সাধারণত বছরে দুবার মুদ্রানীতি ঘোষণা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। চলতি অর্থবছরের প্রথমে মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হয়েছে। ইতিমধ্যে অর্থবছরের ষাণ¥াসিক মুদ্রানীতি প্রণয়নে কাজ শুরু করা হয়েছে। এবারের মুদ্রানীতিতে সুদের হার পুনর্নির্ধারণ, শরিয়া পরিচালিত ইসলামি ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংকের আমানতের অবস্থা, ডলারের একক রেট চালুকরণ, খেলাপি ঋণ হ্রাস, মূল্যস্ফীতি এবং পণ্য আমদানি ও রপ্তানির আড়ালে অর্থ পাচার বন্ধে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থনীতিবিদ ও গবেষকরা। পাশাপাশি মুদ্রানীতিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিদ্যমান আইন, নীতি ও পদ্ধতি সম্পর্কেও নিজস্ব মতামত তুলে ধরেছেন তারা।
মুদ্রানীতি প্রণয়নে গতকাল সোমবার অর্থনীতিবিদ ও স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈঠকে এসব বিষয় উঠে আসে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মো. মেজবাউল হক সাংবাদিকদের বলেন, ‘মুদ্রানীতি প্রণয়নে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সংশ্লিষ্ট গবেষণা প্রতিষ্ঠান, অর্থনীতিবিদ ও অন্যান্য স্টেকহোল্ডারের মতামত ও পরামর্শ নিয়ে থাকে। গতকাল বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস), পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) ও সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে। সেখান থেকে প্রাপ্ত প্রয়োজনীয় তথ্য, পরামর্শ ও প্রস্তাব মুদ্রানীতি প্রণয়নে বিবেচনা করা হবে।’
বৈঠকে গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিআরআইয়ের নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘দেশের অর্থনীতির জন্য মুদ্রানীতির গুরুত্ব অপরিসীম। বাস্তবসম্মত মুদ্রানীতি প্রণয়ন হলে দেশের অর্থনীতি বেগবান হবে। এ জন্য অর্থনীতির প্রধান সূচকের ইস্যুতে সিদ্ধান্ত গ্রহণে কোনো ভুল করা উচিত হবে না।’ তিনি বলেন, দেশের স্বার্থেই অর্থনীতির চিত্র গভর্নরকে অবহিত করা হয়েছে। গভর্নরের পক্ষ থেকেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আইন, নীতি ও পদ্ধতি নানা বিষয় জানানো হয়েছে। আর চলমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও ডলার সংকট থেকে উত্তরণে গভর্নর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন।
বৈঠকে আলোচিত সুনির্দিষ্ট বিষয় সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘দেশের মুদ্রানীতিতে সুদর হার বেঁধে দেওয়া রয়েছে। এটা মুক্তবাজার অর্থনীতির সঙ্গে মানায় না। তবে গভর্নর আবদুর রউফ তালুকদার জানিয়েছেন যে, কিছু ক্ষেত্রে সুদের হার ৯ শতাংশের স্থলে ১২ শতাংশ করা হয়েছে। অন্যান্য ক্ষেত্রেও পর্যায়ক্রমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
ড. আহসান জানান, শরিয়াহ পরিচালিত ইসলামি ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংকের আমানতের অবস্থা এবং কবে নাগাদ তা স্বাভাবিক হবে সেই বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি ডলারের একক রেট চালুর বিষয়ে গভর্নর সময়ের কথা উল্লেখ করেছেন। এ ছাড়া খেলাপি ঋণ হ্রাস, মূল্যস্ফীতি এবং পণ্য আমদানি ও রপ্তানির আড়ালে পাচার বন্ধে বাংলাদেশ ব্যাংকের গৃহীত পদক্ষেপের কথা তিনি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের পক্ষ থেকেও এসব ইস্যুতে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।’
বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সানেমের নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান বলেন, ‘আমাদের পক্ষ থেকে মূল্যস্ফীতি, পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, ডলার সংকট ও ঋণ ইস্যুতে নানা কৌশল বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছি।’
বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দেশের বর্তমান অবস্থায় মুদ্রানীতির সহায়তায় মূল্যস্ফীতির রাশ টেনে ও প্রবৃদ্ধি বাড়িয়ে সামষ্টিক অর্থনীতির সুব্যবস্থাপনা একটি চ্যালেঞ্জ। বিষয়টি মাথায় রেখে কীভাবে সংকট মোকাবিলা করে অর্থনীতিকে সামনে এগিয়ে নেওয়া যায়, সে জন্য স্টেকহোল্ডারদের পরামর্শ নেওয়া শুরু করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
