৩০০ কোটি মানুষের বাজার হবে

আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০২২, ০৫:১৭ এএম

ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ ৩০০ কোটির বেশি মানুষের বাজার হতে পারে বলে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে বাংলাদেশ স্পেশাল ইকোনমিক জোনের (বাংলাদেশে জাপানিজ অর্থনৈতিক অঞ্চল) উদ্বোধন করে তিনি এ কথা বলেন। গতকাল মঙ্গলবার সকালে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ অর্থনৈতিক অঞ্চলটি উদ্বোধন করেন তিনি।

এ সময় আড়াইহাজার প্রান্ত থেকে বক্তব্য দেন জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি, জাপানের সুমিতোমো করপোরেশনের প্রেসিডেন্ট ও সিইও মাসাইউকি হিওদো, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান শেখ ইউসুফ হারুন, উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু এবং জেলা প্রশাসক মঞ্জুরুল হাফিজসহ অতিথিরা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রায় ১৭ কোটি মানুষ আমাদের নিজেদেরই। আর পূর্ব দিকে ৫০ কোটি, উত্তর দিকে ১৫০ কোটি, পশ্চিমে ১০০ কোটি মানুষের বাজার রয়েছে। যোগাযোগ অবকাঠামো বৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশ থেকে পণ্য পরিবহনে বিরাট সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এই অর্থনৈতিক অঞ্চলে যারা বিনিয়োগ করবেন, তারা সমৃদ্ধ হবেন, আমাদের দেশেরও উন্নতি হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতার লক্ষ্য ছিল আমাদের কৃষিপ্রধান দেশ, পাশাপাশি শিল্পায়নও ঘটবে। জাপান যেভাবে কৃষিনির্ভর দেশ থেকে শিল্পায়ন হয়েছে, জাতির পিতা সব সময় জাপানকে দৃষ্টান্ত হিসেবে উপস্থাপন করতেন। জাপান আমাদের অকৃত্রিম বন্ধু। জাপান সব সময় আমাদের পাশে ছিল। এই সোনারগাঁ হোটেল, যমুনা সেতু নির্মাণ, এমনকি পদ্মা সেতু নির্মাণেও জাপান সহায়তা করেছে। বাংলাদেশের উন্নয়নে জাপানের অনেক অবদান রয়েছে। আমি জাপান সরকারকে ধন্যবাদ জানাই।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘২০১৪ সালে আমি যখন জাপানে যাই, তখনই জাপানের প্রয়াত প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এ চুক্তি স্বাক্ষর হয়। এ ছাড়া জাপান আমাদের আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে দিচ্ছে। আমাদের পঞ্চাশ বছরের বন্ধুত্বের এটি একটি নিদর্শন। আমাদের বন্ধুত্ব অটুট।’ তিনি বলেন, ‘যারাই এখানে উন্নয়ন করতে আসবে তারা করতে পারবে। আমরা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা দিচ্ছি। তারা তা ভোগ করতে পারবে। আমাদের ডিপ সি পোর্ট হচ্ছে। নৌপথ ও সড়কপথেও উন্নয়ন হয়েছে। ফলে বাংলাদেশে বর্তমানে বিনিয়োগের চমৎকার পরিবেশ বিরাজ করছে। তরুণরা যেন বিনিয়োগ করতে পারে, সে জন্য আমরা নানা কর্মসূচি ও স্বল্প সুদে ঋণের ব্যবস্থা করছি। পৃথিবীতে বাংলাদেশ বিনিয়োগের সবচেয়ে আকর্ষণীয় জায়গা। বিনিয়োগবান্ধব আইন ও নীতিমালা করেছি, বিনিয়োগকারীদের জন্য ওয়ান স্টপ সার্ভিসও চালু করা হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘এখানে আমাদের নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে। এখানে চার থেকে পাঁচ বিলিয়ন ডলার আমরা উপার্জন করছি। অনেক মানুষ এখানে কাজ করছে। সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা রেখেই আমরা এ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো গড়ে তুলছি।’

বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ জায়গা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা তারপরও আমাদের জনগণের ক্রয়ক্ষমতা বাড়াতে পেরেছি। বাংলাদেশে বিনিয়োগ করলে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এমনকি পশ্চিমা দেশগুলোতেও পণ্য পরিবহনের সুযোগ সৃষ্টি হবে। বিনিয়োগের জন্য সবচেয়ে উত্তম জায়গা বাংলাদেশ। আমাদের দেশের মানুষ আরও বেশি নিজের দেশে বিনিয়োগ করতে উৎসাহিত হবে আশা করি।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের শিল্পাঞ্চলগুলো যাতে পরিবেশবান্ধব হয় সে জন্য নানা ব্যবস্থা নিচ্ছি। বর্জ্য পরিশোধনের জন্য আমরা সেন্ট্রাল বর্জ্য পরিশোধনাগার করে দিচ্ছি। পাশাপাশি প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব বর্জ্য পরিশোধনগার রাখাও বাধ্যতামূলক করেছি। জাপানের এই উদ্যোগ অন্যান্য দেশকেও আমাদের দেশে বিনিয়োগ করতে উৎসাহিত করবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছে। ২০৪১ সালের মধ্যে আমরা বাংলাদেশকে উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলব।’

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশে জাপানিজ অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্মাণের পথ চলা শুরু হয়। ২০১৬ সালে জাইকা বাংলাদেশে একটি জাপানিজ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনে সম্ভাব্যতা সমীক্ষার কাজ হাতে নেয় এবং একই বছর জাপান সরকার বিশ^বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান সুমিতোমো করপোরেশনকে ডেভেলপার হিসেবে নিয়োগ করার জন্য সুপারিশ করে। ২০১৮ সালে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা শেষে জাইকা নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে জাপানিজ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের পক্ষে মত দেয়। পরে যৌথ উদ্যোগে জাপানিজ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনে ২০১৯ সালে বেজা ও সুমিতোমো করপোরেশনের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত