রাজনৈতিক সহিংসতায় উদ্বেগ যুক্তরাষ্ট্রের

আপডেট : ০৮ ডিসেম্বর ২০২২, ০৩:২৮ এএম

বাংলাদেশে রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। পররাষ্ট্র দপ্তরে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে স্থানীয় সময় গত মঙ্গলবার এক প্রশ্নে এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র নেড প্রাইস। একই সঙ্গে ঢাকায় নাগরিকদের জনসমাগম এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস।

নেড প্রাইস ওয়াশিংটনে ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘বাংলাদেশে বলপ্রয়োগ ও রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় আমরা উদ্বিগ্ন। মতপ্রকাশ, সমাবেশ ও শান্তিপূর্ণ সমাগমের মৌলিক অধিকারের প্রতি সম্মান ও তা রক্ষার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি আমরা।’

বিরোধী দলের শান্তিপূর্ণ সভা-সমাবেশের ওপর কড়াকড়ি আরোপের ঘটনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র উদ্বিগ্ন বলে জানান যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র। তিনি বলেন, ‘আইনের শাসনের প্রতি সম্মান দেখাতে এবং সহিংসতা, হয়রানি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন থেকে বিরত থাকতে আমরা সব রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান জানাই।’ তিনি আরও বলেন, ‘কোনো রাজনৈতিক দল কিংবা প্রার্থীকে হুমকি, উসকানি অথবা এক দল আরেক দল বা প্রার্থীর ওপর যাতে সহিংসতা ঘটাতে না পারে, বিষয়টি নিশ্চিত করতে আমরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই।’

ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশে নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়েও কথা বলেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র। তিনি বলেন, ‘অর্থপূর্ণ নির্বাচন আয়োজন করতে হলে সহিংসতা, হয়রানি ও নির্ভয়ে ভোটারদের সঙ্গে প্রার্থীদের জনসংযোগ করার সুযোগ করে দিতে হবে। একই সঙ্গে সহিংসতার ঘটনার পূর্ণাঙ্গ, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং এসব ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে সরকারকে উৎসাহী করি।’

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের জন্য সতর্কবার্তা : ঢাকায় অবস্থানরত নাগরিকদের উদ্দেশে সতর্কবার্তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস। গতকাল বুধবার ঢাকায় দেশটির দূতাবাস তাদের ওয়েবসাইট ও টুইটারে দেওয়া বার্তায় ১০ ডিসেম্বর গণসমাবেশ এড়িয়ে চলার পাশাপাশি বড় জমায়েত এবং তার আশপাশের এলাকার বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে।

ঢাকায় দূতাবাসের টুইট বার্তায় বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশের বড় দুটি রাজনৈতিক দল ঢাকার ভিন্ন ভিন্ন এলাকায় সমাবেশের ডাক দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের বিক্ষোভ এড়িয়ে চলা উচিত এবং যেকোনো বড় গণজমায়েতের আশপাশে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।’

গতকাল সন্ধ্যায় ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের ওয়েবসাইটে দেওয়া বার্তায় বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশে পরবর্তী জাতীয় নির্বাচন ২০২৪ সালের জানুয়ারি কিংবা তার আগে অনুষ্ঠিত হতে পারে। এরই মধ্যে রাজনৈতিক দলের সমাবেশ ও নির্বাচনকেন্দ্রিক তৎপরতা শুরু হয়ে গেছে। সাধারণ নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক দলের মিছিল ও গণসমাবেশ ক্রমান্বয়ে বাড়তে পারে। বাংলাদেশের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দল ১০ ডিসেম্বর রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় গণসমাবেশ আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে।’

এ প্রেক্ষাপটে ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস দেশটির নাগরিকদের সম্ভাব্য বিপদের বিষয়টিকে বিবেচনায় নিয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। কারণ তাদের মনে রাখা উচিত, বাংলাদেশে সমাবেশ শান্তিপূর্ণ হলেও তা সংঘাতময় হয়ে পরবর্তীকালে সহিংসতায় রূপ নিতে পারে। তাই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের গণসমাবেশ এড়িয়ে চলার পাশাপাশি বড় সমাবেশের আশপাশের এলাকার বিষয়ে সতর্ক থাকা উচিত। এ পরিস্থিতিতে ঢাকায় অবস্থানরত নাগরিকদের নিজেদের নিরাপত্তার পরিকল্পনা পর্যালোচনার পাশাপাশি স্থানীয় অনুষ্ঠানসহ নিজেদের চারপাশের বিষয়ে সতর্ক থাকা এবং হালনাগাদ তথ্য জানতে স্থানীয় খবরে নজর রাখার পরামর্শ দিয়েছে।

মানবাধিকার সনদ মেনে চলার তাগিদ জাতিসংঘের : শান্তিপূর্ণ সমাবেশ অনুষ্ঠান এবং মতপ্রকাশ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতাসহ মানবাধিকার সনদের বিভিন্ন বিধান মেনে চলার অঙ্গীকার রক্ষায় বাংলাদেশকে তাগিদ দিয়েছে জাতিসংঘ। ঢাকায় নিযুক্ত সংস্থাটির আবাসিক প্রতিনিধি গোয়েন লুইস গতকাল এক বিবৃতিতে এ তাগিদ দেন।

বাংলাদেশে জাতিসংঘ আবাসিক কার্যালয়ের ওয়েবসাইট ও ফেইসবুক পেজে গতকাল বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বিবৃতিটি প্রকাশ করা হয়। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ১০ ডিসেম্বর মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে বিবৃতিটি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির আবাসিক প্রতিনিধি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত