বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। গত বৃহস্পতিবার রাত ৩টার দিকে ফখরুলকে তার উত্তরার বাসা থেকে এবং রাত সোয়া ৩টার দিকে মির্জা আব্বাসকে তার শাহজাহানপুরের বাসা থেকে গোয়েন্দা পুলিশ তুলে নিয়ে যায়। পরে তাদের বিস্ফোরক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে গতকাল শুক্রবার আদালতে পাঠায় পুলিশ। পরে ঢাকা মহানগর হাকিম মোহাম্মদ জসীমের আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।
গতকাল দুপুর আড়াইটার দিকে রাজধানীর মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ের সামনে সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল ও মির্জা আব্বাসকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন ডিবিপ্রধান অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ। রাজধানীর পল্টন থানায় বিস্ফোরক আইনে করা মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে ডিবিপ্রধান বলেন, ‘বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গত ৮ ডিসেম্বর পল্টন থানায় করা বিস্ফোরক আইনের মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।’
তাদের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ রয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পুলিশের ওপর বর্বরোচিত হামলা হয়েছে, ককটেল নিক্ষেপ করেছে, জনমালের ক্ষতি হয়েছে। এসব অপরাধের উসকানিদাতা ও পরিকল্পনাকারী হিসেবে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আর কোনো কেন্দ্রীয় নেতা নজরদারিতে রয়েছেন কি না জানতে চাইলে হারুন অর রশিদ বলেন, আমরা সবকিছু খেয়াল রাখছি। কেউ যদি আরও এরকম কোনো অপরাধ করে তাদের ওপর আমাদের নজরদারি থাকবে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, গোলাপবাগ মাঠে বিএনপির সমাবেশ চলাকালে আগের শর্তই থাকবে। আমাদের পর্যাপ্তসংখ্যক পুলিশ সেখানে রয়েছে। সাদা পোশাকে অনেক পুলিশ সেখানে কাজ করবে। সোহরাওয়ার্দী ঘিরে যে ধরনের নিরাপত্তা বলয় আমরা তৈরি করেছিলাম সেই নিরাপত্তা এখন গোলাপবাগ মাঠে দেব। আমাদের টিম অলরেডি কাজ করছে। এ সমাবেশকে কেন্দ্র করে কোথাও যেন কোনো অরাজকতা সৃষ্টি না হয়, সেই লক্ষ্যে পুলিশ কাজ করছে।
ফখরুল-আব্বাস কারাগারে : রাজধানীর পল্টন থানায় বিস্ফোরকদ্রব্য মামলায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির পুলিশ পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম দুজনকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।
মির্জা ফখরুল ও মির্জা আব্বাসের পক্ষে জামিন চেয়ে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন, মাসুদ আহমেদ তালুকদার ও ওমর ফারুক ফারুকীসহ শতাধিক আইনজীবী ফোরামের নেতা। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে জামিনের বিরোধিতা করেন ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর আবদুল্লাহ আবু, ঢাকা জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর হেমায়েত হোসেন, বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর আজাদ রহমানসহ শতাধিক সরকারি আইন কর্মকর্তা।
উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে দিয়ে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশসহ কারাবিধি অনুযায়ী ডিভিশন ও চিকিৎসাসেবা আদেশ দেয়।
গত ৭ ডিসেম্বর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়। এতে একজন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। আহত হন অনেকে। পরে বিএনপি কার্যালয়ে অভিযান চালানো হলে ১৬০ বস্তা চাল, পানি, খিচুড়ি ও নগদ টাকাসহ বিস্ফোরকদ্রব্য উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় পল্টন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলায় ৪৭৩ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা দেড় থেকে দুই হাজার বিএনপির নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়।
বিকেল সোয়া ৪টার দিকে মির্জা ফখরুল ও মির্জা আব্বাসকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় তাদের সিএমএম আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়।
এদিকে মির্জা ফখরুলের স্ত্রী রাহাত আরা বেগম ও তার মেয়ে মির্জা সাফারুহ সুমি এবং মির্জা আব্বাসের স্ত্রী আফরোজা আব্বাসও আসেন আদালতে।
