ভারতের শাস্ত্রীয় সংগীতের জগতে অন্নপূর্ণা দেবী ছিলেন এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। কিন্তু এই নক্ষত্রকে বেশিদিন আকাশে দেখা যায়নি। ঘনকালো মেঘে নক্ষত্রের দ্যুতি ঢাকা পড়ে যায়। মানুষের সামনে কখনোই সংগীত পরিবেশন করবেন না, এমন এক ধনুকভাঙা পণ করেন তিনি। কী এমন ঘটেছিল যে প্রখ্যাত সেতারবাদক রবি শঙ্করের স্ত্রী এমন পণ করলেন এবং জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত রাখলেন? লিখেছেন তৃষা বড়ুয়া
প্রতিভার অপচয়
‘দয়া করে কেবল তিনবার বেল বাজাবেন। কেউ দরজা না খুললে অনুগ্রহ করে আপনার কার্ড/চিঠি রেখে যাবেন। সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ।’ ভারতের মুম্বাই শহরে আকাশগঙ্গা অ্যাপার্টমেন্টস নামে এক ভবনের ষষ্ঠতলার ফ্ল্যাটের দরজার পাশে কয়েক বছর আগে এমনটাই লেখা ছিল। সেই ফ্ল্যাট এখনো আছে তবে লেখাটি আর নেই কারণ ২০১৮ সালে ফ্ল্যাটের মালিকের মৃত্যু হয়। আকাশগঙ্গা অ্যাপার্টমেন্টসের ষষ্ঠতলার ওই ফ্ল্যাটে থাকতেন সংগীতের দেবী সরস্বতীর মূর্ত রূপ, নাম অন্নপূর্ণা। ভারতের শাস্ত্রীয় সংগীত সম্পর্কে যাদের জানাশোনা আছে, তাদের কাছে অন্নপূর্ণা দেবী নামটি অপরিচিত নয়। তিনি ছিলেন মাইহার ঘরানার প্রতিষ্ঠাতা ওস্তাদ আলাউদ্দিন খানের মেয়ে ও সরোদবাদক ওস্তাদ আলি আকবর খানের ছোট বোন। আলাউদ্দিন খানের কাছ থেকে তালিম নিয়ে সুরবাহার বাজানোয় অসাধারণ দক্ষতা অর্জন করেন অন্নপূর্ণা দেবী। বংশীবাদক পণ্ডিত হরিপ্রসাদ চৌরাসিয়া, সেতারবাদক নিখিল ব্যানার্জি, বংশীবাদক নিত্যানন্দ হলদিপুর, সরোদবাদক বসন্ত কাবরার মতো হিন্দুস্তানি উচ্চাঙ্গসংগীতের দিকপালরা ছিলেন অন্নপূর্ণা দেবীর শিষ্য। আলাউদ্দিন খানের মেয়ে বা আলি আকবর খানের বোন ছাড়াও তার আরেকটি পরিচয় আছে। ভারতের প্রখ্যাত সেতারবাদক পণ্ডিত রবি শঙ্কর ছিলেন অন্নপূর্ণা দেবীর প্রাক্তন স্বামী। গত শতাব্দীর চল্লিশের দশকে তাদের বিয়ে হয়। এই দুজনের দেখা না হলেই হয়তো ভালো হতো কারণ রবি শঙ্করের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল অন্নপূর্ণা দেবীর জীবনে ট্র্যাজেডি। দাম্পত্য জীবনে রবি শঙ্করের সঙ্গে মনোমালিন্যের একপর্যায়ে অন্নপূর্ণা দেবী সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তিনি আর কখনোই জনসম্মুখে সংগীত পরিবেশন করবেন না। জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ওই সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন তিনি। অন্নপূর্ণা দেবীর সিদ্ধান্ত ছিল ভারতের উচ্চাঙ্গসংগীত জগতের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। অন্নপূর্ণা দেবীর মতো প্রতিভা সংগীত জগৎ থেকে চিরতরে হারিয়ে যায়। শুধু সংগীত নয়, ব্যক্তিজীবনেও তিনি নিজেকে গুটিয়ে ফেলেন। আকাশগঙ্গা অ্যাপার্টমেন্টস থেকে তেমন একটা বের হতেন না। মানুষের সঙ্গে মিশতে চাইতেন না। লোকচক্ষুর আড়ালে থাকতেন। শুধু শিষ্যরাই তার জ্ঞানের সান্নিধ্য পেতেন। ফোন পর্যন্ত ধরতেন না অন্নপূর্ণা। সংবাদমাধ্যম থেকে কেউ ফোন করলে তার শিষ্যরা কথা বলতেন। রান্না-বান্না আর ঘরদোর পরিষ্কারের কাজ তিনি একাই করতেন, কোনো পরিচারক রাখতেন না। রবি শঙ্করের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর প্রায় ৫০ বছর কেউ তার সুরবাহার বাজানো শোনেননি। ওই ৫০ বছরে শুধু একবারই ব্যতিক্রম ঘটে। সত্তরের দশকে নামকরা ব্যান্ড বিটলসের সদস্য জর্জ হ্যারিসন ও বিশ্বখ্যাত বেহালাবাদক ইহুদি মেনুহিন ভারতে গিয়েছিলেন। দেশটির তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী হ্যারিসন ও মেনুহিনকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, তিনি তাদের জন্য কিছু করতে পারেন কি না। জবাবে মেনুহিন প্রায় পূরণ অসম্ভব এক ইচ্ছার কথা ইন্দিরাকে জানান। তিনি বলেন, ‘আমরা অন্নপূর্ণা দেবীর বাজনা শুনতে চাই। আপনি কি তাকে আমাদের জন্য বাজাতে রাজি করাতে পারবেন?’ অনেক চেষ্টার পর শেষ পর্যন্ত অন্নপূর্ণা ওই দুই মিউজিয়ামের সামনে বাজাতে রাজি হন। তবে শর্ত ছিল। তিনি তাদের আয়োজন করে বাজনা শোনাবেন না, তার রেওয়াজের সময় তারা থাকতে পারবেন। পরিবারের এক সদস্য হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ায় মেনুহিনকে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যেতে হয়। হ্যারিসনই সে সময় অন্নপূর্ণা দেবীর বাজনা শোনার দুর্লভ সৌভাগ্যের অধিকারী হন।
সংগীতে হাতেখড়ি
১৯২৭ সালের ১৫ এপ্রিল ব্রিটিশ শাসনামলে বেনারস থেকে ১৬০ মাইল দূরে ভারতের মাইহার রাজ্যে (বর্তমান মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের সাতনা জেলার মাইহার উপজেলা) জন্মগ্রহণ করেন অন্নপূর্ণা দেবী। তার বাবা ওস্তাদ আলাউদ্দিন খান ছিলেন মাইহার রাজ্যের মহারাজা ব্রিজনাথ সিংয়ের রাজদরবারের সংগীতশিল্পী। অন্নপূর্ণা নামটি মহারাজা ব্রিজনাথ সিংয়েরই দেওয়া। ছোটবেলা থেকে বাড়িতে গান-বাজনার পরিবেশের মধ্যে বেড়ে ওঠেন অন্নপূর্ণা। বাবাকে নিয়মিত রেওয়াজ করতে দেখতেন। পাশাপাশি বড় ভাই আলি আকবরকে দেখতেন বাবার কাছ থেকে সংগীতের তালিম নিতে। ত্রিশের দশকে কোনো এক দিন ছোট্ট অন্নপূর্ণা বাড়ির সামনে উঠানে কুতকুত খেলছিলেন। সে সময় বারান্দায় বসে আলি আকবর সরোদ বাজাচ্ছিলেন। হঠাৎ খেলা থামিয়ে অন্নপূর্ণা বলে ওঠেন, ‘ভাইয়া, বাবা ওভাবে না, এভাবে শিখিয়েছিলেন তোমাকে।’ এই বলে আলাউদ্দিন খান যেভাবে ছেলেকে বাজনার সুর শেখান, ঠিক সেই সুরে নিখুঁতভাবে গাইতে শুরু করেন অন্নপূর্ণা। মেয়েকে কিন্তু আলাউদ্দিন খান কখনোই তালিম দেননি। এর কারণ অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা। বড় মেয়েকে অনেক যতেœ গান শিখিয়েছিলেন, তিনি কিন্তু রক্ষণশীল এক মুসলমান পরিবারে সেই মেয়ের বিয়ে দেওয়ার পর অনেক সমস্যা হয়। এ কারণে ছোট মেয়ে অন্নপূর্ণাকে গান শিখিয়ে ফের ভুল করতে রাজি ছিলেন না আলাউদ্দিন। ছোট মেয়েকে গান না শেখালেও সে যে গুন গুন করে নিজের মনে গান গাইত, তা খেয়াল করতেন তিনি। মেয়ের গলায় সুর আছে কি না, তা মেয়েকে জানতে না দিয়ে চুপচাপ লক্ষ করতেন আলাউদ্দিন। এ বিষয়ে অন্নপূর্ণা একবার এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘আমি এমন নিবিষ্ট মনে গান গাইতাম যে বাবা আমার গান শুনছেন, তা টেরই পেতাম না। প্রথম যেবার টের পেলাম, তখন ভয়ে হাত-পা ঠাণ্ডা হয়ে যায়। ভাবলাম, এই বুঝি অনেক বকুনি খাব। বাবা কিন্তু আমাকে বকলেন না। বরং তার কক্ষে ডেকে নিয়ে কয়েকটি প্রশ্ন করেন। আমার উত্তর শুনে তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, সংগীতের বিষয়ে আমি আসলেই আন্তরিক। শুরু হয়ে যায় আমার তালিম।’ মেয়েকে প্রথমে শাস্ত্রীয় সংগীতের তালিম দেন আলাউদ্দিন। পরে তিনি এর পাশাপাশি তাকে সেতার বাজানো শেখান। এক দিন আলাউদ্দিন মেয়ের কাছে জানতে চান, সে সেতার বাদ দিয়ে সুরবাহার বাজানো শিখতে চায় কি না। সুরবাহার আকারে সেতারের চেয়ে একটু বড় এবং বাজানো কঠিন। মেয়েকে আলাউদ্দিন বলেন, ‘আমি আমার গুরুর শিক্ষা তোমাকে শেখাতে চাই কারণ তোমার মধ্যে লোভ জিনিসটি নেই। সুরবাহার শিখতে হলে তোমাকে অসীম ধৈর্যশীল হতে হবে। মনকে স্থির করতে হবে। আমি মনে করি, তুমি আমার গুরুর দানকে যথাযথ সম্মান করবে কারণ তুমি সংগীত ভালোবাসো। অবশ্য এর জন্য তোমাকে সেতার বাজানো ছাড়তে হবে। সংগীতের সমঝদারদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের পছন্দের বাদ্যযন্ত্র সেতার। অন্যদিকে যারা সংগীতের গভীরতা বুঝতে সক্ষম বা সংগীতকে অনুভব করতে পারেন, তারা সুরবাহারকে পছন্দ করেন বেশি। তুমি সুরবাহার বাজালে সাধারণ মানুষ তোমার দিকে টমেটো ছুড়ে মারতে পারে। সেতার বাজাবে নাকি সুরবাহার বাজাবে, এই সিদ্ধান্ত তোমাকেই নিতে হবে।’ বাবার কথা শুনে ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যান অন্নপূর্ণা। তিনি তাকে বলেন, ‘আপনি যা ভালো মনে করেন, আমি তাই করব।’
বিয়ে
ভারতের প্রখ্যাত নৃত্যশিল্পী উদয় শঙ্করের ছোট ভাই ১৮ বছর বয়সী রবীন্দ্র শঙ্কর (১৯৪০ সালে নাম পরিবর্তন করে হন রবি শঙ্কর) শাস্ত্রীয় সংগীতের তালিম নিতে মাইহারে যান। অন্নপূর্ণার বয়স তখন ১৩। তার সম্পর্কে পরে রবি শঙ্কর বলেছিলেন, ‘অন্নপূর্ণা সে সময় দেখতে বেশ সুন্দরী ও স্বভাবে লাজুক ছিল। বিশেষ করে তার চোখ দুটো অনেক মায়াবী ছিল। গায়ের রং আলু ভাইয়ের (আলি আকবর খান) চেয়ে উজ্জ্বল ছিল।’ বিয়ের বিষয়ে অন্নপূর্ণা পরে বলেছিলেন, ‘মাইহারে অনেকটা আশ্রমের মতো পরিবেশে মা-বাবা আমাকে বড় করেন। পণ্ডিতজির প্রেমে পড়ার প্রশ্নই ওঠে না। আমাদের প্রেমের বিয়ে ছিল না। দুই পরিবারের সম্মতিতে এই বিয়ে হয়।’ পণ্ডিত রবি শঙ্করও তার আত্মজীবনী রাগ মালাতে একই কথা বলেন‘অন্নপূর্ণা আর আমার মধ্যে প্রেম-ভালোবাসা বা রোমান্স এসব কোনো কিছুই ছিল না। যদিও সে সময় অনেকে মনে করতেন, বিয়ের আগে তার সঙ্গে আমার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। আমাদের এক হওয়া নিয়ে তিনি কী ভাবছেন, সে সম্পর্কে কোনো ধারণা ছিল না। আমাকে শুধু বলা হয়েছিল, আমার সঙ্গে বিয়েতে তার মত আছে।’ ১৯৪১ সালের ১৫ মে সকালে অন্নপূর্ণা ধর্মান্তরিত হন এবং ওইদিন বিকেলেই হিন্দু ধর্মের রীতি মেনে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর অন্নপূর্ণা ও রবি ভারতের বিভিন্ন শহরে কনসার্টে সংগীত পরিবেশন শুরু করেন। একজন সুরবাহার আর অন্যজন সেতার বাজাতেন। উচ্চাঙ্গসংগীতবোদ্ধা ও সমালোচকরা মনে করেন, রবি শঙ্কর বা আলি আকবরের চেয়ে অন্নপূর্ণা দেবী অনেক বেশি মেধাবী ছিলেন। হিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় সংগীতশিল্পী ওস্তাদ আমির খানের মতে, ‘অন্নপূর্ণা দেবী ওস্তাদ আলাউদ্দিন খানের ৮০ শতাংশ, আলি আকবর খান তার বাবার ৭০ শতাংশ আর রবি শঙ্কর তার শ্বশুরের ৪০ শতাংশ ছিলেন।’ আলি আকবর তার বোন সম্পর্কে বলেছিলেন, ‘দাঁড়িপাল্লায় রবি শঙ্কর, পান্নালাল ঘোষ (বংশীবাদক) ও আমাকে একদিকে আর অন্নপূর্ণাকে আরেক দিকে রাখলে ভারে সে আমাদের ছাড়িয়ে যাবে।’
অতঃপর বিচ্ছেদ
অন্নপূর্ণার দাবি, শ্রোতাদের সামনে সুরবাহার বাজানো শেষে তাদের সাধুবাদ বা উল্লাস ধ্বনিতে রবি শঙ্করের মন খারাপ হতো এবং এ নিয়ে দাম্পত্য জীবনে ঝামেলা শুরু হয়। তিনি বলেন, ‘কনসার্টে সংগীত পরিবেশনের পর শ্রোতারা আমার অনেক প্রশংসা করতেন। স্বাভাবিকভাবেই ভালো লাগত কিন্তু বুঝতে পারতাম, মানুষের প্রতিক্রিয়ায় পণ্ডিতজি খুশি নন।’ অন্নপূর্ণা ও রবির মধ্যে তিক্ততা বাড়তে বাড়তে পরে এমন একপর্যায়ে চলে যায় যে তারা বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন। অবশ্য বিচ্ছেদের বেশ আগেই জনসম্মুখে সংগীত পরিবেশন বন্ধ করে দিয়েছিলেন অন্নপূর্ণা। এ বিষয়ে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘এমনিতে সবার সামনে সংগীত পরিবেশন কখনোই সেভাবে উপভোগ করিনি। সংগীত সাধনাতেই পুরোপুরি মনোনিবেশ করি সে সময়। বিচ্ছেদ ঠেকানোর জন্য বাবা ও শারদা দেবী মায়ের ছবির সামনে প্রতিজ্ঞা করেছিলাম, কখনোই আমি আর কনসার্টে সংগীত পরিবেশন করব না।’ অন্নপূর্ণার এই ত্যাগ অবশ্য রবি শঙ্করের সঙ্গে তার ১৯৬২ সালের বিচ্ছেদ আটকাতে পারেনি। এ বিষয়ে রবি শঙ্করের বক্তব্য ভিন্ন। টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘যত দিন আমরা একসঙ্গে ছিলাম, তত দিন অন্নপূর্ণাকে আমার জোর করা লাগত তিনি যেন আমার সঙ্গে মঞ্চে বাজান। তাকে আমি বিভিন্ন প্রোগ্রামে সংগীত পরিবেশনের সুযোগ করে দিই। এরপর যেটা হলো, তিনি একা মঞ্চে পরিবেশন করতে চাইতেন না, সব সময় আমার পাশে বসে বাজাতে চাইতেন। আমাদের বিচ্ছেদের পর তিনি আর জনসম্মুখে বাজাননি। হয়তো তিনি তখন মানুষের মুখোমুখি হতে চাননি বা নার্ভাস ছিলেন বা অন্য কারণও থাকতে পারে। যেটাই হোক না কেন, নিজের ইচ্ছেতেই তিনি কনসার্টে সংগীত পরিবেশন বন্ধ করেন। এটি বেশ দুঃখজনক কারণ তিনি চমৎকার শিল্পী ছিলেন।’ রবি শঙ্করের শিষ্য ও নবভারত টাইমস পত্রিকার সংগীত সমালোচক মদনলাল ভিয়াস তার গুরুর এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন। তিনি বলেন, ‘কনসার্ট শেষে লোকজন রবি শঙ্করের চেয়ে অন্নপূর্ণা দেবীকে ঘিরে থাকত বেশি। এটা পণ্ডিতজি সহ্য করতে পারতেন না। অন্নপূর্ণা দেবীর মতো বিরল এক প্রতিভার যোগ্য জীবনসঙ্গী ছিলেন না রবি শঙ্কর। এমনকি বাবার (ওস্তাদ আলাউদ্দিন খান) মতো আপসহীন ও মার্জনাহীন গুরু পর্যন্ত অন্নপূর্ণাকে সরস্বতী দেবীর মূর্ত রূপ বলতেন। একজন সংগীতশিল্পীর কাছে এর চেয়ে বড় প্রশংসা আর কী হতে পারে?’
কনসার্টে উপস্থিত থেকে অন্নপূর্ণার বাজনা শুনেছেন, এমন মানুষ এখন খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। অন্নপূর্ণা দেবীর গানের কোনো ক্যাসেট নেই। রেকর্ডিং করার সময়ই তিনি পাননি, তার আগেই ধনুকভাঙা পণ করে বসেন। শুধু একবার তার ও রবি শঙ্করের একটি যুগলবন্দি পরিবেশনা অডিটোরিয়ামের বাইরে রাখা স্পিকার থেকে রেকর্ড করা হয়। বিরল সেই রেকর্ডিং হাতেগোনা কয়েকজনের কাছে ছিল। ক্যাসেট বা সিডির দোকানে অন্নপূর্ণা দেবীর অস্তিত্ব কখনোই ছিল না। যদিও দোকানের তাকে রবি শঙ্করের একাধিক ক্যাসেট বা সিডি সব সময়ই শোভা পেত।
