ছুরিকাহত শজিমেক শিক্ষার্থীর মৃত্যু সড়ক অবরোধ

আপডেট : ০৫ ডিসেম্বর ২০২২, ০৪:৫৫ এএম

মারা গেলেন ছুরিকাহত বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালের ২৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মেহরাজ হোসেন ফাহিম। গতকাল রবিবার ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তার। এদিকে ফাহিম ‘হত্যাকাণ্ডের’ বিচারসহ ৬ দফা দাবিতে ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক অবরোধ করেন শজিমেক শিক্ষার্থীরা। এতে প্রায় ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়েছে। ভোগান্তিতে পড়েন হাজার হাজার মানুষ।

গত ২৩ নভেম্বর সন্ধ্যার দিকে ফাহিম বন্ধুদের সঙ্গে শজিমেক হাসপাতালের দুই নম্বর গেটে আড্ডা দিচ্ছিলেন। এ সময় তারা ফরিদ ব্যাপারী ও তার ছেলে শাকিল হোসেনের দোকানে ঝালমুড়ি খেতে যান। সেখানে ঝালমুড়ি খাওয়া নিয়ে বাবা-ছেলের সঙ্গে বাগবিতণ্ডতায় জড়িয়ে পড়েন ফাহিম। তখন ক্ষিপ্ত হয়ে শাকিল তার হাতে থাকা (পেঁয়াজ কাটার জন্য রাখা) চাকু দিয়ে ফাহিমের পেটে আঘাত করে পালিয়ে যান। পরে তাকে উদ্ধার করে শজিমেকেঞধুনঁৎ। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। গতকাল সকালে তার মৃত্যু হয়। 

এদিকে ফাহিমের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর থেকে শজিমেক শিক্ষার্থীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে হাসপাতালের দুই নম্বর গেটের সামনে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে অবরোধ শুরু করেন। তারা ফাহিম হত্যার বিচারসহ ছয় দফা দাবিতে স্লোগান দেন। তাদের দাবিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ হলোÑ দুই নম্বর গেটসংলগ্ন সব অনিবন্ধিত দোকান উৎখাত করতে হবে, দোকানিদের ট্রেড লাইসেন্স চেক করাসহ পুলিশ ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করার পর এখানে ব্যবসা করার অনুমতি দিতে হবে, দুই নম্বর গেটসংলগ্ন নতুন রাস্তার মোড়ে নিয়মিত পুলিশ টহলের ব্যবস্থা করতে হবে, বহিরাগতদের কলেজ এলাকায় প্রবেশ সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করতে হবে। এ ছাড়া দ্রুততম সময়ে ফাহিমের হত্যাকারী শাকিলের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দাবিগুলো পূরণ না হলে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস-পীরক্ষা বর্জন করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। 

শিক্ষার্থীদের দাবিগুলোকে যৌক্তিক উল্লেখ করে মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. রেজাউল আলম জুয়েল বলেন, শিক্ষার্থীরা যে দাবিগুলো করেছে সে দাবিগুলোর সবই যৌক্তিক। এই দাবিগুলোর প্রেক্ষিতে আগামীতে বসে আলোচনা করে সমস্যাগুলোর সমাধান করা হবে।

বগুড়া জেলা পুলিশের সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সরাফত ইসলাম জানান, ফাহিমকে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় অভিযুক্ত শাকিলকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এখন শাকিল হত্যার বিষয়টি সরাসরি আদালতে বিচারাধীন। তবে শিক্ষার্থীদের অন্য দাবিগুলোকে সংশ্লিষ্ট মহলে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক অবরোধ করায় কলেজের উত্তরে মাটিডালি বিমান মোড় এবং দক্ষিণে বনানী এলাকা পর্যন্ত যানজটের সৃষ্টি হয়। বিকেল পৌনে ৬টার দিকে প্রায় দুই ঘণ্টা ছয় দফা দাবি পূরণের আশ্বাসে আন্দোলন করা শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক থেকে অবরোধ তুলে নেন।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত