চট্টগ্রামে অপহরণের পর হত্যার শিকার পাঁচ বছরের শিশু আলিনা ইসলাম আয়াতের মরদেহের অংশবিশেষের সন্ধানে গতকাল রবিবারও উপকূলের বিভিন্ন অংশে তল্লাশি চালিয়েছেন পিবিআই কর্মকর্তা ও তার স্বজনরা। সাগরপাড়ের কাদা মাড়িয়ে তারা সন্দেহভাজন খুনি আবীর আলীকে নিয়ে তল্লাশি চালান। গতকাল আউটার রিং রোড সংলগ্ন সাগরপাড়ে আবীর আলীকে নিয়ে পিবিআই কর্মকর্তা, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, এলাকবাসী এবং আয়াতের বাবা সোহেল রানা ও দাদা মঞ্জুর হোসেনসহ অনেকেই কাদা মাড়িয়ে আয়াতের মরদেহের অংশবিশেষের সন্ধান করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনো কিছুই হাতে আসেনি তাদের।
গতকাল দুপুর ১টায় সরেজমিনে দেখা যায়, আয়াতের এলাকার মানুষজন দল বেঁধে আউটার রিং রোডে অপেক্ষা করছেন পিবিআই সদস্যদের সঙ্গে। এর কিছুক্ষণ পর আবীর আলীকে বহনকারী মাইক্রোবাস এসে থামলে আয়াতের দাদাসহ এলাকার মানুষজন গাড়িটি ঘিরে সেøাগান দিয়ে আবীরের মৃত্যুদণ্ড দাবি করতে থাকেন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পিবিআইয়ের সদস্যরা তাদের অন্যদিকে সরিয়ে আবীর আলীকে নিয়ে উপকূল এলাকায় তল্লাশি অভিযান শুরু করেন।
সাগরের নিকটবর্তী পাড়গুলোতে ভাটা থাকায় প্রায় দুই থেকে তিন ফুটের মতো কাদা জমে থাকে। সে অবস্থায় আবীরকে নিয়ে পিবিআই কর্মকর্তাসহ স্থানীয়রা আবীরের দেখানো জায়গাগুলোতে কাদা সরিয়ে লাশের খ-গুলো খুঁজতে থাকেন। এ সময় আয়াতের দাদা মঞ্জুর হোসেন বারবার বলতে থাকেন, ‘আবীর মিথ্যা তথ্য দিচ্ছে, সে আয়াতকে অন্য কোথাও লুকিয়ে রেখে পুলিশকে বিভ্রান্ত করছে।’
সাগরের বিভিন্ন প্রান্তে ঘণ্টাখানেক খোঁজাখুঁজির পর কোনো কিছু না পেয়ে দ্বিতীয় সম্ভাব্য স্থান সøুইসগেট এলাকায় আবীরকে নিয়ে যায় পিবিআই কর্মকর্তারা। সেখানের খালগুলোতেও স্থানীয়দের সহায়তায় খোঁজ করে কিছুই পাননি।
স্থানীয় জেলেরা জানান, যদিও লাশের টুকরো খাল কিংবা সাগরের পাড়ে ফেলা হয় তবে তা জোয়ারের টানে এক স্থানে থাকবে না। অন্য কোনোদিকে এ খন্ড-াংশগুলো ভেসে উঠতে পারে।
অভিযানের সময় আয়াতের বাবা সোহেল রানা উপস্থিত থেকে লাশের সন্ধান করেন। কিন্তু তার আশঙ্কা, আবীর মিথ্যা কথা বলে তদন্তে সময়ক্ষেপণ করছে।
তল্লাশির সময়ে বিকাশ নামে এক জেলে পিবিআই কর্মকর্তাদের জানান, পাঁচ দিন আগে তিনি আবীরকে ভোরবেলা পলিথিন হাতে কিছু ফেলতে দেখেন। এরপর আবীর দৌড়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
মামলা তদন্ত কর্মকর্তা মনোজ দেয় দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আয়াতের পরিবারের অভিযোগগুলো আমরা খতিয়ে দেখব। আপাতত আমাদের চেষ্টা থাকবে আয়াতের লাশ খুঁজে বের করার।’
পিবিআইয়ের এসপি নাইমা সুলতানা ঘটনাস্থলে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আবীরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী আয়াতকে হত্যা করে শরীরের অংশগুলো যেসব স্থানে ফেলেছে সেসব স্থানে আমরা তাকে নিয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় তল্লাশি করি। কিন্তু সাগরের জোয়ার-ভাটার কারণে পলিথিনগুলো এক জায়গায় নেই বলে আমরা ধারণা করছি। আমরা আমাদের তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রাখব।’
গত ১৫ নভেম্বর নগরীর ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের নয়ারহাট বিদ্যুৎ অফিসের বাসার সামনে থেকে নিখোঁজ হয় শিশু আয়াত। বাসা থেকে বেরিয়ে স্থানীয় মক্তবে পড়তে গিয়েছিল সে। ওই ঘটনায় তার বাবা সোহেল ইপিজেড থানায় নিখোঁজের ডায়েরি করেন। আয়াতের দাদা সন্দেহ থেকে পিবিআইয়ের সহযোগিতা কামনা করেন। শিশু আয়াতের নিখোঁজের বিষয়ে পিবিআই তদন্ত করতে গিয়ে আবীরের সম্পৃক্ততা পায়। আবীর শিশু আয়াতের পরিবারের মালিকানাধীন বাসার দীর্ঘদিনের ভাড়াটিয়া। আবীরকে আটকের পর পিবিআই কর্মকর্তাদের জানায়, গত ছয় মাস ধরে আয়াতকে অপহরণের পরিকল্পনা করছে এবং বিভিন্নবার চেষ্টা করেও সফল হয়নি। ঘটনার দিন বিকেলে মক্তবে যাওয়ার জন্য আয়াত বাসা থেকে বের হলে আবীর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তাকে অপহরণ করে। কিন্তু তার চেঁচামেচিতে সে ভয় পেয়ে আয়াতকে শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে আকমল আলী রোডের বাসায় নিয়ে লাশ টুকরো করে বড় ব্যাগে করে নিয়ে খালে ও সমুদ্রের পানিতে ফেলে দেয়।
