. নবী আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, গত ১০ দফা দাবিতে ১৫ নভেম্বর আমাদের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। কিন্তু সেই দাবি বাস্তবায়নে সরকার কিংবা মালিকপক্ষ কেউ এগিয়ে আসেনি। যে কারণে আমরা কর্মবিরতি পালনে বাধ্য হয়েছি।

চট্টগ্রাম বন্দরের ট্রাফিক বিভাগ জানায়, শনিবার বন্দরের বহির্নোঙরে কন্টেইনার জাহাজ ও অয়েল ট্যাংকার ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের পণ্যবাহী ৩৪টি বড় জাহাজ (মাদার ভেসেল) অপেক্ষা করছিল। এর মধ্যে সাধারণ পণ্যবাহী ১৪টি, খাদ্যশস্যবাহী ৫টি, সারবাহী ২টি, সিমেন্ট  ক্লিংকারবাহী ১০টি ও চিনিবাহী ৩টি জাহাজ রয়েছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, শ্রমিকদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির দ্রুত অবসান না হলেও দেশের অর্থনীতি ও শিল্পায়নে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। পণ্য নিয়ে অতিরিক্ত সময় অপেক্ষার জন্য জাহাজগুলোকে বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিভিন্ন কারণে এমনিতে দেশের রপ্তানি বাণিজ্য সংকটের মধ্যে রয়েছে। এ অবস্থায় আমদানি পণ্য খালাস ব্যাহত হলে বিভিন্ন শিল্পকারখানায় কাঁচামালের সংকট সৃষ্টি হবে। যা আমাদের রপ্তানি বাণিজ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত