স্কালোনির গোপন অস্ত্র মাকড়সা মানব!

আপডেট : ০৪ ডিসেম্বর ২০২২, ১২:৪৫ এএম

মাকড়সা প্রায় অদৃশ্য জাল বুনে ফাঁদ পেতে রাখে শিকারের আশায়। জালে শিকার ধরা পড়লেই আট পায়ে তরতর করে জাল বেয়ে এসে শিকার ধরে প্রাণীটি। দেখতে কুৎসিত হলেও স্পাইডারম্যান কমিকসের কল্যাণে শৈশবে মাকড়সামানব হতে চায় অনেকেই।

জুলিয়ান আলভারেজের ডাক নাম দ্য স্পাইডার (স্প্যানিশে লা আরানা) অবশ্য স্পাইডারম্যান কমিকস থেকে আসেনি। ছোটবেলায় যখন ভাই আর পাড়ার বাচ্চাদের সঙ্গে খেলতেন, তখন তার কাছ থেকে বল কেড়েই নিতে পারত না কেউ! সেজন্যই বড় ভাই দুষ্টুমি করে নাম দিয়েছিলেন মাকড়সা, সেই নামটাই স্থায়ী হয়ে গেছে আর্জেন্টিনার এই ফরোয়ার্ডের। এখন আর মাকড়সা বলে ডাকলে রাগ করেন না, বরং স্পাইডারম্যানের মতো উদযাপন করাটাই পছন্দ।

পোল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে আর্জেন্টিনার দ্বিতীয় গোলটা করেছেন আলভারেজ, জাতীয় দলে এটা তার চতুর্থ আর বিশ্বকাপে প্রথম গোল। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেও নিশ্চয়ই জালে বল পাঠানোর চেষ্টায় ব্যস্ত থাকবেন এই আর্জেন্টাইন, প্রতিপক্ষের রক্ষণ যখন মেসিকে নিয়ে ব্যস্ত থাকবে তখন আলভারেজই হতে পারেন লিওনেল স্কালোনির গোপন অস্ত্র।

চলতি বছরের জানুয়ারির ৩১ তারিখে নিজের ২২তম জন্মদিনে সুখবরটা পেয়েছিলেন আলভারেজ। আর্জেন্টিনার রিভারপ্লেট থেকে এক লাফে ম্যানচেস্টার সিটিতে! কিশোর বয়সে রিয়াল মাদ্রিদে ট্রায়াল দিয়েছিলেন, তবে যোগ দিতে পারেননি বয়সের বাধার কারণে। চার মৌসুম রিভারপ্লেটে খেলার পর অবশেষে ইউরোপে ডাক এলো আলভারেজের, সাড়ে পাঁচ বছরের জন্য মাত্র সাড়ে ১৪ মিলিয়ন পাউন্ড দিয়ে বেশ সস্তায় তাকে দলে নিয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। ম্যানসিটির পরিচালক টিক্সি বেগেরেস্টাইন তাকে পেয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত ছিলেন, ‘আলভারেজ এমন একজন খেলোয়াড় যাকে অনেক দিন ধরেই আমরা অনুসরণ করছি। সে আক্রমণভাগের অনেকগুলো জায়গাতেই খেলতে পারে। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, দক্ষিণ আমেরিকার অন্যতম সেরা খেলোয়াড়কেই আমরা দলে নিয়েছি।’

আলভারেজকে আর্জেন্টিনার অনূর্ধ্ব-২০ দল থেকে ডাকা হয়েছিল ২০১৮ বিশ্বকাপ দলের সঙ্গে অনুশীলনের জন্য। ২০২১ সালের ৩ জুন জাতীয় দলে অভিষেক, এক বছরের খানিকটা বেশি সময় জাতীয় দলে কাটিয়েই আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপের দলে জায়গা করে নিয়েছেন ‘মাকড়সামানব’। ফেরা যাক তার এই নামের প্রসঙ্গেই। কেন মাকড়সা নাম হয়েছে আলভারেজের, সেটা জানিয়েছেন তার বাবা আর ভাই রাফায়েল, ‘ছোটবেলায় ওকে কিছু একটা বলে ডাকতে হতো, আমরা ওর জন্য একটা নাম খুঁজছিলাম আর মাকড়সা নামটা ওর হয়ে গেল।’ বাবা গুস্তাভো জানিয়েছেন, ‘ও বড় বড় পা ফেলে বল নিয়ে এগিয়ে যেত, ওর সঙ্গের ছেলেরা ওর নাম দেয় মাকড়সা; কারণ মনে হতো সে আটটা পা দিয়ে বলটা নিয়ন্ত্রণ করছে।’

ছোট থেকে শুনতে শুনতে মাকড়সা ডাকে আর রাগ করেন না আলভারেজ, ‘আমার বয়স যখন ৪ অথবা ৫ তখন থেকেই লা আরানা (মাকড়সা) নামে আমাকে ডাকতে শুনছি। একদিন ভাই আর বন্ধুদের সঙ্গে খেলছিলাম, তখন ওরা এই নামটা দেয় আর এরপর নামটা স্থায়ী হয়ে যায়। ওই নামটা শুনে শুনেই বড় হয়ে উঠেছি, এখন কেউ কদাচিৎ আমাকে জুলিয়ান নামে ডাকে।’ রিভারপ্লেটের হয়ে শিরোপা উৎসবে তাই স্পাইডারম্যানের মুখোশ পরেই করেছেন উদযাপন, এখন আর মাকড়সা নামে ডাকলে রাগ হয় না আলভারেজের।

মাকড়সার সঙ্গে জালের সম্পর্ক যেমন নিবিড়, তেমনি আলভারেজও গোলের সঙ্গে গড়তে চান সখ্য। পোল্যান্ডের বিপক্ষে গোলটা করেই থেমে যেতে চাইবেন না এই আর্জেন্টাইন, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটাতেও নিশ্চয়ই বল পাঠাতে চাইবেন জালে। রিভারপ্লেটের হয়ে ৭৪ ম্যাচে তার ৩৪ গোল, ম্যানসিটিতে এসে ১২ ম্যাচেই করে ফেলেছেন ৩ গোল। জাতীয় দলেও ১৫ ম্যাচে ৪ গোল।

পোলিশদের বিপক্ষে অমন গোলের পর স্কালোনি তাকে আরেকটা সুযোগ তো দেবেনই একাদশে। মাকড়সামানব আবার জালের দেখা কি পাবেন?

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত