বিশ্বের অন্যতম সফল উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক। এ বছরের এপ্রিলে খুদে ব্লগ লেখার প্ল্যাটফর্ম টুইটারের মালিক হন। এরপর থেকেই কোম্পানিটি ব্যাপক হারে কর্মী ছাঁটাই, কর্মীদের কাজের ঘণ্টা বাড়িয়ে দেওয়া ও দেউলিয়াত্বের ঝুঁকির কথা বলে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। টালমাটাল এই পরিস্থিতির মধ্যেই একটি পরিসংখ্যান সংস্থার ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী, ২০২৩-এর ১৭ জানুয়ারির মধ্যে টুইটারে শীর্ষ প্রভাব বিস্তারকারী হয়ে উঠবেন ইলন মাস্ক। লিখেছেন নাসরিন শওকত
নানা নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারের মালিকানা নেন ইলন মাস্ক। এ বছরের এপ্রিলে প্রকাশ্যে টুইটার কিনে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি। তখন আবার ভুয়া অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার ক্ষেত্রে টুইটার যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলেও অভিযোগ তোলেন। প্রকৃত ব্যবহারকারীর সংখ্যাসহ নানা বিষয়ে আপত্তিও ছিল তার। ৮ জুলাই হুট করেই চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন তিনি। বিষয়টি শেষ পর্যন্ত আদালতে গড়ায়। তখন টুইটারের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগও তোলেন মাস্ক। এর কিছুদিন পর আবারও ঘোষণা দেন টুইটারের সঙ্গে চুক্তি করতে রাজি তিনি। অবশেষে ২৭ অক্টোবর সেই ৪ হাজার ৪০০ কোটি ডলারেই টুইটারের সব শেয়ার কিনে এর মালিক হন ইলন মাস্ক।
পরিসংখ্যান সংস্থা সোশ্যাল ব্লেডের বিশ্লেষকদের ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী, ২০২৩-এর ১৭ জানুয়ারির মধ্যে ইলন মাস্ক টুইটারে এক নম্বর প্রভাবশালী হয়ে উঠবেন। তখন মাস্কের টুইটার অ্যাকাউন্টের (@ইলনমাস্ক) অনুসারীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ১২ কোটিতে (১২০ মিলিয়ন)। এই রেকর্ড গড়ার মধ্য দিয়ে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার পর টুইটারে সবচেয়ে বেশি অনুসারীর সংখ্যা হবে তার। ওবামার অনুসারীর সংখ্যা ১৩ কোটি। সোশ্যাল ব্লেডের পরিসংখ্যানবিদরা বলেন, ইলন মাস্ক টুইটারের মালিক হওয়ার পর থেকেই তার অনুসারীর সংখ্যা বিদ্যুৎ গতিতে বাড়ছে। সে নিশ্চিতভাবেই ১২ কোটির মাইলফলক ছুঁবেন। এটি নজিরবিহীন রেকর্ড হবে। এর আগে সামাজিক যোগযোগমাধ্যমের এই শিল্পটিতে এমন রেকর্ড দেখা যায়নি। যেখানে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্ল্যাটফর্মটির সবচেয়ে প্রভাব বিস্তারকারী ব্যক্তিও হবেন একজনই। সুতরাং এই ভবিষ্যদ্বাণী সত্যি হলে তিনি হবেন একই সঙ্গে টুইটারের সিইও ও এক নম্বর ইনফ্লুয়েন্সার (প্রভাবক)।
প্রযুক্তি জগতের রাজকুমার
প্রযুক্তি জগতের অপরাজেয় এক রাজকুমার ইলন মাস্ক। যেখানে তার উত্থান রূপকথার যেকোনো গল্পকেই হার মানায়। প্রযুক্তি উদ্যোক্তা, বিশ্বের শীর্ষ ধনী ও বিনিয়োগকারী। মহাকাশ সংস্থা স্পেসএক্স, বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলা, ‘নিউরালিংক’ থেকে শুরু করে ‘দ্য বোরিং কোম্পানি’সহ আটটি কোম্পানির মালিক তিনি। ৫১ বছর বয়সে এসে বিশে^র শীর্ষ ধনীর স্থানটি দখল করেছেন। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নানা তিনি উচ্চকাক্সক্ষী প্রকল্প ও পূর্বাভাস নিয়ে কাজ করছেন, যার বেশির ভাগই গবেষণামূলক। সবচেয়ে বিস্ময়কর হলো, বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক নিজের কোম্পানির সিইও হিসেবে বছরে মাত্র এক ডলার বেতন নেন! কখনো আবার তাও নেন না! তবে নিজের অংশীদারত্ব থাকা বিভিন্ন কোম্পানি থেকে যে লভ্যাংশ পান সেটাসহ আরও কিছু সুবিধা পান। আর এই আট সংস্থা থেকে আসা এমন আয়েই বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি তিনি। ফোর্বস বলছে, ২০২২ সাল পর্যন্ত তার সম্পদের পরিমাণ ছিল ২৪১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। কিন্তু এ বছরের ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত তা কমে আনুমানিক ১৮১ বিলিয়ন ডলারে এসে ঠেকেছে।
১৯৭১ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রিটোরিয়ায় জন্ম হয় ইলন রিভ মাস্কের। বাবা এরোল মাস্ক দক্ষিণ আফ্রিকান আর মা মায়ে মাস্ক কানাডীয়। প্রোটোরিয়া বয়েজ স্কুলে লেখাপড়া করেছেন মাস্ক। শিশু থেকেই কম্পিউটারের প্রতি বিশেষ ঝোঁক ছিল তার। যখন বয়স ১০, তখন বাবা-মার বিবাহবিচ্ছেদ হয়। সেই নিঃসঙ্গতায় বইকে সঙ্গী করে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং শেখা শুরু করেন তিনি। মাত্র ১২ বছর বয়সে প্রথম কম্পিউটার গেম আবিষ্কার করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেন। ব্লাস্টার্স নামে সেই গেমটি ৫০০ ডলারে বিক্রিও হয়।
দক্ষিণ আফ্রিকার বাধ্যতামূলক সামরিক বাহিনীর দায়িত্ব তাকে তেমন টানেনি। ১৯৮৮ সালে চলে আসেন কানাডায়। প্রথমে দেশটির অন্টারিওর কিংস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। পরে বিষয় স্থানান্তর করে ১৯৯২ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ফিলাডেলফিয়ার পেনসিলভেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে আসেন। সেখান থেকে অর্থনীতিতে ও পদার্থবিদ্যায় স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। এরমধ্যে ১৯৯৪ সালে সিলিকন ভ্যালিতে দুটি ইন্টার্নশীপও করেন। এরপর ক্যালিফোর্নিয়ার স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে জ্বালানি পদার্থ বিজ্ঞান নিয়ে পিএইচডি ডিগ্রির জন্য ভর্তি হন। তখন বিশ্ব ভাসছিল তথ্যপ্রযুক্তির জোয়ারে। কিন্তু উদ্যোক্তা হওয়ার নেশায় পেয়ে বসে তাকে। তাই ছেড়ে দেন পড়াশোনা।
১৯৯৯ সালে প্রথম উদ্যোক্তা হিসেবে যাত্রা শুরু হয় তার। প্রতিষ্ঠা করেন এক্স.কম নামে অনলাইন পেমেন্ট ব্যবসা, যা পরে সেটি পে প্যাল নামে পরিচিতি পায়। তার প্রতিষ্ঠিত প্রথম কোম্পানি জিপ২- যেটি ১৯৯৯ সালে ৩০৭ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি করেন। অনলাইনে সাফল্যের পর মঙ্গলে পাড়ি জমানোর ঝোঁক পেয়ে বসে তাকে। রকেট বিজ্ঞানী হতে পাড়ি জমান রাশিয়ায়। গবেষণা চালান রকেট নিয়ে। ২০০২ সালে স্পেসএক্স মহাকাশ যান নির্মাণ কোম্পানির উদ্বোধন করেন। রকেট বিজ্ঞানী হিসেবে চারদিকে নামডাক ছড়িয়ে পড়ে মাস্কের। স্পেসএক্স নিয়ে তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হলো, মহাকাশ ভ্রমণের প্রযুক্তি আবিষ্কারের মধ্য দিয়ে বিভিন্ন গ্রহে মানুষের বসতি গড়ে তোলা। এই প্রতিষ্ঠান বর্তমানে মানুষকে চাঁদে পাঠানোর বিষয়ে কাজ করছে। আবার স্পেসএক্সের কল্যাণেই মহাকাশে যাওয়ার খরচ ৯০ ভাগ কমানোও সম্ভব হয়েছে।
বিশ্ববিখ্যাত মোটর কোম্পানি টেসলার কথা কে জানে। টেসলার সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান পরিকল্পনাকারী ইলন মাস্ক প্রতিটি পণ্যের নকশা, প্রকৌশলসহ যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকেন। তার টানেল নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান বোরিং কোম্পানি যানজট কমিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থাকে দ্রুততর করতে কাজ করছে। ইলন মাস্ক যে একজন পরিবেশ অধিকারকর্মী সে কথা ভুলে গেলে চলবে না। তার পরিবেশ নিয়ে কাজের বাস্তব প্রমাণ হলো ‘সোলার সিটি’। এই প্রকল্পের মাধ্যমে সৌরশক্তিকে মানুষের কাছে জনপ্রিয় করে তুলেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব রুখতে কাজ করছে তার কোম্পানি টেসলা। যা গ্যাসচালিত গাড়ি থেকে মানুষকে বৈদ্যুতিক গাড়িতে অভ্যস্ত করে তুলছে। তার আরও একটি যুগান্তকারী প্রতিষ্ঠান নিউরালিং। ২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যাতে মানুষকে ছাড়িয়ে যেতে না পারে সেজন্য কম্পিউটারের সঙ্গে মানুষের চিন্তাভাবনার সংযোগ ঘটাতে আবিষ্কার করেছেন এক যন্ত্র, যার নাম নিউরালিংক। ২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে মানুষের মস্তিষ্কে বসানো হবে সেই নিউরালিংক।
২ লাখেরও বেশি অনুসারী
সাম্প্রতিক বিতর্ক সত্ত্বেও টুইটারে ইলন মাস্কের জনপ্রিয়তা অস্বীকার করা যাবে না কোনো মতেই। সোশ্যাল ব্লেডের পরিসংখ্যান মতে, শেষ ১২ মাসে টুইটারে প্রতিদিন গড়ে ২ লাখ ৬৮ হাজার ৩০৩ জন করে অনুসারীর সংখ্যা বেড়েছে ইলন মাস্কের। এর মধ্যে মাত্র পাঁচ দিন অনুসারী হারিয়েছেন তিনি। আর এ সংখ্যা কমার সঙ্গে সংবাদভিত্তিক ঘটনার যোগ থাকতে পারে। এ বছরের ১২ নভেম্বর মাস্ক তার দুই লাখ অনুসারী হারান। সেদিনই টুইটার থেকে বড়সংখ্যক কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। তবে একই দিন নতুন করে কিছু অনুসারীও পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেই সংখ্যার তুলনায় টুইটারে তাকে অনুসরণ করা থেকে সরে যাওয়াদের সংখ্যা অনেক বেশি ছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভাষ্যকার ম্যাট নাভারা বলেছেন, ‘ইলন মাস্ক এখন টুইটারের প্রধান চরিত্র। কোনো প্ল্যাটফর্মের একজন প্রধান প্রভাব বিস্তারকারীর সিইও হওয়ার কিছু সুবিধাও রয়েছে। কারণ এই প্রভাবের কারণেই যে কেউ সহজেই তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় মেটা (ফেইসবুক)। এরপরই টুইটারের অবস্থান। ভাষ্যকার ম্যাট নাভারা বলেন, ‘মেটার প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গও একজন সেলিব্রিটি। কিন্তু তার এই খ্যাতি ফেইসবুক পোস্টারে সক্রিয় থাকার জন্য নয়। তার বেশির ভাগ পোস্টই প্রতিষ্ঠানের স্বার্থসংশ্লিষ্ট। সে তুলনায় টুইটার বিচ্ছিন্নভাবে ইলন মাস্কের সঙ্গে যুক্ত। তার কারণ, মাস্কের একগুঁয়ে ও বিভক্তিমূলক আচরণ, যা প্রতিষ্ঠান হিসেবে টুইটারের ক্ষতির কারণ হয়ে উঠতে পারে।’ তিনি আরও বলেন, ‘মাস্ক খুব শত্রুভাবাপন্ন ও উত্তেজিত ব্যক্তি। অনেকে আবার তাকে বেশ বিষাক্ত মানুষ হিসেবেও দেখে থাকেন। এ কারণেই টুইটারের মতো ব্যান্ডের জন্য তাকে খুব বিপজ্জনক একজন হিসেবে দেখা যেতে পারে।’ এদিকে ইমার্জিং টেকনোলজির কনসালট্যান্ট কেট বাউচারেল বলেন, ‘সিইওর ব্যক্তিত্বকে একটি প্ল্যাটফর্মের ব্যক্তিত্বে রূপান্তর করার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বা বৈচিত্র্যের সঙ্গে যেকোনো ধরনের আপস করতে হয়। কিন্তু একজন শে^তাঙ্গ আমেরিকান পুরুষ অভিবাসীর দুনিয়ার তেমন কোনো আপসের নজির নেই।’
বেশি সক্রিয়
টুইটার কেনার পর থেকে ইলন মাস্ককে অনেক বেশি টুইট করতে দেখা গেছে। সোশ্যাল ব্লেডের তথ্য মতে, এরই মধ্যে দুর্দান্ত টুইটকারী হয়ে উঠেছেন। প্ল্যাটফর্মটি কেনার পর থেকে তিনি গড়ে ৮৪ ভাগ বেশি টুইট করছেন। ২২ নভেম্বর তিনি একাধারে ৭৫টি পৃথক টুইট করেন। যার মধ্যে কোনোটা পোস্ট, কোনোটা রিপ্লাই আবার কোনোটা বা রিটুইট। এটা তার জন্য একটি রেকর্ড। নাম প্রকাশ না করার শর্তে টুইটারের সাবেক এক পণ্য ব্যবস্থাপক বলেন, ‘আমার মনে হয় যারা বেশি বেশি টুইট করেন, তারা হয় এতে আসক্ত, নয়তো আত্মকেন্দ্রিক (নারসিস্টিট)। একজন ব্যক্তির পক্ষে দিনে মজার পাঁচটির বেশি বিষয় সবার সঙ্গে টুইট করে শেয়ার করা সম্ভব নয়।’
ইলন মাস্ক এখন ঘুম থেকে ওঠার পর গড়ে প্রতি ১৫ মিনিট পরপর একটি করে টুইট করেন। তার এমন টুইট করা নিয়ে সব বিশেষজ্ঞই একমত যে, একজন নারী বা পুরুষের সিইও হিসেবে নিজের প্ল্যাটফর্মে ডুবে থাকা ভালো বিষয় হতে পারে। তবে মাস্ক যে বিষয়গুলো নিয়ে টুইট করেন তা সমস্যাজনক হতে পারে বলে একমত সবাই। তার সাম্প্রতিক টুইটগুলোও বেশ বিভ্রান্তিকর। যার মধ্যে যৌনচিত্র ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যও রয়েছে। আবার টুইটারকে ধ্বংস করছেন বলে যারা সমালোচনা করছেন, তাদেরও সমালোচনার জবাব দিতেও দেখা যাচ্ছে তাকে। এমনকি শেষকৃত্যের সময় এক কবরস্থানের সামনে হাসিমুখে দাঁড়িয়ে থাকা এক ব্যক্তির একটি মেমেও পোস্ট করেছেন তিনি।
১২৯ ব্যক্তিত্বকে অনুসরণ
মাস্ক জনপ্রিয় এই প্ল্যাটফর্মটি কেনার পর থেকে তার অনুসারীর সংখ্যা এখন ৮ কোটি ৬০ লাখে দাঁড়িয়েছে। প্রথম দিকে তিনি নিজে টুইটারে মাত্র ছয়জন ব্যক্তিত্বকে অনুসরণ করতেন। বর্তমানে যে সংখ্যা বেড়ে ১২৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এদিকে টুইটারের সিইও থাকা অবস্থায় স্বয়ং এর প্রতিষ্ঠাতা জ্যাক ডরসি টুইটারে অনুসরণ করতেন সাড়ে ৩ হাজার টুইটার ব্যবহারকারীকে। আর সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা অনুসরণ করেন ৫ লাখ ৭০ হাজার ব্যবহারকারীকে। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভাষ্যকাররা বলছেন, খুব অল্পসংখ্যক ব্যবহারকারীকে অনুসরণ করেন ইলন মাস্ক। তাই সামাজিক নেটওয়ার্কে লোকরা কী সম্পর্কে কথা বলছেন, সে সম্পর্কে ইলন মাস্কের দৃষ্টিভঙ্গি খুবই সীমাবদ্ধ। সাবেক ওই টুইটার ম্যানেজার বলেছেন, ‘সাধারণ ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতা কী, তার কোনো ধারণাই নেই। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, তিনি কখনোই বিজ্ঞাপন দেখেন না। কারণ আমরা বিজ্ঞাপনগুলোর সরবরাহ শীর্ষ ১ হাজার বা তার বেশি ব্যবহারকারীর জন্য সীমাবদ্ধ করি। তাই টুইটার কেনার আগে পণ্যটির এই অংশটি বুঝতে পারেননি তিনি। যার জন্য ইলন মাস্ক টুইটারের মার্কেটিং দলকে বারবার বলেছেন ‘বিজ্ঞাপনকে টুইটারের মতো দেখাতে হবে’। কিন্তু সে সময় কোম্পানির বিজ্ঞাপনগুলো টুইট আকারেই ছিল। মাস্কের প্রধান লক্ষ্যগুলোর একটি ছিল তার নতুন টুইটার ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়িয়ে ১ কোটিতে নিয়ে যাওয়া। সোশ্যাল ব্লেডের অনুমান অনুসারে, বর্তমানে এ সংখ্যা ৩ কোটি। এই অনুসারীদের সঙ্গে ইলন মাস্ক আরও দুই বছর থাকবেন।
বিতর্ক ও সমালোচনা
জালিয়াতির অভিযোগ থেকে অসদাচরণের অভিযোগের মতো কেলেঙ্কারিতে এক পরিচিত নাম ইলন মাস্ক। বিশ^সেরা বৈদ্যুতিক গাড়ি তৈরি নয়তো মহাকাশ যান তৈরির সক্ষমতা তাকে বছরজুড়েই খবরের শিরোনামে থাকতে সহায়তা করে। তা সত্ত্বেও মহাকাশ ভ্রমণ ও বিকল্প জ¦ালানি উদ্ভাবনে ইলন মাস্কের অবদান তাকে বৈদ্যুতিক মোটরগাড়ি উৎসাহী, মহাকাশপ্রেমী ও প্রযুক্তিবিদদের কাছে এক আইকনে পরিণত করেছে। টেসলা, স্পেসএক্স, নিউরালিংক ও বোরিং কোম্পানিএই চারটি বিশ^সেরা কোম্পানির ডাকসাইটে সিইও তিনি। তবে স্পেসএক্সে ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকলেও বেশির ভাগ সময় রকেটের নকশা প্রস্তুত করা নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। তবে তিনি যে জনপ্রিয় পেমেন্ট মেথড পেপ্যালের একজন সহ-প্রতিষ্ঠাতা তা অনেকেরই অজানা। বিশেষজ্ঞরা বলেন, নিজের বিরুদ্ধে চলা সব নেতিবাচক প্রচারণাকে এক তুড়িতেই উড়িয়ে দিতে সক্ষম তিনি। এ ক্ষেত্রে তার পূজনীয় জনপ্রিয়তা ও নেতা-গোছের স্টাইল সবচেয়ে বেশি কাজ করে। তাই তাকে নিয়ে যেকোনো বাজে খবর দ্রুত ধুয়ে-মুছে সাফ করে ফেলেন মুনশিয়ানা দিয়ে ইলন মাস্ক। বিশাল সম্পদের মালিক ও ক্ষমতাশালী তার প্রকল্পগুলো বিশ^কে পাল্টে দিচ্ছে। তাই নায়ক বলুন, খলনায়ক বা অতিমানবীয় প্রতিভাধর অসম বৈশিষ্ট্যের এই ব্যক্তির বাস্তবতা বুঝে ওঠা কখনোই সহজ নয়।
