বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, আজকে দেশে গণতন্ত্র নেই। বিএনপির ৬০০ এর বেশি লোক গুম। ১০০০ এর বেশি মানুষ খুন। খালেদা জিয়াকে বিনা কারণে মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, এটা জনবিচ্ছিন্ন সরকার। জনগণের প্রতি তাদের দায়বদ্ধতা নেই। টাকা লুটে আর পাচার করে দেশের অর্থনীতি ধ্বংসের মুখে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, জ্বালানির দাম বেড়েছে। দারিদ্রতা বেড়েছে। ৪০ ভাগ লোক দারিদ্র্যসীমার নিচে। সুতরাং আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকলে কোনো সংকটের সমাধান হবে না। যারা অর্থনীতি ধ্বংস করেছে তারা এর পুনর্গঠন করতে পারবে না। দেশে বিচারব্যবস্থা সরকারের নিয়ন্ত্রণে।
আজ সোমবার (২৮ নভেম্বর) বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শহীদ ডা. মিলন দিবস উপলক্ষে 'শহীদ ডা. মিলন-গণতন্ত্রের মুক্তি এবং বর্তমান প্রেক্ষাপটে' শীর্ষক এই আলোচনা সভার আয়োজন করে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, আজকে আমাদের গণসমাবেশ ঠেকাতে সরকার প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে। কিন্তু জনগণ সরকারকে বার্তা দিয়েছে যে তারা সরকারকে চায় না। ইনশা আল্লাহ গণ-অভ্যুত্থান সৃষ্টি হবে। জনগণ গণ-অভ্যুত্থান সৃষ্টি করতে প্রস্তুত। আমাদের কর্মসূচি আসবে। আমরা এখন চাল ডাল তেল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে আন্দোলন করছি। কিন্তু আগামী আন্দোলন হবে সরকারের পতনের আন্দোলন।
ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ডা. মিলন শহীদ হয়েছেন কেন? তিনি স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন। সেসময় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আহ্বানে সারা দেশে আন্দোলন ছিল তুঙ্গে। সেসময় এরশাদের পেটোয়া পুলিশ বাহিনীর গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন মিলন। তার শাহাদতের মধ্য দিয়েই আন্দোলনের চূড়ান্ত রূপ নেয়। মিলন সহ আরও ছাত্র ও শ্রমিক নেতার জীবন দেওয়ার পর গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হয়েছিল। খালেদা জিয়ার আপসহীন মনোভাব ছিল এর নেপথ্য কারণ। এরপর দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা লাভ করে। তিনি নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান সংবিধানে সংযোজন করেছিলেন। মানুষ খুশিমতো ভোট দিতে পেরেছিলেন। বিএনপি ক্ষমতায় গিয়েছিল। সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগও ক্ষমতায় এসেছিল। এরপর শুরু হলো চক্রান্ত।
তিনি বলেন, ওয়ান ইলেভেনের সময় আমাদের নেত্রী বিদেশে যাননি। তাকে অনেক চাপ দেওয়া হয়েছিল। আর বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ওয়ান ইলেভেনের সরকারকে বৈধতা দিয়েছেন। তিনি বলেছিলেন ওয়ান ইলেভেনের সরকার নাকি তাদের আন্দোলনের ফসল। তারপর তারা ক্ষমতায় এসে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করেছে।
ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডাঃ হারুন আল রশিদের সভাপতিত্বে ও মহাসচিব ডাঃ মোঃ আবদুস সালামের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং ডাঃ মেহেদী হাসান ও ডাঃ মোঃ ফখরুজ্জামান ফখরুলের পরিচালনায় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও ডাকসুর সাবেক ভিপি আমানউল্লাহ আমান, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সহ প্রচার সম্পাদক কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীম, ড্যাবের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. শাহিদুর রহমান, সহসভাপতি ডা. মোসাদ্দেক হোসেন বিশ্বাস ডাম্বেল, ডা. পরিমল চন্দ্র মল্লিক, কোষাধ্যক্ষ ডা. জহিরুল ইসলাম শাকিল, ডা. একেএম কবির আহমেদ রিয়াজ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের গোলাম মাওলা শাহিন, নার্সেস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি বিলকিস জাহান চৌধুরী, এ্যামট্যাবের বিপ্লবুজ্জামান বিপ্লব, ফিজিওথেরাপিস্ট ডা. মাহাতাব উদ্দিন প্রমুখ। এছাড়া অনুষ্ঠানে ড্যাবের ডা. সরকার মাহবুব আহমেদ শামীম, ডা. আদনান হাসান খান মাসুদ, ডা. সায়ীদ মেহবুব উল কাদির, ডা. পারভেজ রেজা কাকন, যুবদলের ওমর ফারুক মুন্না, এ্যামট্যাবের দবির উদ্দিন তুষার সহ ড্যাবের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
