এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বলেছেন, বিশ্বের সর্বনিম্ন নির্গমনকারী দেশ হওয়া সত্ত্বেও, নির্গমন নিয়ন্ত্রণের বৈশ্বিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ২০৩০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ ৮৯ দশমিক ৪৭ মিলিয়ন টন কমাতে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সেই লক্ষ্য অর্জনে পরিবহন, শিল্প, গৃহস্থালী, বাণিজ্যিক, কৃষি, ইটভাটা এবং ধাবমান নির্গমনের মতো জ¦ালানি খাত থেকে ৯৬ শতাংশ নির্গমন কমাবে বাংলাদেশ।
গত সোমবার লন্ডনের ম্যানশন হাউজে কমনওয়েলথ ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট সামিট ২০২২-এ ‘ফিন্যান্সিয়াল অ্যান্ড প্রফেশনাল সার্ভিসেস-দ্য রোল অব স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড রেগুলেশনস অন দ্য রোড টু নেট জিরো’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় এফবিসিসিআই সভাপতি এসব কথা বলেন।
এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, বিশ্বব্যাপী গ্রিনহাউজ গ্যাস (জিএইচজি) নির্গমনে বাংলাদেশের বর্তমান অবদান মাত্র শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ, কার্বন নির্গমনের অংশ মাত্র শূন্য দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ। তিনি বলেন, পরিবেশবান্ধব শিল্পায়ন বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে বেসরকারি খাত কাজ করছে। পরিবেশবান্ধব মান বজায় রাখতে বাংলাদেশের শিল্পকারখানাগুলো উদ্ভাবনমূলক কার্যক্রম হাতে নিয়েছে।
জসিম উদ্দিন বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়ে বাংলাদেশের একটি জাতীয় কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে যার মধ্যে ৯০টি উচ্চ-অগ্রাধিকারসহ ১১৩টি পদক্ষেপ রয়েছে। এগুলো বাস্তবায়নে ২০৫০ সাল নাগাদ ২৩০ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন। তিনি আরও জানান, বিশ্ব অর্থনীতিকে কার্বন নিঃসরণের ক্ষেত্রে নেট-জিরোতে রূপান্তর করতে এবং জলবায়ু বিপর্যয় এড়াতে ২০৫০ সালের মধ্যে প্রায় ৫০ ট্রিলিয়ন ডলারের ক্রমবর্ধমান বিনিয়োগ প্রয়োজন।
জলবায়ু পরিবর্তনসংক্রান্ত জাতিসংঘের ২৭তম (কপ-২৭) সম্মেলনে জলবায়ু অর্থায়নের ওপর বাংলাদেশ জোর দিয়েছে উল্লেখ করে এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ, সবুজ বা নীল বন্ডের মতো উদ্ভাবনী অর্থায়ন, ঝুঁকি স্থানান্তর প্রক্রিয়া বা বীমার সমন্বয়ের মাধ্যমে জলবায়ু অর্থায়নকে চালিত করা যেতে পারে বলে। সবুজায়ন এবং বৈশ্বিক জলবায়ু অর্থায়ন বহুপাক্ষিক তহবিল গঠন ভালো বিকল্প হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ইস্ট অ্যান্ড কমিউনিটি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এবং সিটি অব লন্ডনের অল্ডারম্যান ব্রোনেক মাসোজ্যাডার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ গোলটেবিল বৈঠকে ইউকে অ্যাক্রিডিটেশন সার্ভিসের চেয়ারম্যান লর্ড লিন্ডসে, ব্রিটিশ স্ট্যান্ডার্ড ইনস্টিটিউশন-বিএসআইয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুজান টেইলর মার্টিন, অন্য সদস্যরা আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন।
