অর্থনৈতিক অঞ্চলে সড়ক

৪ হাজার কোটি টাকা দেবে এডিবি

আপডেট : ০৯ ডিসেম্বর ২০২২, ০২:০৪ এএম

ঢাকা-জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ মহাসড়কে বাস্তবায়নাধীন ১০ লেনের এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে ১০টি অর্থনৈতিক অঞ্চলকে যুক্ত করতে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হবে। এসব সংযোগ সড়ক নির্মাণে বাংলাদেশকে ৪০ কোটি ডলার বা ৪ হাজার ১৪৭ কোটি টাকা (প্রতি ডলার সমান ১০৩ টাকা ৬৯ পয়সা ধরে) ঋণ দিচ্ছে এশীয়া উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। গতকাল বৃহস্পতিবার এডিবির ঢাকা অফিস থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

ঢাকা-জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ চার লেন সড়ককে ১০ লেনের এক্সপ্রেসওয়েতে উন্নীত করার চলমান প্রকল্পেও এডিবি ঋণ ব্যবহার করা হবে। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের ‘ইমপ্রুভমেন্ট ঢাকা-জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ রোড ইনটু এক্সপ্রেসওয়ে উইথ সার্ভিস লেইন বোথ সাইড’ প্রকল্প বাস্তবায়নে নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) ভিত্তিতে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিষ্ঠান কেরিয়া ওভারসিজ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট করপোরেশনে এ সড়কের নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করবে। এটা চার লেনের রাস্তা ছিল। এ রাস্তাকে আরও প্রশস্ত করার পাশাপাশি আরও কিছু কাজ করা হবে। সরকার ও কোরিয়ান কোম্পানি যৌথভাবে কাজটি করবে।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ রুটে চার লেনের ৮৭ দশমিক ১৮ কিলোমিটার সড়ককে ১০ লেনের আন্তর্জাতিক মানের এক্সপ্রেসওয়েতে উন্নীত করা হবে। এখনকার চার লেনের পাশাপাশি ১০ ফুট প্রশস্ত করে দুই পাশে ব্যারিয়ার দিয়ে ইমার্জেন্সি লেন নির্মাণ করা হবে, যা দিয়ে শুধু অ্যাম্বুলেন্স, নিরাপত্তা গাড়ি, ভিআইপিসহ যেকোনো জরুরি কাজে নিয়োজিত গাড়ি চলাচল করবে। এরপর আরও ১৮ থেকে ২৪ ফুট করে স্বল্পগতির যান চলাচলের জন্য আলাদা দুটি করে লেন করা হবে দুই পাশে। সব মিলিয়ে একপাশে পাঁচটি সড়ক লেনসহ দুপাশে ১০ লেনের সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। দুপাশের অন্য সড়ক থেকে এক্সপ্রেসওয়ে সড়কে উঠতে ও বের হতে প্রতি দুই-তিন কিলোমিটার পরপর আন্ডারপাস ইউটার্ন নির্মিত হবে।

এ সড়কটি দেশের ১০টি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অঞ্চলে সংযোগ তৈরি করবে। দেশের অর্থনীতি ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধির মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। ২০৩০ সালের মধ্যে অর্থনৈতিক এ উন্নয়নকে ত্বরান্বিত ও টেকসই করতে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করে পণ্য রপ্তানি বাবদ অতিরিক্ত ৪ হাজার কোটি ডলার আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। এ লক্ষ্য অর্জনে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়ন কর্র্তৃপক্ষ (বেজা)। এরই মধ্যে বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে ১০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল।

বেজার হালনাগাদ প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, এখন পর্যন্ত ১০টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের উন্নয়নকাজ সমাপ্ত হয়েছে। বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত এসব অর্থনৈতিক অঞ্চলের মধ্যে রয়েছে বাগেরহাটে মোংলা অর্থনৈতিক অঞ্চল, মৌলভীবাজারে শ্রীহট্ট অর্থনৈতিক অঞ্চল, নারায়ণগঞ্জে মেঘনা অর্থনৈতিক অঞ্চল, মেঘনা ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইকোনমিক জোন, আমান অর্থনৈতিক অঞ্চল ও সিটি অর্থনৈতিক অঞ্চল, মুন্সীগঞ্জে আবদুল মোনেম অর্থনৈতিক অঞ্চল, গাজীপুরে বে অর্থনৈতিক অঞ্চল, চট্টগ্রামে কর্ণফুলী ড্রাই ডক ইকোনমিক জোন এবং কিশোরগঞ্জে কিশোরগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চল।

এডিবি অফিসের পিপিপি প্রধান এফ. ক্লিও কাওয়াওয়াকি বলেন, এই এক্সপ্রেসওয়েটি আরও প্রদর্শন করবে যে কীভাবে জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো তৈরি করা যায়। অবকাঠামো তৈরিতে বেসরকারি খাতের উদ্ভাবন, দক্ষতা এবং মূলধনকে কাজে লাগানো আমাদের অন্যতম লক্ষ্য।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত