মা-বাবার কাছ থেকে আরও শেখা উচিত ছিল

আপডেট : ১০ ডিসেম্বর ২০২২, ০১:৩১ এএম

সংগীতশিল্পী, সংগীতপরিচালক ও নির্মাতা রাজা বশির। সম্প্রতি এসেছিলেন দেশ রূপান্তর কার্যালয়ে। সমসাময়িক বিষয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছেন মাসিদ রণ

ব্যস্ততা...

আমি এখন বাংলাদেশ আর অস্ট্রেলিয়া (স্ত্রী-সন্তানদের জন্য) দুই দেশেই থাকি। যেখানেই থাকি না কেন, আমার একটাই পেশা। সেটি হলো গান। দুই দেশেই আমার গানের স্টুডিও রয়েছে। গানের সুর করা, কম্পোজিশন, রেকর্ডিং এবং গানের ভিডিও নির্মাণ সব এক হাতে করি। নিজের মতো করে কাজ করে যাচ্ছি। শুদ্ধ সংগীতচর্চা ও তা মানুষের মাঝে পৌঁছে দেওয়াই আমার লক্ষ্য।

বিখ্যাত বাবা-মায়ের সন্তান...

বাবা-মা (প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী প্রয়াত বশির আহমেদ ও মিনা বশির) বিখ্যাত হলে সন্তানের জন্য একই অঙ্গনে কাজ করা একটু চ্যালেঞ্জিং। প্রথমত, শুরুতেই অনেক বড় দায়িত্ব চলে আসে। কারণ বাবা-মা সারা জীবনের শ্রম দিয়ে আমাদের হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করেছেন। তাদের সেই পরিশ্রম ও ত্যাগের মূল্য দেওয়াটা সন্তান হিসেবে সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। আর দর্শকের পয়েন্ট অব ভিউ থেকে বলব, বাবা-মা যে বেঞ্জ মার্ক তৈরি করেন, সেই মানটা ধরে রাখার জন্য লড়াই করতে হয়। ফলে এখন যদি মানহীন কোনো কাজের প্রস্তাবও পাই, আমি সেটাতে রাজি হতে পারি না। আর ইতিবাচক দিক হলো, পরম্পরা। সেই ছোটবেলা থেকেই একটা আলাদা পরিবেশের মধ্যে বেড়ে ওঠার সুযোগ হয়। আমার ক্ষেত্রে যেমন, বাবা ছোটবেলা থেকে শুধু সংগীতই নয়, ইসলামিক অনুশাসন থেকে শুরু করে আচার ব্যবহারের একটা দীক্ষা দিয়েছেন। বাবা ছিলেন ওস্তাদ বড়ে গোলাম আলী খাঁর শিষ্য, মা ছিলেন রবীন্দ্রভারতী বিশ^বিদ্যালয়ের ছাত্রী। আমি আর আমার বোন (সংগীতশিল্পী হোমায়েরা বশির) খুব সৌভাগ্যবান যে, বাড়িতেই এমন দুজন প্রাজ্ঞ মানুষকে শিক্ষক হিসেবে পেয়েছিলাম। যদিও তখন মনে হতো, বাবা-মা তো পাশেই আছেন। যখন ইচ্ছে শিখে নেব। কিন্তু এখন তারা নেই। মনে হয় তাদের কাছ থেকে আরও অনেক শেখা উচিত ছিল।

নতুন প্রজন্মের সংগীতচর্চা...

আমাদের পরের প্রজন্ম আসলে অনুধাবন করতে পারে না যে, সংগীত হলো গুরুমুখী বিদ্যা। আমাদের প্রজন্মই বোধ হয় শেষ প্রজন্ম, যারা দেখেছি একটি গান তৈরির সময় গীতিকার, সুরকার, মিউজিশিয়ান এবং শিল্পী একসঙ্গে বসে নিজেদের মেধার সম্মিলন ঘটাচ্ছেন। কী একটা পরিবেশ তৈরি হতো সেখানে। পিন ড্রপ সাইলেন্স। আমি বাবার সহকারী হিসেবে কাজ করতাম। দেখা যাচ্ছে পিয়ানোতে একটা এক্সট্রা চাপ পড়ে গেল, অমনি বাবা ধমক দিতেন। এতটা গানের মধ্যে ডুবে থাকতেন তারা। আর এখন দেখা যায়, নতুন গান করতে বসে ফেইসবুকিং চলছে, ইউটিউবে আরেকটা গান চলছে ইত্যাদি।

ছবি : আবুল কালাম আজাদ

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত