নাটক-ফাটক করে গণতান্ত্রিক আন্দোলন রোধ করা যাবে না: রিজভী

আপডেট : ০১ ডিসেম্বর ২০২২, ০৭:১২ পিএম

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, অতীতের আন্দোলনের মতোই ঘটনা নিজেরা ঘটিয়ে বিএনপি নেতা কর্মীদের ওপর দায় চাপানোর অপচেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু জনগণের কাছে অতীতের মতো এসব ঘটনাও বিশ্বাসযোগ্য হবে না। নাটক-ফাটক করে গণতান্ত্রিক আন্দোলন রোধ করা যাবে না। কর্তৃত্ববাদী সরকার যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না, তারা টিকে থাকার স্বার্থে মনুষ্যত্বহীন যেকোন অপকর্ম করতে দ্বিধা করবে না।

আজ বৃহস্পতিবার (১ ডিসেম্বর) নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সারা দেশে নেতা কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের ও গ্রেপ্তারের বিবরণ তুলে ধরতে গিয়ে এসব কথা বলেন।

অভিযোগ করে তিনি বলেন, আগামী ১০ ডিসেম্বর ঢাকার বিভাগীয় গণসমাবেশকে নিয়ে অবৈধ সরকার যেন বেসামাল হয়ে পড়েছে। বিএনপি নেতা কর্মীদের গণগ্রেপ্তার, মিথ্যা কাহিনি সাজিয়ে পাইকারি হারে মামলা দায়ের, গভীর রাতে নেতা কর্মীদের বাড়িতে ডাকাতের মতো হানা দেওয়া, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার চরম মাত্রায় শুরু করেছে আওয়ামী আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। মনে হয় পুলিশ শেখ হাসিনার কাছে শপথ গ্রহণ করেছে যেভাবেই হোক ১০ ডিসেম্বর গণসমাবেশকে বাধাগ্রস্ত করতে হবে।

রিজভী বলেন, ইতিমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ ঢাকা মহানগর এবং দেশের অন্যান্য অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নেতৃবৃন্দকে মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে প্রেরণ করেছে। মনে হয় শেখ হাসিনা জন আতঙ্কে ভুগছে। তাই ঢাকায় গণসমাবেশের কথা শুনেই তিনি দিশেহারা হয়ে দমনের নিষ্ঠুর পথ অবলম্বন করেছেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে আইনের উৎস হচ্ছে শেখ হাসিনার ইচ্ছা। প্রকৃত আইন, সুবিচার এবং গণতন্ত্রে বিরোধী দলের অধিকারের যবনিকা টানা হয়েছে। সরকারের নির্দেশে পুলিশ এই মুহূর্তে যা কিছুই করছে সেটি এক গভীর চক্রান্ত। গতকাল পুলিশ সদর দপ্তর থেকে ‘বিশেষ অভিযান পরিচালনা’ প্রসঙ্গে যে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে তা দুরভিসন্ধিমূলক। ১০ ডিসেম্বরের গণসমাবেশকে বাধাগ্রস্ত করার জন্যই আজ থেকে আবাসিক হোটেল, মেস, হোস্টেল, প্রতিষ্ঠান ও কমিউনিটি সেন্টারে নিয়মিত তল্লাশি চালানোর কথা বলা হয়েছে। এটা দিবালোকের মতো সত্য যে, গণসমাবেশকে নিয়েই পুলিশের এই অশুভ তৎপরতা। নেতা কর্মীদের হয়রানি এবং জনমনে ভীতি তৈরি করাই এর উদ্দেশ্য।

রিজভী বলেন, পুলিশের মিথ্যা মামলা এবং মিথ্যা ককটেল বিস্ফোরণের সংবাদ গণমাধ্যমে প্রচারিত হওয়ার পর গত বুধবার নারায়ণগঞ্জে মশাল মিছিল করে ককটেল বিস্ফোরণ এবং মুন্সিগঞ্জে সিএনজিতে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এই ঘটনা একের পর এক চক্রান্তের ধারাবাহিকতা যা গোয়েন্দা সংস্থা ও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের আগুন সন্ত্রাস মঞ্চস্থ করার যৌথ মহড়া। এই চক্রান্তগুলো শুরু হয়েছে ঢাকা জেলা আদালত থেকে দুই জঙ্গি পলায়নের নাটক থেকে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত