‘অঘটনের বিশ্বকাপে’ প্রথম পর্বের শেষ ম্যাচেও অঘটন দেখলাম আমরা। এবার ব্রাজিলকে হারাল ক্যামেরুন। যাদের কাছ থেকে অসাধারণ ডিফেন্ডিং নৈপুণ্য দেখলাম আমরা। কৃতিত্ব তাই দিতেই হবে দলটিকে। তবে আগেই গ্রুপ পর্ব নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় বেঞ্চের খেলোয়াড়দের দেখে নিতে চেয়েছিলেন তিতে। সেই জায়গাটায় বলব, ব্রাজিলের তরুণ খেলোয়াড়রা ম্যাচিউরড পারফরম্যান্স দেখাতে পারেনি।
ম্যাচে মোট ৯ পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নেমেছিল ব্রাজিল। যে খেলোয়াড়দের নামানো হয়েছিল, সবাই প্রতিভাবান খেলোয়াড়। তবে ক্যামেরুনের খেলায় তাদের চেয়ে ম্যাচিউরিটি বেশি দেখেছি। আফ্রিকার দেশটির পরিকল্পনাই ছিল ডিপ ডিফেন্ডিং করে খেলা। নিজেদের অর্ধে বা পেনাল্টি এরিয়ার আশপাশে ব্রাজিলকে বলে থিতু হতে না দেওয়া। ব্রাজিলের তরুণ খেলোয়াড়রা সবই করছিল। কিন্তু ব্লক ভাঙার ক্ষেত্রে মোটেও দক্ষতা দেখাতে পারেনি।
ক্যামেরুন চাপহীন এক ম্যাচ খেলেছে। কোনো কিছুতে তাই বিচলিত হয়নি তারা। সহজভাবে পারফর্ম করে গেছে। যোগ করা সময়ে গোল পেয়েছে। কাউন্টার অ্যাটাকে ওই গোলটা সত্যিই দেখার মতো ছিল। জেরোম এনগুম ডান দিক থেকে বক্সে ক্রস বাড়ালেন। ফাঁকায় বল পেয়ে হেডে ঠিকানা খুঁজে নিলেন ভিনসেন্ট আবুবকর। সত্যিই দেখার মতো। অন দ্য রানে অত ভালো ক্রস হবে এটা আসলে কেউ প্রত্যাশা করেনি। তবে এটাও বলতে হবে ওই সময় আবুবকরকে মিস করে গেছেন ব্রাজিলের এদের মিলিতাও।
আর ‘সিম্পল অপশন’ ব্রাজিলকে নিতে দেখিনি। কিছু সময় আসে যখন ‘সিম্পল ইস দ্য বেস্ট’। যার পায়েই বল যাচ্ছিল নিজেদের ব্যক্তিগত নৈপুণ্য মেলে ধরার চেষ্টা করছিল। পজিটিভ মনে হচ্ছিল কেবল গাব্রিয়েল মার্তিনেল্লিকে। বদলি নেমে পেদ্রোও হতাশ করেছেন। ব্রুনো গিমারেস তো অনেকগুলো সুযোগ মিস করলেন। তবে মুদ্রার অন্য পিঠে আশাও তো থাকে। এই তরুণরা সবাই প্রতিভাধর। বড় মঞ্চের জন্য হয়তো এখনো তৈরি না তারা। আরেকটু সময় লাগবে। তবে সামনে ওরাই দলকে এগিয়ে নেবে।
আর এই হারকে আমার মনে হয় ব্রাজিল ইতিবাচকভাবেই নিয়েছে। দেখে তেমনই মনে হচ্ছিল। যেহেতু নকআউট পর্ব সামনে, তাই ইতিবাচকভাবে না নিয়ে উপায়ও নেই। ইতিবাচক থাকার রসদও আসলে আছে তাদের। ৯ জন খেলোয়াড়কে শুরুর একাদশে রাখেনি, এই তথ্যই বলে দেয় ওদের শক্তি।
শেষ ষোলোয় ব্রাজিল খেলবে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে। যে প্রতিপক্ষই হোক এখন আসলে কাউকে সহজ ভাবার সুযোগ নেই। নেইমার ম্যাচটা খেলতে পারবেন কি না সেটা এখনো নিশ্চিত নয়। তার উপস্থিতিটা আসলে সব সময়ই জরুরি। তবে ব্রাজিল গ্রুপের দ্বিতীয় ম্যাচে সুইজারল্যান্ডকে হারিয়েছে নেইমারকে ছাড়াই। এটা তাদের আত্মবিশ্বাসী রাখবে। আশা করি কোয়ার্টারে যাবে ব্রাজিল এবং সেখানে নিশ্চয়ই নেইমার খেলবেন।
