কর্মসূচি নেই দুই দলের শরিকদের

আপডেট : ০৯ ডিসেম্বর ২০২২, ০১:৫৯ এএম

নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে গত বুধবার পুলিশের সঙ্গে সংষর্ঘ, হতাহত ও আটকের ঘটনায় নিন্দা-প্রতিবাদ জানিয়েছে বিএনপির শরিক ও সমমনা দলগুলো। বিবৃতি দিয়ে তারা প্রতিবাদ জানায়। ঘটনার প্রতিবাদে বিএনপি গতকাল বৃহস্পতিবার সারা দেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে। তবে সমমনা বা শরিক দলগুলো কোনো কর্মসূচি দেয়নি। অন্যদিকে ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় বিএনপির সমাবেশকে কেন্দ্র করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা মাঠে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন। বিএনপি ও আওয়ামী লীগ মুখোমুখি অবস্থান নিলেও ক্ষমতাসীনদের শরিকদেরও কোনো কর্মসূচি নেই।

১৪ দলীয় জোট : আওয়ামী লীগের মিত্রশক্তি ১৪ দলীয় জোটের শরিক বিভিন্ন দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা চুপ থাকবেন। শুধু ১০ ডিসেম্বরের কর্মসূচিই নয়, সরকারবিরোধী সামনের কোনো কর্মসূচিতেও সেভাবে থাকার কোনো পরিকল্পনা নেই তাদের।

কেন এ সিদ্ধান্ত জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে শরিক দলের নেতারা দেশ রূপান্তরকে বলেন, যে লক্ষ্য-উদ্দেশ্য নিয়ে আদর্শিক জোট ১৪ দল গঠন করা হয়েছিল তার অনেক কিছুই খসে পড়েছে। আওয়ামী লীগ ভুলে যেতে বসেছে জোটের সঙ্গে করা অঙ্গীকার। ক্ষমতায় মোহাবিষ্ট থাকলে জোটের শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ খুব কম। তাছাড়া আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে জোটের অবমূল্যায়ন করেছে। ১৪ দলীয় জোট নেতাদের সরকারের বাইরে রেখে অবমূল্যায়নের শুরু। শরিক দলের অনেক নেতা বলেন, ২০০৫ সাল থেকে আন্দোলন-সংগ্রামে তাদের অবদান আওয়ামী লীগ এখন স্বীকার করে না। এসব ছোট ছোট ঘটনা বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। দলগুলোর বড় নেতারা নিষ্ক্রিয়। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন ইস্যুতে সরকারের সমালোচনাও করতে দেখা যায় দলগুলোকে।

১৪ দলের অন্যতম শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা জোটে আছি; কিন্তু এ আন্দোলন মোকাবিলা করার কোনো সিদ্ধান্ত আমাদের নেই।’ কেন এ অবস্থান জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রয়োজন নেই, তাই।’ তবে কি জোট নেই এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘টানাপড়েন নিয়ে জোট আছে। তবে ১০ ডিসেম্বরের কর্মসূচি ঘিরে গত বুধবারের ঘটনায় বিএনপির দায় রয়েছে। বুধবার বিএনপির কি কোনো কর্মসূচি ছিল? তাহলে কেন তারা নয়াপল্টনে বসতে গেল?’

সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া বুধবারের ঘটনার জন্য বিএনপিকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, ‘বিএনপি দেশকে অস্থিতিশীল করে তুলতে চায়।’ তবে দেশ রূপান্তরকে তিনি বলেন, ‘জোটগতভাবে ১০ ডিসেম্বর ধরে আমাদের কোনো কর্মসূচি নেই। আলাদাভাবেও মাঠে থাকার পরিকল্পনা নেই আমাদের দলের।’

আরেক শরিক জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘১৪ দলীয় জোটের মাঠে থাকার কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। জাসদ আলাদাভাবেও কোনো অবস্থান নেবে না।’ তিনি বলেন, ‘জোটে কিছু গরমিল আছে। তবে জোট অটুট রয়েছে।’ বিএনপির কর্মসূচি সম্পর্কে ইনু বলেন, ‘বিএনপি নাশকতা-সংঘাত সৃষ্টি করে অস্থিরতা তৈরি করতে চায়।’

অবশ্য গতকাল শরিক দলগুলোকে নিয়ে ১৪ দলের সমন্বয়ক ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য আমির হোসেন আমু বৈঠক করেছেন। ইস্কাটনের নিজ বাসায় অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের আমু বলেন, ‘১৪ দল আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট বেঁধেই আগামী নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত অপশক্তির বিরুদ্ধে লড়বে। বৈশ্বিক সংকটে সৃষ্ট দেশের সব সমস্যা ১৪ দল একসঙ্গেই মোকাবিলা করবে।’ তিনি বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াতের দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলতে পেশাজীবী সংগঠনগুলোর সঙ্গে শিগগির বৈঠক করবে ১৪ দল। জোটভিত্তিক দলগুলো শিগগির সরব হবে।’

কর্মসূচি নেই বিএনপি মিত্রদের : সরকারবিরোধী অবস্থান থেকে বিএনপির সমমনা সাতটি দলের জোট গণতন্ত্র মঞ্চ গতকাল রাজধানীর সেগুনবাগিচায় নাগরিক ঐক্যের অফিসের পাশে একটি মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করেছে। এ ছাড়া আজ শুক্রবার বেলা ১১টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় পরিদর্শনে যাবেন মঞ্চের নেতারা। এর বাইরে পৃথক কোনো কর্মসূচি নেই দলগুলোর।

গণতন্ত্র মঞ্চের শরিক দলগুলোর মধ্যে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক গতকাল রাতে দেশ রূপান্তরকে জানান, আজ অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও বিশিষ্ট নাগরিকদের যাওয়ার ইচ্ছা আছে। ১০ ডিসেম্বর শনিবার যেহেতু বিএনপির সমাবেশ, সেহেতু তাদের আর কোনো কর্মসূচি নেই।

নয়াপল্টনের ঘটনায় আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি), জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম), জামায়াতে ইসলামী, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনসহ সরকারবিরোধী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা গণমাধ্যমে বিবৃতি দেন।

একই ঘটনার প্রতিবাদ ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে গতকাল সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছে গণতন্ত্র মঞ্চ। সেখানে জোটের নেতারা বলেছেন, বিএনপির ১০ তারিখের সমাবেশকে বন্ধ করতে সরকার সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে। একই সঙ্গে সরকার অবৈধ ক্ষমতাকে বৈধতা দেওয়ার জন্য দমন-নিপীড়ন করে সন্ত্রাসের পথ বেছে নিয়েছে।

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘অবৈধ ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখার জন্য বর্তমান সরকার নৃশংসতার সব সীমা অতিক্রম করেছে।’

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, “সরকারি দলের সাধারণ সম্পাদক ‘খেলা হবে’ বলে আগ্রাসী এবং আক্রমণাত্মক রাজনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছেন।”

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘বিএনপি অফিসের সামনে পুলিশ হামলা করে একজনকে হত্যা করেছে। আবার টেলিভিশনে মিথ্যাচার করছে, কার গুলিতে মারা গেছে? তারা নাকি শুধু রাবার বুলেট মেরেছে। তাহলে কীভাবে মারা গেল? পুলিশের সঙ্গে প্রাইভেট বাহিনীও যুক্ত হয়ে গুলি করেছে। জার্সি পরে গুলি করেছে, আমরা দেখেছি। গত বুধবার একজন বিএনপির নেত্রী তার ছেলেকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য আর্তনাদ করেছেন, সেটা পর্যন্ত তারা শুনছে না। এরকম একটা ভয়াবহ অমানবিক পরিস্থিতি সরকার তৈরি করেছে।’

গণ অধিকার পরিষদের সদস্য সচিব নুরুল হক নুর বর্তমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনের জন্য রাজনৈতিক ঐকমত্য তৈরির আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আর যদি পুলিশ দিয়ে রাষ্ট্র চালাতে চান, তাহলে প্রধানমন্ত্রীকে বলব আপনি পদত্যাগ করে পুলিশপ্রধানকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত