ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে ককটেল হামলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির নেতারা ও পুলিশ। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি। অন্যদিকে পটুয়াখালীর দুমকিতে মোটরসাইকেল আরোহী উপজেলা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদকের ওপর ককটেল হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে তার সঙ্গে থাকা এক নেতা আহত হন বলে জানিয়েছেন ছাত্রলীগ নেতারা। দুটি ঘটনাই ঘটেছে গত বৃহস্পতিবার রাতে। তবে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের দাবি, পুলিশসহ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ককটেল হামলার নাটক সাজিয়ে তাদের ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।
এদিকে ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে একই দিন রাতে ধারালো অস্ত্র নিয়ে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের বের করা মিছিল থেকে কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। বিস্তারিত প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে
ঝিনাইদহে জেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় লক্ষ্য করে চারটি ককটেল ছোড়া হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। সেখান থেকে উদ্ধার করা হয় অবিস্ফোরিত পাঁচটি ককটেল। গত বৃহস্পতিবার রাত দেড়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
সদর থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ সোহেল রানা জানান, রাত দেড়টার দিকে হঠাৎ চারটি ককটেল বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। পরে সদর থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের পেছন থেকে পাঁচটি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করে।
দলীয় কার্যালয়ে ককটেল হামলার প্রতিবাদে গতকাল শুক্রবার সকালে জেলা আওয়ামী লীগ বিক্ষোভ মিছিল বের করে। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুল করিম মিন্টু বলেন, ‘ঢাকায় বিএনপির সমাবেশকে কেন্দ্র করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে বিএনপি ককটেল হামলা চালিয়েছে বলে আমরা ধারণা করছি।’
তবে জেলা বিএনপির সভাপতি এমএ মজিদ বলেন, ‘বিএনপির এ ধরনের ঘটনা ঘটানোর প্রশ্নই ওঠে না। আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছি। ঢাকায় সমাবেশের কারণে জেলার সব নেতাকর্মী ঢাকায় অবস্থান করছে। পুলিশসহ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ককটেল হামলার নাটক সাজিয়ে আমাদের ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করছে।’
দুমকিতে ককটেল বিস্ফোরণে মামলা, বিএনপি বলছে নাটক : পটুয়াখালীর দুমকিতে উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সবুজ সিকদারের ওপর বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলা সদরের বটতলা এলাকায় ককটেল হামলা হয় বলে জানিয়েছেন তিনি নিজেই। এ সময় তার সঙ্গে মোটরসাইকেলে থাকা উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. প্রিন্স আহত হন বলে জানিয়েছেন সবুজ। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে কয়েকটি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করে। এ ঘটনায় সবুজ সিকদার বাদী হয়ে উপজেলা বিএনপির অজ্ঞাতপরিচয় ৪০-৫০ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন।
তবে উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. খলিলুর রহমান বলেন, ‘আমাদের নেতাকর্মীরা প্রায় সবাই ঢাকায় অবস্থান করছেন। ঠিক এই সময়ে ককটেল হামলা একটি অবিশ্বাস্য ঘটনা। বিএনপি নেতাকর্মীদের হয়রানির উদ্দেশ্যে এটি নিঃসন্দেহে আওয়ামী লীগের পরিকল্পিত ও সাজানো নাটক।’
গফরগাঁওয়ে বিএনপির বিরুদ্ধে নাশকতাচেষ্টার অভিযোগ : ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের পাগলা থানা এলাকায় বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে মিছিল বের করে বলে জানিয়েছে পুলিশ। টাঙ্গাব ইউনিয়নের টাঙ্গাব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের রাস্তায় মিছিলটি বের করা হয়। পাগলা থানার ওসি রাশেদুজ্জামান বলেন, ‘বিএনপি ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা নাশকতার উদ্দেশ্যে বিক্ষোভ মিছিল বের করলে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় তারা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যায়। বিক্ষোভকারীদের ফেলে যাওয়া ৭টি ককটেল ও দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় দুজনকে আটক করা হয়েছে।’
প্রতিবেদনটি তৈরিতে তথ্য দিয়েছেন জেলা, উপজেলার প্রতিনিধি ও সংবাদদাতারা
