ঢাকায় হাতিলের ডিলার্স কনফারেন্স অনুষ্ঠিত

আপডেট : ০৩ ডিসেম্বর ২০২২, ০৭:২৫ পিএম

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ফার্নিচার ব্র্যান্ড হাতিল ঢাকায় গত ৩ ডিসেম্বর ডিলার্স কনফারেন্সের আয়োজন করে। দেশব্যাপী সত্তরটিরও অধিক শোরুমের মাধ্যমে কোম্পানিটি বেশ সফলতার সঙ্গে ক্রেতাদের সমসাময়িক আসবাবের চাহিদা মিটিয়ে চলছে এবং দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণ করছে। অতি সম্প্রতি, ভারতে চালু হয় হাতিলের ২৮তম শোরুম। হাতিল একমাত্র বাংলাদেশি ব্র্যান্ড যার বিদেশের মাটিতে নিজ নামে সর্বোচ্চ সংখ্যক আউটলেট রয়েছে। 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুন্সি। অনুষ্ঠানের সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান। এছাড়াও পরিচালক মাহফুজুর রহমান, মিজানুর রহমান, মশিউর রহমান এবং সফিকুর রহমান এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। 

সারা দেশ থেকে ১০০ জনেরও বেশি অংশগ্রহণকারী এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন। অংশগ্রহণকারীগণ চলমান অর্থনৈতিক সংকটে বাংলাদেশের সার্বিক ব্যবসায়িক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটের ওপর ভিত্তি করে ভবিষ্যৎ কর্ম পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা করা হয়। 

সেলিম এইচ রহমান বলেন, করোনা মহামারি মোকাবেলা করে দেশের ফার্নিচার শিল্প সফলতার সঙ্গে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এর পেছনে রয়েছে সরকারের আন্তরিকতা, ফার্নিচার শিল্পের উদ্যোক্তাদের নিষ্ঠা এবং দেশের ক্রেতা-সাধারণের অকুণ্ঠ সমর্থন। প্রতিকূল পরিবেশ মোকাবিলা করে যারা এখনো এই সম্ভাবনাময় শিল্পের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন তাদের সকলকে আমার আন্তরিক শুভ কামনা।

তিনি বলেন, দেশের এই শিল্প খাতটির যে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে, বিশ্ববাজারে তার খুব সামান্য অংশেরই বাস্তবায়ন ঘটেছে এখন পর্যন্ত। ২০২১ সালে গ্লোবাল ফার্নিচার মার্কেটের সাইজ ছিল প্রায় ৬৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং ২০২২ সালে এই মার্কেটর সাইজ ধারণা করা হয় প্রায় ৭০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। গত কয়েক বছর বিশ্বজুড়ে ফার্নিচার ব্যবহারের ট্রেন্ড দেখলে বোঝা যায় যে প্রতিবছরই এই মার্কেট বড় হচ্ছে। ২০২১-২০২২ অর্থবছরে আমাদের ফার্নিচার রপ্তানির পরিমাণ ছিল ১১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। যদিও পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় এটা ৩৯% ভাগ বেশি, তারপরেও অত্যন্ত সম্ভাবনাময় এই খাতের উন্নয়নের গতি এখনো মন্থর আমাদের দেশে। কারণ, কোন ব্যাকওয়ার্ড লিঙ্কেজ শিল্প গড়ে না ওঠার কারণে আমাদের ফার্নিচার শিল্পে ব্যবহৃত বেশির ভাগ কাঁচামাল যেমন Hardware, Lacquer, Fabrics দেশের বাইরে থেকে আমদানি করতে হয়। দেশের বাইরে থেকে আমদানি করতে গেলে বড় অঙ্কের আমদানি-কর প্রযোজ্য হয়। এ কারণেই আন্তর্জাতিক বাজারে চীন এবং ভিয়েতনামের সঙ্গে আমাদের অসম প্রতিযোগিতার মধ্যে পড়তে হচ্ছে। 

আরও বলেন, প্রতিযোগিতামূলক পণ্যের মূল্য বাজারে টিকে থাকতে এবং মার্কেট শেয়ার বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যদি আমাদের আসবাবপত্র খাতকে রপ্তানির জন্য বন্ড সুবিধা দেওয়া হয়, কাঁচামালের আমদানি শুল্ক কমানো হয়, লজিস্টিক খরচ কমানো যায় এবং আসবাব রপ্তানি ইনসেনটিভ ১৫% থেকে বাড়িয়ে ২৫% করা যায়, তাহলে এই খাতটি চীন, ভিয়েতনাম সহ অন্যান্য আসবাবপত্র উৎপাদনকারী দেশগুলির সঙ্গে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে থাকবে। এই ধরনের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও আমরা ২০১৩ সাল থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে আসবাবপত্র সরবরাহ করে আসছি। 

তিনি বলেন, গুণগতমান এবং ফিনিশিংয়ের কারণে ক্রেতারা সব সময়েই আমাদের পণ্যগুলো পছন্দ করছে। ইতিবাচক সাড়া পাওয়ায় আমরা আমাদের শোরুমের সংখ্যা সম্প্রসারিত করছি। এ ছাড়া নতুন নতুন বাজার তৈরির লক্ষ্যে আমরা বাংলাদেশ, দুবাই, ভারত ও থাইল্যান্ডে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফার্নিচার মেলায় নিয়মিত অংশগ্রহণ করছি। আমাদের যে উৎপাদন ক্ষমতা রয়েছে, তা দিয়ে সর্বোত্তম গুণগতমান বজায় রেখে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা মেটানো সম্ভব। আমাদের প্রত্যাশা মাননীয় মন্ত্রী এই বিষয়গুলো সদয় বিবেচনায় নেবেন এবং এই শিল্পকে বিশ্ববাজারে মজবুত অবস্থানে পৌঁছাতে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

মশিউর রহমান বলেন, করোনাকালীন সংকট আর সাম্প্রতিক ইউক্রেইন-রাশিয়ার মধ্যকার বিরোধ আন্তর্জাতিক অর্থনীতিকে চরমভাবে অস্থিতিশীল করে তুলেছে যা অন্যান্য ব্যবসায়ের পাশাপাশি আসবাব শিল্পকেও ব্যাপক ভাবে প্রভাবিত করছে এবং আমরা আসবাবের দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছি যা দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এমতাবস্থায় আমাদের উচিত ব্যবসায়ের প্রতি আরও মনোযোগী হওয়া, সঠিক নেতৃত্ব নিশ্চিত করা, পণ্য সরবরাহ ঠিক রাখা এবং সর্বোপরি ক্রেতা সন্তুষ্টি নিশ্চিত করা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত